Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন (Donald J. Trump) পররাষ্ট্র দফতরের সাম্প্রতিক বার্ষিক রিপোর্টে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের চিত্র আলাদা সুরে উঠে এসেছে(US On Human Rights)। ২০২৪ সালের ঘটনার ভিত্তিতে প্রস্তুত এই মূল্যায়নে বলা হয়েছে—মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে রাষ্ট্রীয় কর্তাব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভারত ‘ন্যূনতম বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ’ নিয়েছে; পাকিস্তান ‘বিরলভাবে বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ’ নিয়েছে; অন্যদিকে বাংলাদেশে সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলনায় স্থিতিশীল, যদিও কিছু ক্ষেত্রে উদ্বেগ বর্তমান।
ভারতের মানবাধিকার ইস্যু (US On Human Rights)
রিপোর্টের ভারত অধ্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে—মণিপুরের সহিংসতা, জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাস ও নিরাপত্তা অভিযান, মাওবাদী প্রভাবিত অঞ্চলে সংঘাত, পুলিশের ‘এনকাউন্টার’, সংবাদমাধ্যম ও মতপ্রকাশে বিধিনিষেধসহ একাধিক ইস্যুতে উদ্বেগ রয়েছে(US On Human Rights)। একই সঙ্গে মন্তব্য, দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে শাস্তির কিছু প্রচেষ্টা হয়েছে ঠিকই, তবে তা সামগ্রিকতায় ‘খুবই ন্যূনতম’। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলিও সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈষম্যসহ নানা অভিযোগ তুলেছে বলে রিপোর্টে প্রতিফলিত হয়েছে।
পাকিস্তান প্রসঙ্গে মূল্যায়ন—বছর জুড়ে মানবাধিকার পরিস্থিতিতে ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই’(US On Human Rights)। জঙ্গি হামলা, বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া ও বালোচিস্তানে সহিংসতা অব্যাহত; নির্বাচনকে ঘিরে বিতর্ক, নাগরিক সমাজ ও মিডিয়ার ওপর চাপ, এবং বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা—এসব ইস্যুতেও উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে। রিপোর্টের ভাষায়, রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ‘খুব কম’ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন (US On Human Rights)
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই-অগস্টের অস্থিরতা, শেখ হাসিনার সরকারের পতন ও তাঁর দেশত্যাগ, এবং নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের গঠন—এসব ঘটনাপ্রবাহের পর পরিস্থিতি তুলনায় স্থিতিশীল হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ(US On Human Rights)। তবে আগের সরকারের আমলে মানবাধিকার লঙ্ঘনে অভিযুক্তদের জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া, নিখোঁজ ও নির্যাতনের অভিযোগসহ নানা বিষয়ে উদ্বেগ বজায় আছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসব ঘটনার বিরুদ্ধে বেশি উদ্যোগ দেখা গেছে বলেও মূল্যায়নটি ইঙ্গিত করে।
বিশ্লেষকদের দৃষ্টি কাড়ছে—রিপোর্টটি আগের বছরের তুলনায় সংক্ষিপ্ত ও কিছু ক্ষেত্রে সুরে নরম(US On Human Rights)। বিশেষত মার্কিন ‘ঘনিষ্ঠ’ অংশীদারদের প্রসঙ্গে সমালোচনা তুলনায় মৃদু হয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন। মধ্যপ্রাচ্যে ইজরায়েল-গাজা যুদ্ধ বা গাজায় মানবিক সঙ্কট নিয়ে এই বার্ষিক নথিতে বিস্তারিত সমালোচনা তুলনায় কম দৃশ্যমান—এমন পর্যবেক্ষণও ভেসে এসেছে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে। একই সঙ্গে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ প্রশ্নে মস্কোর বিরুদ্ধে স্পষ্ট সমালোচনামূলক অবস্থান বজায় রেখেছে ওয়াশিংটন।

ভারত ও পাকিস্তানের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া নেই (US On Human Rights)
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এই ‘কান্ট্রি রিপোর্টস অন হিউম্যান রাইটস প্র্যাকটিসেস’ প্রতিবছরই প্রকাশিত হয় এবং নাগরিক, রাজনৈতিক, শ্রম-অধিকারসহ বহুমাত্রিক সূচকে দেশভিত্তিক মূল্যায়ন হাজির করে(US On Human Rights)। চলতি সংস্করণের পূর্ণাঙ্গ নথি দফতরের ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : SC On Stray Dogs : দিল্লি থেকে পথকুকুর সরানোর নির্দেশ ঘিরে তোলপাড়, খতিয়ে দেখার আশ্বাস প্রধান বিচারপতির
রিপোর্ট নিয়ে ভারত ও পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি—তবে দুই দেশেই রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া ও পাল্টা-আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা-রাজনীতি, মেরুকরণ, এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির ঘাটতি—এসব না পাল্টালে মানবাধিকার সূচকে স্থায়ী উন্নতি সম্ভব নয়। মার্কিন মূল্যায়ন কূটনৈতিকভাবে বিতর্কিত হোক বা না-হোক, জবাবদিহি ও আইনের শাসন জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা—তিন দেশেই—আলোচনার কেন্দ্রেই থেকে যাচ্ছে।