Last Updated on [modified_date_only] by Anustup Roy Barman
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: “আমি এবং উদ্ধব ২০ বছর পর একসঙ্গে আসছি.. বালাসাহেব ঠাকরে যা করতে পারেননি তা দেবেন্দ্র ফড়নবিশ করতে পেরেছেন,” রাজ ঠাকরে বলেন (Raj-Uddhav Joint Rally)।
২০ বছর পর এক মঞ্চে দুই ঠাকরে ভাই, ফড়নবিশকে প্রশংসা করে কটাক্ষ (Raj-Uddhav Joint Rally)
মুম্বাইয়ের ওরলিতে এক বিশাল জনসভায় ২০ বছর পর একসঙ্গে এলেন রাজ ঠাকরে এবং উদ্ধব ঠাকরে (Raj-Uddhav Joint Rally)। সভামঞ্চ থেকেই মহারাষ্ট্রের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশকে কটাক্ষ করে একপ্রকার প্রশংসাও করলেন রাজ। মারাঠিতে দেওয়া বক্তব্যে রাজ ঠাকরে বলেন, “উদ্ধব আর আমি ২০ বছর পর একসঙ্গে এসেছি… যা বালাসাহেব ঠাকরে পারেননি, যা হাজার হাজার মানুষও পারেননি, সেটাই করে দেখিয়েছেন দেবেন্দ্র ফড়নবিশ।”
ঠাকরে পরিবারে ভাঙনের স্মৃতি (Raj-Uddhav Joint Rally)
বাল ঠাকরের জীবদ্দশাতেই উদ্ধব ও রাজের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে (Raj-Uddhav Joint Rally)। কারণ, বালাসাহেব তাঁর রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে পুত্র উদ্ধবকে বেছে নিয়েছিলেন, রাজকে নয়। সেই ফাটল দুই দশক স্থায়ী ছিল।
‘মারাঠি গর্ব’ নিয়ে ফিরল ঠাকরে জোট
রাজ ও উদ্ধবের এই পুনর্মিলনের প্রেক্ষাপট ‘মারাঠি গর্ব’—যা এক সময় বাল ঠাকরের রাজনীতির প্রধান অস্ত্র ছিল। এর পেছনে আরও একটি তাৎক্ষণিক কারণ রয়েছে—রাজ্যে হিন্দির চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা নিয়ে উদ্ভূত বিতর্ক এবং কিছু হুলিগানদের দৌরাত্ম্য। রাজ বলেন, “শিশুদের উপর হিন্দি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে কেন?” ইঙ্গিত ছিল বিজেপি-নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের স্কুলে তৃতীয় ভাষা হিসেবে হিন্দি চালুর সিদ্ধান্তের দিকে, যা পরে সরকার প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়।
আরও পড়ুন: Superstar Vijay: তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর মুখ হিসেবে লড়ছেন দক্ষিণী সুপারস্টার
“ন্যায় চাইলে গুণ্ডাগিরি করব”—উদ্ধবের হুঁশিয়ারি
রাজের বক্তৃতার পর উদ্ধব ঠাকরে বলেন, “ভাষার প্রশ্নে রাজ, আমি ও এখানে উপস্থিত প্রত্যেকে ঐক্যবদ্ধ।” তাঁর জোরালো বার্তা ছিল, “হ্যাঁ, আমরা গুণ্ডা। যদি ন্যায় পাওয়ার জন্য গুণ্ডাগিরি করতে হয়, তাহলে করব।” এই মন্তব্য রাজ ও উদ্ধবের সমর্থকদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ—যেখানে কিছু হকারকে মারধর করা হয়েছে বা মারাঠি না বলায় হুমকি দেওয়া হয়েছে—সেই প্রসঙ্গে ছিল।
“আপনাদের ক্ষমতা বিধানসভায়, আমাদের রাস্তায়”—রাজ
রাজ ঠাকরে বলেন, “আপনাদের ক্ষমতা বিধানসভায়। কিন্তু আমাদের শক্তি রাস্তায়।” তাঁর দাবি, সরকার হিন্দি চাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল জনমতের তোয়াক্কা না করেই। শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা না করেই সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, “হিন্দিভাষী রাজ্যগুলি অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে। সেখান থেকে মানুষ অন্য রাজ্যে আসছেন জীবিকা খুঁজতে। হিন্দি থাকলেও তারা উন্নতি করতে পারেনি।”
মুম্বই বিচ্ছিন্ন করার আশঙ্কা
তৃতীয় ভাষা হিসাবে হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টাকে রাজ ঠাকরে আরও বড় ষড়যন্ত্রের অংশ বলেই মনে করছেন। তিনি বলেন, “ওরা শুধু জল মাপছিল। যদি সবাই চুপচাপ মেনে নিত, তাহলে পরবর্তী পদক্ষেপ হতো মুম্বইকে মহারাষ্ট্র থেকে আলাদা করার চেষ্টা।”
“রাজনীতি নয়, মহারাষ্ট্রের সম্মানের জন্য”—শিবসেনা নেতা
এই সভা ও দুই ঠাকরের পুনর্মিলন নিয়ে শিবসেনা (উদ্ভব বালাসাহেব ঠাকরে) নেতা আনন্দ দুবে বলেন, “অনেক বছর পর এই সোনালী সময় এসেছে। আজ দুই ঠাকরে, যাঁরা নিজের নিজের জায়গায় বড় নাম, একসঙ্গে এসেছেন রাজনীতির জন্য নয়, মহারাষ্ট্রের সম্মানের জন্য।”