Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইডলি শুনলেই মনের মধ্যে (Idli History) ভেসে ওঠে ধোঁয়া ওঠা নরম তুলতুলে ভাপা গোলাকার একটি খাবার, যার সঙ্গে থাকে নারকেলের চাটনি আর সাম্বার। দক্ষিণ ভারতীয় এই খাবার আজ সারাদেশে জনপ্রিয় হলেও, এর ইতিহাস নিয়ে রয়েছে নানা বিতর্ক। অনেকেই ভাবেন ইডলি খাঁটি ভারতীয়, আবার কেউ কেউ বলেন এর শিকড় কোথাও বিদেশে। তাহলে সত্যি কী?
ইতিহাসের পাতায় ইডলির খোঁজ (Idli History)
ইডলির প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় প্রাচীন কন্নড় (Idli History) সাহিত্যে। ৯২০ খ্রিস্টাব্দে রচিত “বনভাসি মধুকোষ” নামে একটি কন্নড় রন্ধন বইয়ে “ইড্ডালিগে” নামের একটি পদ দেখা যায়, যা চাল ও ডালের ফার্মেন্ট করা মিশ্রণ থেকে তৈরি হতো। তবে একে আধুনিক ইডলির সঙ্গে পুরোপুরি মেলানো যায় না। কারণ সেই সময় ইডলি ভাপ দিয়ে তৈরি হতো না, বরং তা ভাজা বা সেদ্ধ করা হতো।
বিদেশি সংযোগ (Idli History)
কিছু ইতিহাসবিদ মনে করেন ইডলির উৎপত্তি দক্ষিণ ভারতের বাইরে। তাঁদের মতে, ৮ম থেকে ১২শ শতকের মধ্যে ভারতীয় হিন্দু রাজপরিবারের একাংশ ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক গড়েছিল। সেই সময় অনেক ভারতীয় রাঁধুনি ও সৈন্য জাভা দ্বীপে গিয়েছিলেন, যেখানে ফার্মেন্টেশন করে রান্নার পদ্ধতি ছিল প্রচলিত। ধারণা করা হয়, ইডলির বর্তমান ফার্মেন্ট করা রেসিপিটি হয়তো সেখান থেকেই এসেছে।
আরও পড়ুন: PAN Number: প্যানেই সব মিউচুয়াল ফান্ড? জেনে নিন কীভাবে ট্র্যাক করবেন?
ইডলির বিবর্তন
আজকের দিনে ইডলিকে শুধু দক্ষিণেই সীমাবদ্ধ রাখা যায় না। মুম্বই, কলকাতা, দিল্লি বা এমনকি বিদেশেও এটি জনপ্রিয়। ইডলির নানা রকমের রূপ এখন পাওয়া যায়, রাগি ইডলি, রাভা ইডলি, বেকড ইডলি, বা পনির ইডলি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি শুধু প্রাতঃরাশের সীমায় আটকে নেই, বরং স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে ডায়েট চার্টেও।

ইডলি কেন এত জনপ্রিয়?
ইডলি শুধু স্বাদের জন্য নয়, তার সহজ পাচ্যতা, কম ক্যালোরির জন্যও পুষ্টিকর বলে বিবেচিত। ডায়াবেটিক বা শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সের মানুষের জন্য উপযোগী। আর যেহেতু রান্নার জন্য একবিন্দু তেল লাগে না, তাই এটি আরও স্বাস্থ্যসম্মত।