Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: বুধবার লোকসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) কৌতুকপূর্ণ পরিবেশে তিনটি বিতর্কিত বিল উপস্থাপন করেন—সংবিধান (১৩০তম সংশোধনী) বিল, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল (সংশোধনী) বিল, ও জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন (সংশোধনী) বিল(Bill For Removal Of PM CM)। বিল তিনটি এমন বিধান রাখে যাতে প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা কোনও মন্ত্রী যদি পাঁচ বছরের বেশি সাজা হতে পারে এমন অপরাধে গ্রেফতার হয়ে ৩০ ধারাবাহিক দিন কারাভোগ করেন, তাহলে ৩১তম দিনে তাঁকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পদচ্যুত করা হবে।
বিক্ষোভ ও গোলযোগ (Bill For Removal Of PM CM)
বিল পেশের সঙ্গে সঙ্গেই বিরোধী দল উঠেপড়ে বিক্ষোভ শুরু করে(Bill For Removal Of PM CM)। তৃণমূলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সহ অনেকে বিলের কপিগুলো ছিঁড়ে ঘরে ছুড়ে ফেলেন; প্রচন্ড গর্জনে সংসদে ভারচূর্ণ দৃশ্য দেখা যায়। কংগ্রেস, AIMIM ও অন্যান্য বিরোধী দল বিলকে “ড্রাকোনিয়ান” বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং দাবি করেছেন, কেন্দ্রীয় সংস্থা ব্যবহার করে বিরোধী রাজ্যের সরকারকে অচল করা হবে।
কংগ্রেসের আক্রমণ ও শাহের প্রতিক্রিয়া (Bill For Removal Of PM CM)
কংগ্রেস সাংসদ কে.সি. ভেনুগোপাল সময়ে আমলান তুলে এনে অমিত শাহের বিরুদ্ধে সোহরাবুদ্দিন শেখ একাউন্টার মামলায় গ্রেফতারির কথা উল্লেখ করেন(Bill For Removal Of PM CM)। ভেনুগোপাল বলেন, “আপনি তখন নৈতিকতা বজায় রাখলেন কি?” উত্তরে অমিত শাহ জানিয়েছেন, তিনি গ্রেফতারির আগে কর্তব্য থেকে তত্ক্ষণাৎ পদত্যাগ করেছিলেন এবং পরে আদালত তাঁকে বিচ্ছিন্ন করে দেয় — ২০১৪ সালে বিশেষ সিবিআই আদালত বক্তব্যের অভাবে সব অভিযোগ থেকে মুক্তি দিয়েছিল।

আরও পড়ুন : Rajiv Gandhi BirthDay : কীভাবে সমাধান হয়েছিল ভারতের কনিষ্টতম প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর হত্যা রহস্য ?
আইনগত ও সাংবিধানিক উদ্বেগ (Bill For Removal Of PM CM)
AIMIM প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এই বিলকে ‘পুলিশতান্ত্রিক’ উপায়ে দেশকে চালিত করার চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন ও তুলনা করেছেন গেস্টাপোর সঙ্গে(Bill For Removal Of PM CM)। কংগ্রেস নেতা মনীশ তেওয়ারী বলেছেন, এই বিল সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। দেশের শীর্ষ আদালত সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং কবো বলা হয়েছে যে ED–র ব্যবহার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ক্রমশ বাড়ছে—এই প্রেক্ষাপটে বিরোধীরা বলছেন বিলের অপব্যবহার সহজ হবে।
বিলের যুক্তি ও ভবিষ্যৎ প্ৰক্রিয়া (Bill For Removal Of PM CM)
কেন্দ্রের যুক্তি হলো—উচ্চপদের ব্যক্তি যদি গুরুতর অভিযোগে দীর্ঘসময় আটক হয়, তা হলো দায়বদ্ধতার ঘাটতি; তাই স্বচ্ছতার উদ্দেশ্যে নিয়ন্ত্রন বিধান আনা হচ্ছে(Bill For Removal Of PM CM)। শাহ প্রস্তাব করেছেন যে বিলগুলো এক যৌথ সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হোক। তবে বিরোধীদের জবরদস্ত প্রতিরোধ ও গণতান্ত্রিক বিচারের প্রশ্ন উঠায় আইন প্রণয়নের পথ উন্মুক্ত নয়—এটি পার্লামেন্টীয়, আদালতি ও জনমতীয় স্তরে তীব্র বিতর্কের জন্ম দেবে।

৩০ দিনের বিধান এবং পুনরায় নিয়োগের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও, বিলটি রাজনৈতিক মঞ্চে তীব্র বিকাশের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামীদিনে সংসদীয় কমিটি, মামলাবলয়ী বিচারের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ ও জনমতের প্রতিক্রিয়া দেখেই এই বিধান বাস্তবায়নের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।