Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ফের এক দফা শুল্কযুদ্ধ এড়াতে চূড়ান্ত মুহূর্তে সমঝোতার পথে হাঁটল আমেরিকা ও চিন (US China Tariff)। বাণিজ্যিক দরকষাকষির জন্য আরও সময় দিতে দু’দেশই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী ৯০ দিনের জন্য পরস্পরের উপর আরোপিত শুল্ক আংশিকভাবে প্রত্যাহার করা হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald J. Trump) সোমবার ঘোষণা করেন, চিনের উপর আরোপিত শুল্কের কিছু অংশ সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হবে, যাতে আলোচনার জন্য পর্যাপ্ত সময় মেলে। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই বেজিংও একই সিদ্ধান্তের কথা জানায়—তাদের পক্ষ থেকেও মার্কিন পণ্যের উপর শুল্কছাড় কার্যকর হবে আগামী ৯০ দিন।
পূর্ববর্তী সংঘর্ষবিরতির মেয়াদ শেষ হচ্ছিল (US China Tariff)
এর আগে গত ১২ মে উভয় দেশ ৯০ দিনের জন্য শুল্কযুদ্ধ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল (US China Tariff)। সেই সময়ে দু’দেশ একে অপরের পণ্যের উপর ১১৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে আনে। বর্তমানে চিনা বাজারে মার্কিন পণ্যের উপর ১০ শতাংশ এবং মার্কিন বাজারে চিনা পণ্যের উপর ৩০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর রয়েছে। তবে এই ‘সংঘর্ষবিরতি’র মেয়াদ শেষ হচ্ছিল মঙ্গলবার, ১২ আগস্ট। তার আগেই নতুন করে শুল্কছাড়ের ঘোষণা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমিত করেছে।
শুল্কযুদ্ধের সূচনা (US China Tariff)
ট্রাম্পের এপ্রিল মাসের নতুন শুল্কনীতির ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয় আমেরিকা-চিন বাণিজ্যিক সংঘাত(US China Tariff)। মূলত ফেন্টানাইল নামের এক ধরনের শক্তিশালী ব্যথানাশক ওষুধকে কেন্দ্র করেই প্রথমে উত্তেজনা ছড়ায়। ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, নিষিদ্ধ এই ওষুধটি চোরাপথে চিন থেকে আমেরিকায় প্রবেশ করছে। এর জেরেই মার্কিন প্রশাসন চিনা পণ্যের উপর শুল্ক চাপায়। পরবর্তীতে এপ্রিলের নতুন নীতিতে সেই শুল্ক আরও বৃদ্ধি পায়। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বেজিংও মার্কিন পণ্যের উপর শুল্ক বাড়ায়।
পরিস্থিতি ধীরে ধীরে তীব্র হতে থাকে—এক পর্যায়ে মার্কিন শুল্কের হার চিনা পণ্যের ক্ষেত্রে ১৪৫ শতাংশে পৌঁছায়, আর মার্কিন পণ্যের উপর চিনও চাপায় ১২৫ শতাংশ শুল্ক।

সমঝোতার পথে অগ্রগতি (US China Tariff)
মে মাসের শুরুতে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসেন(US China Tariff)। সেই বৈঠকেই প্রথমবার স্পষ্ট হয় যে, শুল্কযুদ্ধে সাময়িক বিরতি আসতে পারে। এর ফলেই ১২ মে প্রথমবারের মতো ৯০ দিনের জন্য শুল্ক সংঘাত স্থগিত রাখা হয় এবং বাণিজ্যিক সমঝোতা নিয়ে আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
পরে জুন মাসে ট্রাম্প দাবি করেন, চিনের সঙ্গে তাঁর একটি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। যদিও সেই চুক্তির বিস্তারিত কখনো প্রকাশ্যে আসেনি, তবুও আলোচনার টেবিলে উভয় পক্ষই বসতে থাকে।

নতুন ৯০ দিনের বিরতির তাৎপর্য (US China Tariff)
নতুন করে ঘোষিত এই ৯০ দিনের শুল্কছাড় উভয় দেশের জন্যই একটি কৌশলগত সুযোগ(US China Tariff)। মার্কিন প্রশাসন আশা করছে, এই সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা এবং বাজারে প্রবেশাধিকারের মতো ইস্যুতে সমঝোতা সম্ভব হবে। অপরদিকে, বেজিংও মনে করছে, শুল্ক ছাড়ার মাধ্যমে তারা নিজেদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে রক্ষা করতে পারবে এবং মার্কিন বাজারে রপ্তানি স্থিতিশীল রাখতে পারবে(US China Tariff)। বিশ্লেষকরা বলছেন, যদিও এই সিদ্ধান্ত সাময়িক স্বস্তি দিচ্ছে, তবে মূল সমস্যাগুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। যদি আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হয়, তবে ৯০ দিনের মেয়াদ শেষে আবারও শুল্কযুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।