Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্যের মর্যাদা পুনঃস্থাপনের দাবিতে ফের সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা(JK Statehood)। স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে তিনি তীব্র প্রশ্ন তুললেন— রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কি পাকিস্তান বা পহেলগাঁও হামলার জঙ্গিরা নেবে? যদিও ইসলামাবাদের নাম সরাসরি উচ্চারণ করেননি, তাঁর বক্তব্যে ‘পড়শি দেশ’-এর প্রসঙ্গ উঠে আসায় তা পাকিস্তানকেই ইঙ্গিত করছে বলে রাজনৈতিক মহলের অভিমত।
সুপ্রিম কোর্টে পহেলগাঁও প্রসঙ্গ (JK Statehood)
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে জম্মু ও কাশ্মীরের পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে পহেলগাঁও হামলার প্রসঙ্গ ওঠে(JK Statehood)। প্রধান বিচারপতি বিআর গগই এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, এই হামলার ঘটনাকে বাস্তব হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া উচিত। আদালত কেন্দ্রকে নোটিস পাঠিয়ে আট সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছে।
ওমরের বক্তব্য, “এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে, রাজ্যের মর্যাদা ফেরানোর সিদ্ধান্তে পহেলগাঁও হামলার মতো ঘটনা প্রভাব ফেলছে। আমরা কি আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের দায়িত্ব জঙ্গি ও বিদেশি শক্তির হাতে তুলে দেব?”
গণস্বাক্ষর অভিযানের ঘোষণা (JK Statehood)
ওমর আবদুল্লা (Omar Abdullah) স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চ থেকেই ঘোষণা করেন, আগামী আট সপ্তাহ তিনি জম্মু ও কাশ্মীরের প্রতিটি এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করবেন(JK Statehood)। এই স্বাক্ষরই হবে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফেরানোর দাবির ভিত্তি। তাঁর অভিযোগ, “আমাদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে, জম্মু ও কাশ্মীরকে দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে সমতুল্য করা হবে। কিন্তু বাস্তবে রাজ্যের মর্যাদা কেড়ে নেওয়া হয়েছে।’’

আরও পড়ুন : Pak Helicopter Crash : খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে পাক সেনার হেলিকপ্টার ভেঙে পড়ে নিহত ৫
২০১৯ সালের পরিবর্তন ও বর্তমান পরিস্থিতি (JK Statehood)
২০১৯ সালের ৫ অগস্ট সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের পর জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের তকমা হারায়। বিভক্ত হয়ে এটি দু’টি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত হয়— জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ। গত বছর জম্মু ও কাশ্মীরে বিধানসভা নির্বাচন হয় এবং সরকার গঠিত হয়। কিন্তু পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি এখনও পূরণ হয়নি(JK Statehood)।২০১৯ সালের ৫ অগস্ট সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের পর জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের তকমা হারায়। বিভক্ত হয়ে এটি দু’টি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত হয়— জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ। গত বছর জম্মু ও কাশ্মীরে বিধানসভা নির্বাচন হয় এবং সরকার গঠিত হয়। কিন্তু পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি এখনও পূরণ হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের প্রচারে জম্মু সফরে এসে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বিধানসভা ভোটের পরে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু লোকসভা এবং বিধানসভা— উভয় নির্বাচন শেষ হলেও সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি।

আরও পড়ুন : Trump On India Pakistan : ভারত-পাকিস্তান সংঘাত থামানোর কৃতিত্ব ফের দাবি করলেন ট্রাম্প
রাজনৈতিক তাৎপর্য (JK Statehood)
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওমরের এই মন্তব্য শুধু রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল নয়, বরং সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে কাজে লাগানোর প্রচেষ্টা। বিশেষত, সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ও কেন্দ্রের নীরবতা এই ইস্যুকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
আগামী আট সপ্তাহের মধ্যে ওমরের গণস্বাক্ষর অভিযান কীভাবে জনসমর্থন পায় এবং কেন্দ্রীয় সরকার কী প্রতিক্রিয়া জানায়, সেটিই এখন নজরকাড়া বিষয়। রাজ্যের মর্যাদা ফেরানোর দাবি নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি করতে পারে জম্মু ও কাশ্মীরে।