Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : বর্ষা নামলেই চারপাশে যেন অন্য এক রূপ (Health tips)—আকাশে মেঘ, রাস্তায় কদমফুলের সুবাস, হাওয়ায় ঠান্ডা ছোঁয়া। এই আবহে এক কাপ গরম চা আর সঙ্গে কড়কড়ে চপ, শিঙাড়া, পকোড়া কিংবা চিকেন ললিপপ—বাঙালির মন গলাতে এর চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে! কিন্তু এই স্বাদের লোভের পিছনে লুকিয়ে থাকে এক অদৃশ্য বিপদ—অতিরিক্ত তেল, ট্রান্স ফ্যাট, সোডিয়াম, আর ক্যালোরির বাড়াবাড়ি, যা আমাদের শরীরে ধীরে ধীরে নানা রোগের বীজ বপন করে।
ভাজাভুজির খেলে সমস্যা কোথায় (Health tips)

ডোবা তেলে ভাজার ফলে খাবারের মধ্যে জমে যায় প্রচুর স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং ট্রান্স ফ্যাট (Health tips)। এই চর্বি হজম হতে সময় নেয়, রক্তে কোলেস্টেরল বাড়ায় এবং ধমনীর দেওয়ালে ফ্যাট জমিয়ে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। পাশাপাশি অতিরিক্ত ক্যালোরি ও চর্বি ওজন বৃদ্ধি, ডায়াবিটিস, গ্যাস্ট্রিক ও অ্যাসিডিটির সমস্যাও ডেকে আনে।
বিশেষজ্ঞদের মতে—
- নিয়মিত বেশি পরিমাণে ভাজাভুজি খাওয়া কোলেস্টেরল বাড়ায়।
- লিভারের উপর চাপ পড়ে এবং হজমের গতি কমে।
- শরীরের মেটাবলিজম স্লো হয়ে যায়।
ভাজাভুজি খাওয়ার পর সুস্থ থাকার কার্যকর উপায় (Health tips)
ঈষদুষ্ণ জল
ভাজাভুজি খাওয়ার অন্তত ৩০-৪০ মিনিট পর এক গ্লাস হালকা গরম জল পান করুন। গরম জল পাচনতন্ত্রকে সক্রিয় করে, তেল-চর্বি গলিয়ে হজমে সাহায্য করে। গরম জলে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস বা এক চিমটি গোলমরিচ মিশিয়ে খেলে ডিটক্সিফিকেশন আরও দ্রুত হয়।

গ্রিন টি
ভাজাভুজি খাবারের তেল ও চর্বি কাটাতে গ্রিন টি এক অসাধারণ সমাধান। এতে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট হজম বাড়ায়, ফ্যাট বার্ন করে, শরীরকে সতেজ রাখে। ভাজাভুজি খাওয়ার ১৫-২০ মিনিট পর এক কাপ গরম গ্রিন টি। পেটের ভারি ভাব কমে, ফাঁপা ভাব দূর হয়, চর্বি জমা হ্রাস পায়।
হাঁটাহাঁটি
খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়া বিপজ্জনক। এতে তেল হজমে সমস্যা হয়, অ্যাসিডিটি বাড়ে। খাবারের অন্তত ২০ মিনিট পরে হাঁটা শুরু করুন। ১০-১৫ মিনিটের হালকা হাঁটা যথেষ্ট। হজম দ্রুত হয়, শরীর সক্রিয় থাকে, ক্যালোরি খরচ হয়।
পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ
প্রিয় খাবার হলেও অতিরিক্ত না খাওয়াই ভালো। একবারে অনেকগুলো চপ বা শিঙাড়া না নিয়ে এক-দুইটিতে সীমাবদ্ধ থাকুন।অল্প তেলে ভাজা বা এয়ার-ফ্রায়ারে বানানো খাবার বেছে নিন।
স্যালাড ও ফাইবার
ভাজাভুজির সঙ্গে টাটকা স্যালাড, শসা, টমেটো বা গাজর রাখলে ফাইবারের যোগ হয়, যা তেল ও ক্যালোরির প্রভাব কমায় এবং হজম সহজ করে।
সপ্তাহে নির্দিষ্ট ‘চিট ডে’ বানান
প্রতিদিন নয়, সপ্তাহে ১-২ দিন ভাজাভুজি খান। এতে স্বাদও বজায় থাকবে, শরীরও চাপমুক্ত থাকবে।
আরও পড়ুন : Kalna: কচু পাতার উপর উদ্ধার সদ্যজাত সন্তান
রইলো কিছু সতর্কতা (Health tips)
- পুরনো তেল ব্যবহার করা ভাজা খাবার এড়িয়ে চলুন—এতে ট্রান্স ফ্যাটের মাত্রা ভয়ংকরভাবে বেড়ে যায়।
- যদি কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবিটিস থাকে, তবে পরিমাণ আরও সীমিত রাখুন।
- ভাজাভুজির পরপরই ঠান্ডা জল খাবেন না—এতে তেল জমে গিয়ে হজমের সমস্যা বাড়ে।