Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে প্রত্যক্ষ বৈঠকের ব্যবস্থা করছেন(Putin and Zelensky Meeting)। ট্রাম্পের কথায়, দু’পক্ষই নীতিগত ভাবে আলোচনায় বসতে আগ্রহী। হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গিয়েছে, পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপের সময়ই ট্রাম্প ইউরোপীয় নেতাদের ও জেলেনস্কির সঙ্গে সমান্তরাল আলোচনায় যুক্ত ছিলেন। এর ফলে বহুদিন ধরে অচলাবস্থায় থাকা শান্তি-প্রচেষ্টায় এক নতুন পর্বের সূচনা হল বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
“সীমা নয়, নিরাপত্তা”—সম্মেলনের প্রধান বার্তা (Putin and Zelensky Meeting)
সাম্প্রতিক শীর্ষ সম্মেলনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চয়তা—ন্যাটো-ধাঁচের প্রতিশ্রুতি, দীর্ঘমেয়াদি অস্ত্রজোগান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জোরদারকরণ, এবং যুদ্ধোত্তর পুনর্গঠনের আর্থিক সহায়তা(Putin and Zelensky Meeting)। ভূখণ্ড পুনর্নির্ধারণ বা সীমারেখা বদলের প্রসঙ্গে নেতারা প্রকাশ্যে কোনও ঐকমত্যে পৌঁছাননি। তবু জেলেনস্কির বক্তব্যে পরিস্কার, তিনি এবং ট্রাম্প (Donald J. Trump) রাশিয়া-দখলকৃত এলাকার একটি মানচিত্র সামনে রেখে আলোচনা করেছেন—যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতা ও সম্ভাব্য ‘ডিমিলিটারাইজড জোন’ নিয়ে আইডিয়া বিনিময় হয়েছে।
মার্কিন সেনা কি “পিসকিপিং”-এ নামবে? (Putin and Zelensky Meeting)
সাংবাদিকদের প্রশ্নে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন—সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি কার্যকর করতে হলে মার্কিন সেনা ইউক্রেনে সীমিত পিসকিপিং ভূমিকায় জড়িত হতে পারে, অন্ততপক্ষে আলোচনার টেবিলে সেই বিকল্প থাকছে(Putin and Zelensky Meeting)। যদিও এ বিষয়ে মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ভিতরে মতৈক্য গঠনে সময় লাগবে—কংগ্রেসের অনুমোদন, মিত্রদেশগুলির সমর্থন, এবং মাঠপর্যায়ের রূপরেখা—সবটাই এখনও প্রাথমিক স্তরে। তবু ট্রাম্পের ‘রুল আউট না করা’ মন্তব্য কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ—কারণ এটি সম্ভাব্য সমঝোতাকে বাস্তবায়নের এক শক্তিশালী বার্তা দেয় এবং রুশপক্ষকে চাপেও রাখে।
আগে যুদ্ধবিরতি, তার পর আলাপ (Putin and Zelensky Meeting)
এখানেই দেখা গেল মূল মতভেদ। ইউরোপীয় নেতৃত্ব—এবং জেলেনস্কি নিজেও—বলছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে অন্তত আংশিক অস্ত্রবিরতি না হলে গঠনমূলক আলোচনা এগোনো কঠিন(Putin and Zelensky Meeting)। কারণ, গোলাবর্ষণ চলতে থাকলে মানবিক সঙ্কট, অবকাঠামো ধ্বংস এবং শরণার্থী স্রোত—সব কিছুর চাপ বাড়তে থাকে। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বিবিসিকে জানিয়েছেন, নিরাপত্তা-সংক্রান্ত দরকষাকষি আজও চলছে এবং ইউরোপীয় দেশগুলি ‘সিজফায়ার-ফার্স্ট’ পন্থায় অটল। তাঁদের যুক্তি—নিশ্চিত, যাচাইযোগ্য যুদ্ধবিরতির ওপরেই টেকসই চুক্তির ভিত্তি দাঁড় করানো সম্ভব।

ট্রাম্প–ক্রেমলিন সুরে মিল, কিন্তু বারুদের গন্ধ মিলিয়ে যায় না
ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছেন, তিনি ‘শান্তিচুক্তি’কে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন—অর্থাৎ যুদ্ধ থামানোর নীতিগত কাঠামো, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং পর্যবেক্ষণ-মেকানিজ়ম একসঙ্গে প্যাকেজ আকারে টেবিলে তোলা(Putin and Zelensky Meeting)। ক্রেমলিনও এ রকম একটি ‘গ্র্যান্ড ডিল’-এ অনুকূল সুর শোনাচ্ছে। ফলে, কূটনৈতিক বৃত্তে ধারণা—ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে অন্তত আলোচনার নূন্যতম ব্যাক-চ্যানেল তৈরি হচ্ছে। কিন্তু মাটির বাস্তবতা অন্য কথা বলছে: একই সময়ে রাশিয়া ও ইউক্রেন দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি আঘাত চালিয়ে যাচ্ছে—ড্রোন হামলা, আর্টিলারি শেলিং এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অব্যাহত। যুদ্ধক্ষেত্রে উত্তাপ কমার লক্ষণ নেই; তাই ‘আলাপের গতি’ যতই বাড়ুক, ‘মাঠের আগুন’ নিভবে কি না, তা এখনও অনিশ্চিত।
সম্ভাব্য রূপরেখা কী (Putin and Zelensky Meeting)
জেলেনস্কির “মানচিত্র” উল্লেখটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ(Putin and Zelensky Meeting)। পর্যবেক্ষকদের মতে, সম্ভাব্য চুক্তির কয়েকটি স্তম্ভ হতে পারে—
- ডিমিলিটারাইজড বাফার: ফ্রন্টলাইনের কিছু অংশে নিরস্ত্রীকরণ অঞ্চল, যেখানে ভারী অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ।
- আন্তর্জাতিক মনিটরিং: ওএসসিই বা জাতিসংঘ-সমর্থিত মিশন, যাদের প্রযুক্তিগত সহায়তায় (স্যাটেলাইট ইমেজিং, ড্রোন নজরদারি) যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ হবে।
- নিরাপত্তা নিশ্চয়তা: পশ্চিমা দেশগুলির দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা সহায়তা—প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, মিসাইল প্রতিরক্ষা জোরদার।
- পর্যায়ক্রমিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ: চুক্তির ধাপ সফল হলেই কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল; ব্যর্থতায় ‘স্ন্যাপ–ব্যাক’ প্রভিশন।
- পুনর্গঠন তহবিল: ইউক্রেনের অবকাঠামো পুনর্গঠনে বহুপাক্ষিক আর্থিক সহায়তা, নির্দিষ্ট মাইলস্টোনের সঙ্গে যুক্ত।
এই ছক বাস্তবে রূপ নিতে পারলে যুদ্ধবিরতি থেকে স্থায়ী শান্তিতে যাওয়ার ‘গার্ডরেল’ তৈরি হতে পারে—যদিও সবচেয়ে জটিল প্রশ্ন রয়ে যাবে ভূখণ্ডের অবস্থান ও সার্বভৌমত্বের গ্যারান্টি(Putin and Zelensky Meeting)।

আরও পড়ুন : Mayanmar Election : গণতন্ত্র ফিরতে চলেছে মায়ানমারে! ডিসেম্বরেই হবে ভোট, ঘোষণা জুন্টার
সার্বভৌমত্ব বনাম বাস্তব রাজনীতি (Putin and Zelensky Meeting)
ইউক্রেনের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ দ্বিমুখী—একদিকে সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা নিয়ে অনমনীয় জনমত; অন্যদিকে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ অর্থনীতি ও সামরিক সক্ষমতাকে ক্ষয় করছে(Putin and Zelensky Meeting)। জেলেনস্কি তাই নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ‘হার্ডওয়্যার’—প্যাট্রিয়ট, আকাশ প্রতিরক্ষা, দীর্ঘপাল্লার সিস্টেম—নিয়ে তৎপর; আবার একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক টেবিলে কূটনৈতিক উদ্যোগ জিইয়ে রাখছেন। মানচিত্র–আলোচনার ‘ইঙ্গিত’ দিয়ে তিনি বোঝালেন—রূপরেখা খোঁজা হচ্ছে, আপস নয়; তবে যুদ্ধ থামাতে জটিল বাস্তবতাকেও চোখ এড়িয়ে যাওয়া যাচ্ছে না।
ওয়াশিংটনের ভেতরে রাজনীতি ও বাহিরে বার্তা(Putin and Zelensky Meeting)
মার্কিন সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা ‘সম্পূর্ণ উড়িয়ে না দেওয়া’—রাজনৈতিকভাবে সাহসী, কৌশলগতভাবে চাপ সৃষ্টিকারী। অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এটি তর্কের জন্ম দেবে—কতটা সম্পৃক্ত হবে আমেরিকা? নাগরিকদের করের অর্থ, সম্ভাব্য ঝুঁকি, এবং ন্যাটোর সঙ্গে সমন্বয়—সব প্রশ্ন উঠবে(Putin and Zelensky Meeting)। কিন্তু আন্তর্জাতিক ফ্রেমে এই বার্তা রুশপক্ষকে বুঝিয়ে দেয়—ওয়াশিংটন “এনফোর্সমেন্ট ক্যাপাবিলিটি” নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে। একইসঙ্গে ইউরোপকে আশ্বস্ত করে যে আমেরিকা টেবিলে নেতৃত্বই দেবে, বোঝাপড়া চাপিয়ে নয়, বরং প্রয়োজনে ‘গ্যারান্টর’ হয়ে।
আরও পড়ুন : Trump Zelensky Meeting : ফেব্রুয়ারি থেকে অগাস্ট, ছয় মাসে আমূল পরিবর্তন জেলেনস্কির!
