Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: শুক্রবার বিকেলে আচমকা ধসে পড়ল দক্ষিণ দিল্লির পূর্ব নিজামুদ্দিন এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক হুমায়ুনের সমাধিক্ষেত্রের একাংশ(Humayun Tomb)। দুর্ঘটনায় কমপক্ষে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও কয়েকজন ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিকেল প্রায় ৪টা ৩০ মিনিট নাগাদ গম্বুজের একটি অংশ ভেঙে পড়ে, যা পর্যটক এবং কর্মীদের ওপর আঘাত হানে। ছুটির দিনে সমাধিক্ষেত্রে পর্যটকদের ভিড় থাকায় হতাহতের সংখ্যা বেশি হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
দমকল ও উদ্ধার অভিযান (Humayun Tomb)
দিল্লি দমকল বিভাগের পাঁচটি বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে(Humayun Tomb)। প্রাথমিকভাবে আট জন চাপা পড়েছেন বলে ধারণা করা হলেও, এখন পর্যন্ত পাঁচটি মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এখনও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন এবং তাঁদের উদ্ধারে তৎপরতা চলছে। স্থানীয় প্রশাসন আশপাশের এলাকা ঘিরে দিয়েছে এবং পর্যটকদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ঐতিহাসিক ও স্থাপত্যগত গুরুত্ব (Humayun Tomb)
হুমায়ুনের সমাধিক্ষেত্র মোগল স্থাপত্যশৈলীর প্রথম উদাহরণ হিসাবে চিহ্নিত এবং এটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত। ১৫৬২ সালে মোগল সম্রাট হুমায়ুনের স্ত্রী হামিদা বানু বেগম বুখারার স্থপতি মির্জা গিয়াসের তত্ত্বাবধানে এটি নির্মাণ করান। লাল বেলেপাথরের তৈরি এই উদ্যান সমাধিক্ষেত্র ভারতীয় মোগল স্থাপত্যে নতুন ধারা সূচনা করে, যা পরে তাজমহলসহ বহু স্থাপনায় প্রতিফলিত হয়েছে।

আরও পড়ুন : Trump Putin Meeting : ট্রাম্প পুতিন বৈঠক কেন ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?
মোগল সাম্রাজ্যের প্রেক্ষাপট (Humayun Tomb)
১৫২৬ সালে পানিপথের যুদ্ধে বিজয় লাভ করে বাবর দিল্লি (Delhi) দখল করেন(Humayun Tomb)। বাবরের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র হুমায়ুন সিংহাসনে বসেন, তবে শের শাহ সুরির কাছে পরাজিত হয়ে দেশ ছাড়তে হয়। শের শাহের মৃত্যুর পর হুমায়ুন পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে আসেন এবং দিল্লি ও আগরায় বহু স্থাপনা নির্মাণ করেন। ১৫৫৬ সালে তাঁর মৃত্যু হলে, স্ত্রী হামিদা বানু বেগম তাঁর স্মৃতিতে এই সমাধিক্ষেত্র নির্মাণের উদ্যোগ নেন।
ক্ষতির সম্ভাবনা ও তদন্ত (Humayun Tomb)
প্রাচীন স্থাপত্যের একাংশ ধসে পড়ায় শুধু প্রাণহানি নয়, ঐতিহাসিক মূল্যবান স্থাপনারও মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরীক্ষা শুরু করেছে। প্রাথমিক অনুমান, দীর্ঘদিনের ক্ষয়, জলবায়ুর প্রভাব ও রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি মিলিয়েই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

আরও পড়ুন : Afghan Taliban : আফগানিস্তানে তালিবানের ‘চতুর্থ বর্ষপূর্তি’! শক্তি-প্রদর্শনের উৎসব কাবুলে
সংস্কার ও সংরক্ষণের প্রশ্ন (Humayun Tomb)
হুমায়ুনের সমাধিক্ষেত্র শুধু ভারতের ঐতিহ্যের নয়, বিশ্ব সংস্কৃতিরও অমূল্য সম্পদ। এই দুর্ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে—ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলির সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কতটা সুরক্ষিত। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জরুরি ভিত্তিতে এই ধরনের ঐতিহাসিক স্থাপনায় কাঠামোগত পরিদর্শন ও সংস্কার কার্যক্রম চালানো না হলে ভবিষ্যতে আরও বিপর্যয় ঘটতে পারে।