ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: সুপ্রিম কোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে দেশের (SSC Recruitment Case) শীর্ষ আদালত SSC-র ২০১৬ সালের নিয়োগ প্যানেল বাতিল করে দিয়েছে। এই রায়ের ফলে ২৫,৭৫৩ জন চাকরির প্রার্থী চাকরি হারালেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন।
বিচারপতির নির্দেশ (SSC Recruitment Case)
প্রধান বিচারপতি বলেছেন, “যাঁরা অন্য সরকারি দফতর থেকে এসেছিলেন, তাঁরা পুরানো অবস্থানে ফিরে যেতে পারবেন। এই প্রক্রিয়া আগামী তিন মাসের মধ্যে সম্পন্ন (SSC Recruitment Case) করতে হবে।” এই নির্দেশের ফলে চাকরি প্রাপ্ত ২০১৬ সালের প্রার্থীদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েছেন এবং তাঁদের বক্তব্য, “১০ বছর আগে পরীক্ষা দিয়েছিলাম, কীভাবে জানব যে সে সময় দুর্নীতি হয়েছে। দুর্নীতির জন্য আমরা দায়ী, অথচ অপরাধীরা পালিয়ে গেছে।”
আশাহত প্রার্থীরা
অন্য এক প্রার্থীর অভিযোগ, “যোগ্যদের নিয়োগ নিয়ে এমন দুর্নীতি এক অনন্য ঘটনা। কিন্তু আমাদের ভবিষ্যৎ কী হবে? আমাদের সংসার চালাতে হবে, বাচ্চা আছে, বৃদ্ধ মা-বাবা আছে। এই পরিস্থিতিতে আমরা কীভাবে টিকে থাকব?” গত বছরের ২২ এপ্রিল কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শব্বর রশিদির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার এবং SSC সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বিভিন্ন প্রশ্নের মাধ্যমে রাজ্য সরকারের অবস্থানকে যাচাই করেছেন।
আরও পড়ুন: UPI Down: করা যাচ্ছে না পেমেন্ট, সারা দেশে ডাউন UPI!

দুর্নীতির মাশুল!
রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিরা আদালতে জানান, “বৈধ ও অবৈধ চাকরি প্রাপকদের আলাদা করা সম্ভব।” তবে, আদালতের সামনে তাদের এই দাবি কতটা যথার্থ, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি। এখন পরিস্থিতি এমন যে, চাকরি হারানো প্রার্থীরা শোকাহত। তাঁরা মনে করেন, দুর্নীতির মাশুল তাদের মতো যোগ্যদের দিতে হচ্ছে, যা এক দুঃখজনক পরিস্থিতি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য, কিন্তু নিরীহ ও যোগ্য প্রার্থীদের এই ভাবে ভুগতে হবে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক।