Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: শুক্রবার রাতে আলাস্কায় মুখোমুখি বসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald J. Trump) ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন(Trump Putin Meeting)। বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয়—ইউক্রেন যুদ্ধের সম্ভাব্য সমাধান। যদিও অনেক কূটনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই বৈঠক কেবলমাত্র প্রথম ধাপ, এবং যুদ্ধ থামানো এখনই সম্ভব নাও হতে পারে। ভারতের দিক থেকেও বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ রাশিয়ার সঙ্গে নয়াদিল্লির বাণিজ্য ও জ্বালানি সম্পর্ক নিয়ে সাম্প্রতিক মার্কিন চাপ অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
দুই নেতার আলাদা লক্ষ্য (Trump Putin Meeting)
ট্রাম্পের লক্ষ্য স্পষ্ট—ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ থামানো(Trump Putin Meeting)। অতীতে ফোনালাপের মাধ্যমে পুতিনকে রাজি করানোর চেষ্টা করেও সফল হননি তিনি। তাই এবার সামনাসামনি আলোচনায় সমাধানের সূত্র খুঁজবেন। অন্যদিকে, পুতিনের লক্ষ্য ভিন্ন—ইউক্রেনের উপর রাশিয়ার প্রভাব বজায় রাখা এবং একই সঙ্গে ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট না করা। ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মস্কো ইউক্রেন ইস্যুকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বাধা হতে দিতে চায় না।
কিয়েভকে বাদ, ইউরোপের উদ্বেগ (Trump Putin Meeting)
আলোচনায় ইউক্রেনের কোনো প্রতিনিধি থাকছে না, যা কিয়েভ এবং ইউরোপীয় মিত্রদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে(Trump Putin Meeting)। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন—যদি এই বৈঠক রাশিয়ার পক্ষে চলে যায়, তবে তা কার্যত কিয়েভের ক্ষতির কারণ হবে। ট্রাম্প অবশ্য ইউক্রেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বৈঠকের আগে ভিডিও কনফারেন্স করেছেন, কিন্তু আলোচনার টেবিলে অনুপস্থিতি কূটনৈতিক ভারসাম্য প্রশ্নে তুলছে।
সম্ভাব্য আলোচ্য বিষয় (Trump Putin Meeting)
প্রথম ধাপের আলোচনায় ট্রাম্প পুতিনকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করানোর চেষ্টা করতে পারেন। এরপর আলোচনা হতে পারে—
- ভূখণ্ড বিনিময়
- ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা
- কিয়েভকে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি
যদি পুতিন অস্বীকার করেন, তবে ট্রাম্প কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং তেল রফতানি বন্ধের মতো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।
ভারত–মার্কিন টানাপোড়েন (Trump Putin Meeting)
রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করা দেশগুলির মধ্যে ভারত শীর্ষে। ট্রাম্পের অভিযোগ—এই তেলের মুনাফা ইউক্রেন যুদ্ধে কাজে লাগাচ্ছে পুতিন। এর জেরে ভারতের উপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়েছে। নয়াদিল্লি উদ্বেগে থাকলেও, আলাস্কা বৈঠক থেকে ইতিবাচক ফল আসলে তা ভারতের জন্যও লাভজনক হতে পারে।

অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব (Trump Putin Meeting)
বৈঠকে বাণিজ্য, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি বিষয়ক আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে সৌদি আরবে রাশিয়া–মার্কিন আলোচনায় জ্বালানি ও মহাকাশ গবেষণা নিয়ে যে সম্ভাব্য চুক্তির কথা হয়েছিল, সেটিও আবার আলোচনায় উঠতে পারে। তবে রুশ–মার্কিন সম্পর্কে সাম্প্রতিক টানাপোড়েন সেই প্রক্রিয়ায় ধোঁয়াশা তৈরি করেছে।

আরও পড়ুন : India US Tariff War : লালকেল্লা থেকে কৃষকদের স্বার্থরক্ষার বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী
বিশ্লেষকদের সতর্কতা (Trump Putin Meeting)
প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত কার্ট ভল্কার মনে করেন, পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখে ইউক্রেনের কাছে গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করা প্রায় অসম্ভব(Trump Putin Meeting)। একইভাবে, প্রাক্তন জাতীয় নিরাপত্তা উপদষ্টা জন বোল্টনও বলছেন—পুতিন যতদিন আলোচনাকে দীর্ঘায়িত করতে পারবেন এবং ট্রাম্পকে ‘পুরনো বন্ধু’ হিসেবে মনে করাতে পারবেন, ততই রাশিয়ার পক্ষে সুবিধা হবে
আলাস্কার এই বৈঠক থেকে তাৎক্ষণিক সমাধান আশা করা কঠিন। তবে এটি হতে পারে ভবিষ্যৎ আলোচনার সূচনা বিন্দু। যুদ্ধবিরতি, ভূখণ্ড প্রশ্ন, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা—সব কিছুই নির্ভর করছে দুই নেতার রাজনৈতিক ইচ্ছা ও পারস্পরিক সমঝোতার উপর। ভারতের মতো তৃতীয় পক্ষের জন্যও এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর ফলাফল সরাসরি জ্বালানি ও বাণিজ্যিক স্বার্থে প্রভাব ফেলতে পারে।