ব্রিটেন–ইউরোপের ‘ধাপে ধাপে’ কূটনীতি (Putin and Zelensky Meeting)
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, নিরাপত্তা আলোচনার নতুন রাউন্ড শুরু হয়েছে এবং আজও তা চলবে(Putin and Zelensky Meeting)। ইউরোপীয় পন্থা স্পষ্ট—প্রথমে যুদ্ধবিরতি, তারপর আস্থা গড়ার ব্যবস্থা, শেষে চূড়ান্ত ফ্রেমওয়ার্ক। তারা মনে করে, ‘এক লাফে গ্র্যান্ড ডিল’ প্রায়শই মাঠে ঠেকেই যায়; বরং ছোট ছোট সাফল্য বড় চুক্তির পথ প্রশস্ত করে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মজবুত করা ও রুশ আক্রমণের দাম বাড়িয়ে দেওয়া—এই দু’মুখী কৌশলই ইউরোপের মূল টুলকিট।
সামনে কী? (Putin and Zelensky Meeting)
পরবর্তী কয়েকদিনে তিনটি জিনিস নজরে থাকবে—
- তারিখ ও স্থান: পুতিন–জেলেনস্কি বৈঠকের সম্ভাব্য সময়সূচি ও আয়োজক দেশ কে—তুরস্ক, সুইজ়ারল্যান্ড, না কি অন্য কোনও মধ্যস্থতাকারী?
- সিজফায়ার মেকানিজ়ম: ফিল্ড কমান্ডের স্তরে ‘ডি-এস্কেলেশন’ নীতিমালা—হটলাইন, ইনসিডেন্ট রিপোর্টিং, এবং বেসামরিক নিরাপত্তা করিডর।
- গ্যারান্টি আর্কিটেকচার: কোন দেশ/জোট গ্যারান্টর হবে, শর্তভঙ্গ হলে ‘শাস্তি’ কীভাবে নিশ্চিত হবে, এবং মনিটরিং কে করবে।
যুদ্ধক্ষেত্রে গোলাবর্ষণ চলতে থাকলেও কূটনৈতিক তৎপরতার গতি অনেকটাই বেড়েছে(Putin and Zelensky Meeting)। ট্রাম্পের সক্রিয় মধ্যস্থতা, ইউরোপের কঠোর শর্ত, এবং ক্রেমলিনের ‘শান্তিচুক্তি’–ইঙ্গিত—সব মিলিয়ে রক্তক্ষয়ী এই সংঘাতে এক নতুন জানালা খুলেছে। জানালাটি কতটা প্রশস্ত হবে, তা নির্ভর করবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার বাস্তব ইঞ্জিনিয়ারিং, স্থলে স্থলে আস্থার পরীক্ষা, এবং সবচেয়ে বড় কথা—ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্বের জট ছাড়ানোর রাজনৈতিক সংকল্পের ওপর। এখন নজর বিশ্বের—কূটনীতির এই নতুন বাঁকে ইতিহাস কি শান্তির দিকে মোড় নেবে, নাকি বন্দুকের গর্জনই আবার সুর বদলে দেবে?