Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এসএসসি ২০১৬ ২৬ হাজারের চাকরি বাতিল হয় (SSC 2016)। এরপর স্কুল সার্ভিস কমিশন কে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেয় দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এবং এই বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশও দেয় সুপ্রিম কোর্ট। সেই নির্দেশ মেনে গত ৩০ মে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করে শিক্ষা দফতর। তারপরই সেই বিজ্ঞপ্তিকে অবৈধ দাবী করে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয় মামলা।
মামলাকারীদের কী অভিযোগ ? (SSC 2016)
মামলাকারীদের অভিযোগ, নতুন এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ উলঙ্ঘন করা হয়েছে(SSC 2016)। নম্বর বিভাজন থেকে শুরু করে বয়স সীমা ছাড়ের বিষয়ে একাধিক পরিবর্তন করা হয়েছে। যা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরিপন্থী। মামলা কারীরা দাবি করেন ২০১৬ সালের বিজ্ঞপ্তি মেনেই এই নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া করতে হবে। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্যের সিঙ্গল বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চ নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পরিবর্তন করার নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় রাজ্য এবং স্কুল সার্ভিস কমিশন।
সৌমেন সেনের ডিভিশন বেঞ্চে চূড়ান্ত শুনানি(SSC 2016)
সোমবার বিচারপতি সৌমেন সেনের ডিভিশন বেঞ্চে সেই মামলার চূড়ান্ত শুনানি হয়(SSC 2016)। শুনানিতে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত সওয়াল করেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বলা হয়েছে, পুরনো নিয়োগ বাতিল করে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট এবং হাইকোর্ট নির্দেশে কোথাও বলেনি যে ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়াই নতুন করে করতে হবে। তারা শুধুমাত্র শূন্যপদ পূরণের নির্দেশ দিয়েছে। এজি আরও বলেন, ‘আমাদের হাতে এই মুহূর্তে তিনটে নিয়োগ বিধি রয়েছে। ২০১৬ সালের পর ২০১৯ সালের নিয়োগ বিধি তৈরি হয়েছে।
নিয়োগ বিধিকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে না (SSC 2016)
তারপরে ২০২৫ সালের এই নিয়োগ বিধি। কোনও চাকরিপ্রার্থী এসএসসি নিয়োগ বিধিকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে না। কোনও পরীক্ষার্থী ঠিক করে দিতে পারেন না, কোন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়া হবে। ২০১৯ সালের নিয়োগ বিধির পরে ২৬ হাজার চাকরি বাতিল হয়েছে। কিন্তু সেই বিধিকে কেউ চ্যালেঞ্জ করেনি। প্রত্যেকটি নিয়োগ প্রক্রিয়াতেই সম্ভাব্য শুন্য পদের পার্থক্য থাকে। পরীক্ষায় প্রতিযোগী নির্দিষ্ট করার অধিকার পরীক্ষার্থীর থাকেনা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই নতুন বিধি তৈরি করেই স্কুল সার্ভিস কমিশন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে(calcutta high court)।

এসএসসি-এর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ(SSC 2016)
