Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর মদতে পঞ্জাব এবং অন্যান্য সীমান্তবর্তী রাজ্যে জঙ্গি কার্যকলাপ বৃদ্ধির অভিযোগে এক নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে (Punjab Terror Module)। পঞ্জাব পুলিশ সম্প্রতি একটি বড় জঙ্গি চক্রের সন্ধান পেয়েছে, যা বিকেআই (বব্বর খালসা ইন্টারন্যাশনাল) নামক নিষিদ্ধ সংগঠনের সাথে যুক্ত। পুলিশ দাবি করেছে, পাকিস্তানি জঙ্গি হরজিন্দর সিংহ রিন্ডা এই চক্রের মূল মাথা এবং আইএসআই-এর মাধ্যমে জঙ্গিদের অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহ করা হচ্ছিল।
আইএসআই-এর মদত (Punjab Terror Module)
পঞ্জাব পুলিশের ডিজি গৌরব যাদব জানিয়েছেন, পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই বিকেআই-কে ব্যবহার করে রাজ্যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করছে (Punjab Terror Module)। তদন্তের মধ্যে পুলিশ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে, যার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে, এই জঙ্গি কার্যকলাপে আইএসআই সরাসরি মদত জুগিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হরজিন্দর সিংহ রিন্ডা এবং তার সহযোগী মণীন্দ্র বিল্লা ও মনু আগওয়ান কে এই কার্যকলাপের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।এছাড়াও, আইএসআই জঙ্গিদের হাত দিয়ে অমৃতসরের গ্রেনেড হামলার জন্য বিকেআই-কে দায়িত্ব দিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এই হামলার পেছনে পাকিস্তানি গুপ্তচরের হাত রয়েছে বলে পুলিশ তদন্তে প্রমাণ পেয়েছে।
গ্রেফতার ও অস্ত্র উদ্ধার (Punjab Terror Module)
পঞ্জাব পুলিশের অভিযান চলাকালীন, মোট ছ’জন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছে যতীন কুমার (রোহন), বারীন্দ্র সিংহ (সজন), রাহুল মসীহ, আব্রাহাম (রোহিত), সোহিত এবং সুনীল কুমার নামে আরও দুই সন্দেহভাজন (Punjab Terror Module)। পুলিশের দাবি, তাদের কাছ থেকে প্রচুর অগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ এবং বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ মনে করছে, এই অস্ত্র ও বিস্ফোরকগুলি নাশকতা চালানোর উদ্দেশ্যে মজুত করা হয়েছিল, তবে তারা তার আগেই এই পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে সক্ষম হয়েছে।এর আগেও অমৃতসরে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছিল, যেখানে বেশ কয়েকজন মাদক পাচারকারী অস্ত্রসহ ধরা পড়েছিল। পুলিশের মতে, এই পাচারকারীদের মাধ্যমেই পাকিস্তান থেকে অস্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছিল।

হরিয়ানার ইউটিউবারের গ্রেফতার (Punjab Terror Module)
পঞ্জাবের পাশাপাশি, হরিয়ানা থেকেও চরবৃত্তির অভিযোগে একটি নতুন গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে (Punjab Terror Module)। হরিয়ানার ইউটিউবার জ্যোতি মলহোত্রা-কে পাকিস্তানী গুপ্তচর সংস্থার হয়ে কাজ করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। ৩ রাজ্যে পাকিস্তানের হয়ে চরবৃত্তির অভিযোগে মোট ১২ জন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই তালিকায় নেটপ্রভাবী, পড়ুয়া, ব্যবসায়ী এবং নিরাপত্তারক্ষী-সহ বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছেন।
নেটপ্রভাবী ও নিরাপত্তারক্ষীদের ভূমিকা (Punjab Terror Module)
নেটপ্রভাবী এবং নিরাপত্তারক্ষী-দের গ্রেফতার হওয়ার ঘটনা প্রশ্ন তুলে দিয়েছে যে, বিভিন্ন পেশার মানুষ পাকিস্তানের পক্ষে কাজ করছে কি না (Punjab Terror Module)। এমনকি, নিরাপত্তারক্ষী-দের মধ্যে কেউ কেউ পাকিস্তানি সংস্থার হয়ে তথ্য পাচার এবং ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল। এটি ভারতীয় নিরাপত্তাব্যবস্থার জন্য বড় একটি বিপদ।

চরবৃত্তির বিস্তার (Punjab Terror Module)
এই নতুন ঘটনায় পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর ভারতীয় ভূখণ্ডে বিস্তার ও কার্যক্রম নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে নজর কাড়ছে (Punjab Terror Module)। পাকিস্তান ভারতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের জন্য দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করেছে। এই ধরনের নতুন চক্রগুলির মাধ্যমে সীমান্তের ওপারের থেকে ভারতে নাশকতা চালানোর চেষ্টা চলছে।পঞ্জাব পুলিশ এই চক্রটির খোঁজ পাওয়ার পর, একদিকে যেমন গুরুত্বপূর্ণ আইএসআই-সংক্রান্ত তথ্য পেয়েছে, তেমনি অন্যদিকে নাশকতা প্রতিরোধে এক বড় সফলতা অর্জন করেছে। তবে, এই ধরনের জঙ্গি চক্রগুলি শুধু পঞ্জাবই নয়, সমগ্র ভারতের নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা (NIA India) ও পুলিশ বাহিনীকে এই ধরনের চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাকিস্তান থেকে এই ধরনের কার্যকলাপ বন্ধ না করলে, ভবিষ্যতে ভারতের অভ্যন্তরে বড় ধরনের নিরাপত্তা বিপর্যয় ঘটতে পারে।