Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতার আবহ ফের মাথাচাড়া দিল। সোমবার বরগুনা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের গ্রন্থাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’-সহ আওয়ামী লীগ সম্পর্কিত ৪০০-রও বেশি বই বার করে প্রকাশ্যে পুড়িয়ে দেওয়া হল(Book Burned In Bangladesh)। স্থানীয় সূত্রে খবর, এ ঘটনায় সক্রিয় ভাবে অংশ নিয়েছে জামায়াতে ইসলামির ছাত্র সংগঠন ইসলামি ছাত্রশিবির এবং বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল।
বই পোড়ানোর ঘটনা (Book Burned In Bangladesh)
‘প্রথম আলো’ প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, সোমবার দুপুরে একদল ছাত্র ইনস্টিটিউটের গ্রন্থাগারে ঢুকে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগ সম্পর্কিত বইগুলো আলাদা করে সংগ্রহ করে বাইরে নিয়ে যায়(Book Burned In Bangladesh)। পরে মাঠে সেগুলো স্তূপ করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বই পোড়ানোর সময় শিবির ও ছাত্রদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা স্লোগানও দেন।
অধ্যক্ষের বক্তব্য (Book Burned In Bangladesh)
বরগুনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অনিলচন্দ্র কার্তুনিয়া বলেছেন,
“বইগুলো পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কেনা হয়েছিল। আমি দেড় মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছি। বইগুলি কোথায় রাখা ছিল সে বিষয়ে কিছুই জানতাম না।”
তবে তিনি স্বীকার করেন, এই ঘটনার ফলে গ্রন্থাগারের বিশাল ক্ষতি হল এবং শিক্ষার্থীদের গবেষণা বা রেফারেন্সের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বই নষ্ট হয়ে গেল।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট (Book Burned In Bangladesh)
বাংলাদেশের (Muhammad Yunus) রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ঘটনা নতুন নয় (Book Burned In Bangladesh)। গত বছরের ৫ অগস্ট গণবিক্ষোভের পর প্রধানমন্ত্রী পদ ছাড়তে বাধ্য হন শেখ হাসিনা এবং দেশত্যাগ করেন। তার পর থেকেই দেশ জুড়ে আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুকে কেন্দ্র করে নানা প্রতীক ও স্থাপনার উপর আক্রমণ নেমে আসে।
- ঢাকায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়ি, যেটি ‘জাতির পিতা’র ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত স্থান, তা ভাঙচুর করে জামায়াত–শিবিরের কর্মীরা।
- বঙ্গবন্ধুর মূর্তি ভাঙচুর হয়।
- টুঙ্গিপাড়ায় তাঁর সমাধিস্থলেও হামলার চেষ্টা হয়।
- এমনকি ধানমন্ডির বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল।
প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ (Book Burned In Bangladesh)
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, বই পোড়ানো কেবল প্রতীকি সহিংসতা নয়, বরং বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে অস্বীকার করার একটি বিপজ্জনক প্রবণতা(Book Burned In Bangladesh)। ইতিহাসবিদদের মতে, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে ঘিরে থাকা গ্রন্থরাজি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় স্মৃতি ও রাজনৈতিক চেতনার একটি বড় অংশ। এই ধরণের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ইতিহাস থেকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র।
আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা অভিযোগ তুলেছেন, “এটি পরিকল্পিতভাবে করা হচ্ছে। মুজিবের নাম মুছে ফেলতে চাইছে জামায়াত–বিএনপি।” অপর দিকে বিএনপি নেতারা বলছেন, “এটি স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ(Book Burned In Bangladesh)।” বরগুনার এই বই পোড়ানোর ঘটনা আবারও প্রমাণ করছে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংঘাত এখন ইতিহাস ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও ছড়িয়ে পড়েছে। বঙ্গবন্ধুর উত্তরাধিকার মুছে দেওয়ার চেষ্টা যতই হোক না কেন, বিশ্লেষকেরা মনে করছেন—ইতিহাস কখনো পোড়ানো যায় না।