Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: রুশ–ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা চালাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প(Trump Putin Meeting)। অতীতে ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেও কার্যকর সমাধান আসেনি। এবার আলাস্কায় সরাসরি মুখোমুখি বসে সমাধানসূত্র খুঁজতে যাচ্ছেন দুই নেতা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, পুতিন চাইছেন ইউক্রেনের উপর রাশিয়ার প্রভাব বজায় রাখতে, অথচ ট্রাম্পের সঙ্গেও সম্পর্ক নষ্ট না হোক। এই জটিল লক্ষ্য–বিরোধ দুই দেশের আলোচনাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।
ভারতের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠক (Trump Putin Meeting)
এই বৈঠকের প্রভাব ভারতের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের ওপরও পড়তে পারে(Trump Putin Meeting)। রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ তেল কেনে ভারত। ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, এই তেলের বিক্রয়লাভ ইউক্রেন যুদ্ধের খরচ মেটাতে ব্যবহার করছেন পুতিন। এর জেরে ভারতের ওপর প্রথমে ২৫ শতাংশ এবং পরে ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপান ট্রাম্প। ফলে নয়াদিল্লি–ওয়াশিংটন সম্পর্ক কিছুটা টানাপোড়েনের মধ্যেই রয়েছে। যুদ্ধবিরতিতে অগ্রগতি হলে এই চাপ কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। নয়াদিল্লি ইতিমধ্যেই আলাস্কা বৈঠককে স্বাগত জানিয়েছে।
কিয়েভকে বাদ দিয়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক (Trump Putin Meeting)
বিতর্কিতভাবে এই বৈঠকে ইউক্রেনের কোনও প্রতিনিধিকে ডাকা হয়নি(Trump Putin Meeting)। বিষয়টি নিয়ে কিয়েভ এবং তার ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও ট্রাম্প এর আগে ইউক্রেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভার্চুয়াল আলোচনা করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, পুতিন রাজি হলে তিনি ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও সরাসরি কথা বলবেন। আলোচনায় ভূখণ্ড বিনিময়, ইউক্রেনের নিরাপত্তা এবং মার্কিন অস্ত্র বিক্রির মতো বিষয় আসতে পারে।
পুতিনের ভিন্ন অগ্রাধিকার (Trump Putin Meeting)
রুশ প্রেসিডেন্ট আলোচনায় বাণিজ্য এবং অস্ত্র–নিয়ন্ত্রণের বিষয়ও তুলতে পারেন। মস্কোর মূল লক্ষ্য ইউক্রেন ইস্যুকে সরাসরি রাশিয়া–আমেরিকা সম্পর্কের আড়ালে রাখা। ট্রাম্পও জানিয়ে দিয়েছেন, প্রথম বৈঠক ইতিবাচক হলে তবেই দ্বিতীয় ধাপ শুরু হবে, নইলে কোনও যৌথ সাংবাদিক বৈঠকও হবে না।

আরও পড়ুন : Trump Putin Meeting : ট্রাম্প-পুতিনের বৈঠক ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা নাকি নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ ?
অতীত অভিজ্ঞতা এবং নতুন পরিস্থিতি (Trump Putin Meeting)
প্রথম প্রেসিডেন্ট মেয়াদে পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখেছিলেন ট্রাম্প (Donald J. Trump)। জেলেনস্কিকে যুদ্ধ থামাতে চাপও দিয়েছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপে কোনও অগ্রগতি হয়নি। ফলে এবার ট্রাম্প স্পষ্টভাবে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। সেটি পেরিয়ে যাওয়ায় তিনি রাশিয়ার তেল রপ্তানি এবং এর ক্রেতাদেরও হুমকি দিতে শুরু করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের সংশয় (Trump Putin Meeting)
প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত কার্ট ভল্কার মনে করছেন, পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং কিয়েভের কাছে গ্রহণযোগ্য চুক্তি—দুটো একসঙ্গে পাওয়া সম্ভব নয়। একই মত প্রাক্তন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনেরও। তাঁর মতে, আলোচনা কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নির্ভর করছে পুতিনের উপর—তিনি কি ট্রাম্পকে বিশ্বাস করাতে পারবেন যে তাদের পুরনো ‘বন্ধুত্ব’ ফিরেছে, নাকি কৌশলে আলোচনাকে দীর্ঘায়িত করবেন(Trump Putin Meeting)।
আলাস্কার এই বৈঠক শুধু রুশ–ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যত নয়, আমেরিকা–ভারত–রাশিয়া ত্রিপাক্ষিক সম্পর্কের দিকনির্দেশও নির্ধারণ করতে পারে। দুই নেতার মধ্যে আস্থার সমীকরণ এবং পারস্পরিক ছাড়–দেওয়ার ইচ্ছাই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে—শান্তির পথে এগোবে কি না এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, নাকি আরও গভীর হবে আন্তর্জাতিক অস্থিরতা।