যদি চাকরি প্রার্থীরা মনে করেন যে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করা হচ্ছে, তাহলে তারা সেখানে গিয়ে বলুক। যদি কোনও ভুল থাকে, তাহলে সুপ্রিমকোর্ট তা সংশোধন করে দেবে। ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে এসএসসি-এর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ তুলে ১৮০টি রিভিউ পিটিশন দায়ের হয়েছে। চাকরিতে সব ক্ষেত্রেই অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। এক্ষেত্রেও শিক্ষকতার অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কোনও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যোগ্যতার মান কী হবে, তা নিয়োগ দাতারাই নির্ধারণ করে(SSC 2016)। কোন যোগ্য প্রার্থীদের আবেদন গ্ৰহণ করা হবে, তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এসএসসি-ই নিতে পারে। যোগ্যতা মন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কোনও নির্দেশ নেই। এসএসসি নিজের ক্ষমতাবলে যোগ্যতা মান নির্ধারণ করেছে।’
বিধিকে কোনোভাবেই চ্যালেঞ্জ নয়(SSC 2016)
এসএসসি-এর আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন আদালতে সওয়াল করে বলেন, ‘স্কুল সার্ভিস কমিশনের বিধিকে কোনোভাবেই চ্যালেঞ্জ করা যায় না(SSC 2016)। হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে বলেছে। কিন্তু কোন বিধি মেনে নিয়োগ প্রক্রিয়া হবে, তা উল্লেখ করেনি। নির্দেশে বলা হয়েছে ঘোষিত শূন্যপদে নিয়োগ করতে হবে। তা ২০১৯ সালের নিয়োগ বিধি মেনেও হতে পারে। আবার ২০২৫ সালের নতুন বিধি মেনেও হতে পারে। রায়ে কোথাও বলা হয়নি যে, ২০১৬ সালের নিয়োগ বিধি মেনেই নিয়োগ করতে হবে।’
গত ৯ বছর ধরে নতুনরা সুযোগ পাননি(SSC 2016)
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, ‘গত ৯ বছর ধরে নতুনরা সুযোগ পাননি। আপনাদের যদি যোগ্যতা থাকে, তাহলে মামলা করেছেন কেন? নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিন এবং যোগ্যতা প্রমাণ করে চাকরি করুন(SSC 2016)। এখন হাজারো আপত্তি ও দাবী-দাওয়া তুলছেন কেন? আর ২০১৬ সালের বিধি মেনে বয়সে ছাড় দেওয়া সম্ভব নয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ওই বিধি সংশোধন করতে হত। বয়সে ছাড় দিতে হলে ২০১৬ সালের বিধি সংশোধন করতে হত, অথবা নতুন বিধি তৈরি করতে হত।
আদালত যদি নতুন বিধি খারিজ করে দেয়, তাহলে ২০১৬ সালের বিধিতে আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে না(SSC 2016)। একটি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সেরা এবং যোগ্য প্রার্থীকেই নির্বাচন করাই লক্ষ্য হয়। তা নির্ধারণ করার অধিকার শুধুমাত্র এসএসসি-এরই থাকে। কেউ ৪০ শতাংশ নম্বর পেয়েছেন আবার কেউ ৭০ শতাংশ নম্বর পেয়েছেন। যিনি ৭০ শতাংশ নম্বর পেয়েছেন তাকেই নির্বাচন করা উচিত।’
এসএসসি-এর ভুলেই এই পরিস্থিতি(SSC 2016)
অপরদিকে বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য্য এবং অনিন্দ্য মিত্র এদিন আদালতের বলেন, এটা ঠিক যে, বিধি সংশোধন করা হবে কিনা, সেটা এসএসসি-ই ঠিক করবে(SSC 2016)। কিন্তু এসএসসি-এর ভুলেই এই পরিস্থিতি হয়েছে। ইচ্ছাকৃতভাবেই এসএসসি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘন করছে। সুপ্রিম কোর্ট নিয়োগ বাতিল করলেও কোনও প্যানেল বাতিল করেনি। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশে কোথাও বলেনি যে, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে এসএসসি যোগ্যতার মান বদল করতে পারবে। দুর্নীতির কারণে নিয়োগ বাতিল হয়েছে।
সেখানে ঘোষিত শূন্য পদে নতুন করে নিয়োগ করার কথা বলেছে সুপ্রিম কোর্ট(SSC 2016)। ২০১৯ সালের বিধি মেনে যেহেতু সেই নিয়োগ হয়নি তাই সেই বিধিকে চ্যালেঞ্জ করা হয়নি। আদালতও সেই বিষয়ে কোনও নির্দেশ দেয়নি। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর চূড়ান্ত শুনানি শেষ করেন বিচারপতি সৌমেন সেনের ডিভিশন বেঞ্চ। তবে রায়দান স্থগিত রাখা হয়েছে। আদালত এখন কী নির্দেশ দেয়, সেই দিকেই তাকিয়ে সব পক্ষ।