Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: একটা সিনেমা নাকি দেখলেই মৃত্যু (Antrum film)! শুনতে অবিশ্বাস্য, এই সিনেমা কে ঘিরে এমনই নানা রকম গুজব ঘুরে বেড়াচ্ছে সারা পৃথিবীতে। কেউ বলছে, ছবিটি অভিশপ্ত; আবার কেউ বলছে, এ সবই দর্শককে ভীত ও কৌতূহলী করার জন্য তৈরি করা গল্প। তবে একথা ঠিক—এই ছবিকে ঘিরে রহস্যের আবহই একে আজকের দিনে সবচেয়ে আলোচিত হরর সিনেমাগুলির মধ্যে তুলে এনেছে।

১৯৭৯ সালের কি হয়েছিল (Antrum film)
খবর সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৯ সালে Antrum একটি আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে পাঠানো হয়েছিল। বাছাই কমিটি ছবিটি দেখে তা বাতিল করে দেয়। এরপরই নাকি কমিটির কয়েকজন অস্বাভাবিকভাবে মারা যান। ঘটনার সত্যতা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও এই গল্পই ছবির “অভিশাপ”–এর প্রথম বীজ রোপণ করে।
দ্বিতীয় অধ্যায় (Antrum film)
১৯৮৮ সালের বুদাপেস্ট দুর্ঘটনা গুজবের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু হয় ১৯৮৮ সালে। হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে একটি থিয়েটারে Antrum প্রদর্শনীর সময় আচমকা আগুন লাগে। সেই আগুনে প্রায় ৫৬ জনের মৃত্যু হয় বলে দাবি করা হয়। স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া না গেলেও এই কাহিনি ছবির ভয়াবহ ভাবমূর্তিকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
১৯৯৩ সালে কি হয়
‘এলএসডি-পপকর্ন’ কাণ্ড পরবর্তী চাঞ্চল্যকর দাবি আসে ১৯৯৩ সালে। যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোর এক সিনেমা হলে Antrum চলাকালীন দর্শকরা হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করেন। কেউ বলেন, তারা একে অপরের সঙ্গে মারামারি শুরু করেন; পরে জানা যায়, পপকর্নে নাকি এলএসডি মিশে ছিল। তবে এলএসডি কোথা থেকে এল—সে প্রশ্নের উত্তর আজও অজানা।
কি আছে ছবিতে
Antrum–এর কাহিনি আবর্তিত হয়েছে দুই ভাই-বোনকে ঘিরে, যারা তাদের প্রিয় কুকুরের মৃত্যুতে শোকগ্রস্ত হয়ে ‘নরকের গর্ত’ খুঁজতে যাত্রা শুরু করে। ছবিতে বিকৃত ফুটেজ, গথিক সঙ্গীত এবং অদ্ভুত প্রতীকের ব্যবহার দর্শকের মনে এক ধরনের অস্বস্তি ও ভীতি তৈরি করে। মেনস্ট্রিম হররের ধারা থেকে আলাদা হলেও, এর নির্মাণশৈলী ও মুড একে এক অনন্য অভিজ্ঞতায় পরিণত করেছে।
আরও পড়ুন : SC On Stray Dogs : দিল্লি থেকে পথকুকুর সরানোর নির্দেশ ঘিরে তোলপাড়, খতিয়ে দেখার আশ্বাস প্রধান বিচারপতির
অনেক চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞের মতে, Antrum–কে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া “মৃত্যুর অভিশাপ” কেবলমাত্র একটি সুচিন্তিত মার্কেটিং কৌশল। প্রচারে ভয়ঙ্কর কাহিনিগুলি ব্যবহার করে ছবির প্রতি মানুষের কৌতূহল ও আতঙ্ক দুটোই বাড়ানো হয়েছে। হররপ্রেমীরা সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন—কারও কাছে এটি তাদের দেখা সবচেয়ে ভয়ের সিনেমা, আবার কেউ একে নিছকই প্রচারের গিমিক বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।