কথা রাখল না রাশিয়া, চড়া দামে LNG কিনল ভারত

প্রায় সাত মাস ধরে চলছে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ। দুই দেশের এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ব্যাপক প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে বিশ্ববাজারে।

কথা রাখল না রাশিয়া, চড়া দামে LNG কিনল ভারত

ট্রাইব টিভি ডিজিটাল: প্রায় সাত মাস ধরে চলছে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ। দুই দেশের এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ব্যাপক প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে বিশ্ববাজারে। ইউক্রেনের প্রতিরোধে ক্রমশ পিছু হঠছে রাশিয়া। যদিও 'ভাঙব তবু মচকাবো না' নীতিতে অনড় পুতিন সরকার। যদিও রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার কাছ থেকে ডিসকাউন্ট মূল্যে তেল কেনার পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছে ভারত। পশ্চিমারা রাশিয়ার ওপর কঠের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও অব্যাহত রয়েছে ভারত সরকারের তেল কেনা। 

সম্প্রতি সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা গিয়েছে, জ্বালানি তেলের পাশাপাশি চলতি বছরের অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাসের মধ্যে ভারতকে আরও গ্যাস সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল রুশ সরকার। কিন্তু দিন যত এগিয়েছে নিজেদের প্রতিশ্রুতি থেকে ক্রমশ সরে দাঁড়াতে শুরু করে রাশিয়া। এই অবস্থায় এবার জ্বালানি সংকটের ধাক্কা সামাল দিতে দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাস বিতরক কোম্পানি গেইল ইন্ডিয়া (জিএআইএল ইন্ডিয়া) চড়া দামে প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কিনেছে।

জানা গিয়েছে, গত সপ্তাহে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট ৪০ ডলারের বেশি দাম দিয়ে তিনটি এলএনজি কার্গো কিনেছে গেইল ইন্ডিয়া। ভারতে এলএনজি ক্রয়ে এটিই সর্বোচ্চ রেকর্ড দাম। গত বছরেও এর অর্ধেকের কম দামে এলএনজি কিনেছিল ভারত। জ্বালানি সংকটের এই মুহূর্তে ইউরোপের সঙ্গে বাকি বিশ্বের প্রতিযোগিতায় প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম পৌঁছে গিয়েছে সর্বোচ্চ পর্যায়ে।

 এদিকে ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে সস্তায় রুশ জ্বালানির অন্যতম ক্রেতা হয়ে উঠেছে ভারত। তবে কিছুদিন আগে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি সংস্থা গ্যাজপ্রমের একটি স্থানীয় শাখা জার্মানির নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে। যারফলে গ্যাস সরবরাহে ভারতকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ হচ্ছে না। 

শুধু তাই নয়, আসন্ন শীতকে সামনে রেখে ইউরোপে সরাসরি গ্যাস সরবরাহ করা হবে জার্মানির নিয়ন্ত্রণে থাকা ওই গ্যাস প্ল্যান্ট থেকে। গেইল ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান মনোজ জৈন জানান, গত মাসে গ্যাজপ্রমের ওই শাখার সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করেছিল গেইল, কিন্তু এখনও কোনও নতুন চুক্তির ঘোষণা করা হয়নি। তিনি আরও জানান, এটি ভারতের মোট গ্যাস সরবরাহের মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশকে প্রভাবিত করেছে। শুধু তাই নয়,  ভারত গ্যাস সরবরাহের বিপত্তি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে গেইল ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ।