Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে এক নতুন বাঁক দেখা গেল মঙ্গলবার রাতে। রাশিয়া এককথায় ‘ড্রোন-ঝড়’ নামিয়ে দিয়েছে ইউক্রেনে(Russia Ukraine War)! কেবলমাত্র মঙ্গলবার রাতেই ইউক্রেনের রাজধানী কিভ-সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ৭২৮টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে রুশ সেনা— যা এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর একদিনে সর্বোচ্চ। সেই মুহূর্তেই প্রশ্ন উঠেছে— এই নজিরবিহীন হামলা কি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া?
ইউক্রেনের পাল্টা প্রতিরক্ষা (Russia Ukraine War)
রুশ হামলার বিরুদ্ধে দ্রুত পাল্টা প্রতিরক্ষা গড়ে তোলে ইউক্রেনের সেনা(Russia Ukraine War)। কিভ প্রশাসনের দাবি, “আমাদের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সিংহভাগ ড্রোন মাঝ আকাশেই ধ্বংস করেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির নির্দিষ্ট পরিমাণ এখনও জানা যায়নি।” কয়েকটি ড্রোন বিস্ফোরণে কিভের কিছু আবাসিক এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
ফের ইউক্রেনকে অস্ত্র সহায়তা (Russia Ukraine War)
মাত্র এক দিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন— “আমরা ইউক্রেনকে ১০টি ‘প্যাট্রিয়ট’ ক্ষেপণাস্ত্র পাঠাচ্ছি। ওদের আত্মরক্ষা করতেই হবে(Russia Ukraine War)।”
এর আগেও তিনি বলেছিলেন, “আমরা ইউক্রেনকে সাহায্য করছি না এমন নয়। কিন্তু সবকিছুর একটা সীমা আছে।” কিন্তু যুদ্ধের হাল দেখে ফের কড়া বার্তা দিতে বাধ্য হয়েছেন ট্রাম্প। বিশেষ করে রাশিয়ার সাম্প্রতিক আগ্রাসন, ইউক্রেনের শহরে বোমাবর্ষণ, ও আমেরিকার ভূরাজনৈতিক প্রভাব খর্ব করার চেষ্টা তাঁকে নড়ে বসিয়েছে।

আরও পড়ুন: Germany China Conflict : লোহিত সাগরে উত্তেজনা বাড়াল চিন! জার্মান সেনা বিমানে লেজার হানার অভিযোগ
নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি ও কূটনৈতিক চাপ (Russia Ukraine War)
ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, “রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আনা হতে পারে(Russia Ukraine War)। এমনকি, যেসব দেশ রাশিয়ার কাছ থেকে তেল, গ্যাস বা ইউরেনিয়াম কেনে, তাদের উপরে শুল্ক চাপানো হতে পারে।” এই মন্তব্য স্পষ্টতই চিন, ভারত, ইরান এবং মধ্য এশিয়ার কিছু দেশকে ঘিরে। এর আগেও ইউক্রেন অভিযোগ করেছে যে রাশিয়া বিশ্ববাজারে কাঁচামাল রফতানি করে যুদ্ধের খরচ চালিয়ে যাচ্ছে।
সন্ধির ইঙ্গিত, কিন্তু শর্তসাপেক্ষে (Russia Ukraine War)
রাশিয়ার তরফেও মঙ্গলবার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা এসেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, “আমরা চাই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হোক(Russia Ukraine War)। তবে ট্রাম্প (Donald J. Trump) বুঝতে পারছেন যে এই সংঘাত তাঁর কল্পনার থেকেও বেশি জটিল।”এই মন্তব্যের মাধ্যমে রাশিয়া যেন আবারও দেখাতে চেয়েছে যে ইউক্রেন যুদ্ধ কোনও একপাক্ষিক ব্যাপার নয়, এবং মস্কোর অবস্থানকে ‘বৈধতা’ দেওয়ার দাবি করছে তারা।

আরও পড়ুন: Russia Ukraine War : ইউক্রেনকে আবার সামরিক সহায়তা দেবে আমেরিকা, অবস্থান বদল ট্রাম্প প্রশাসনের !
কী বার্তা দিল এই ড্রোন আক্রমণ? (Russia Ukraine War)
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার এই ড্রোন আক্রমণ মোটেই কেবল সামরিক স্তরে সীমাবদ্ধ নয়। এটি এক স্পষ্ট কূটনৈতিক বার্তা— আমেরিকার কঠোর অবস্থানের জবাবেই এই সামরিক ঝড়। এতে বোঝা যাচ্ছে, ইউক্রেন যুদ্ধ কেবল ইউরোপের সীমান্তে আটকে নেই, বরং এক প্রক্সি ওয়ার বা প্রভাব বিস্তারের লড়াই হয়ে উঠেছে, যেখানে আমেরিকা বনাম রাশিয়ার দড়ি টানাটানি তুঙ্গে।
ভারতের জন্যও বার্তা? (Russia Ukraine War)
এই পরিস্থিতিতে ভারতের ভূমিকা নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে। ভারত যেমন রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও ইউরেনিয়াম আমদানি চালিয়ে যাচ্ছে, তেমনই আবার আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি ও কৌশলগত সম্পর্কও জোরদার করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক হুমকির মুখে ভারতও অনেকটাই চাপে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইউক্রেনপন্থী বার্তার পর ৭০০-রও বেশি ড্রোন হামলা যে কেবল প্রতিক্রিয়া নয়, তা এক প্রক্সি বার্তা— সেটি এখন স্পষ্ট। এই মুহূর্তে ইউক্রেনের শহরগুলো বাঁচিয়ে রাখার লড়াই যেমন চলছে, তেমনই চলছে পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে ভূকৌশলগত ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার লড়াইও।পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে আমেরিকার? আর কতটা এগোতে চাইছে রাশিয়া?
বিশ্বজোড়া উদ্বেগের মধ্যেই যুদ্ধের ঘনঘটা আরও বাড়ছে।