Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: হিমাচলপ্রদেশে চলতি বর্ষায় প্রকৃতির (Himachal Pradesh Cloudburst) ক্রোধে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে রাজ্যবাসী। শুধু প্রাণহানি নয়, পরিকাঠামো থেকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি পর্যন্ত ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের (SDMA) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০ জুন পর্যন্ত বর্ষার প্রভাবে ৩১০ জনের মৃত্যু ঘটেছে।
মৃত্যুর ঘটনা (Himachal Pradesh Cloudburst)
এই মৃত্যুর মধ্যে বৃষ্টিপাতজনিত বিভিন্ন দুর্ঘটনা যেমন (Himachal Pradesh Cloudburst) ভূমিধস, হড়পা বান, মেঘভাঙা বৃষ্টি, বজ্রপাত, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া ও ডুবে যাওয়ার ঘটনা থেকে ১৫৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। অপরদিকে, সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ১৫২ জন। এসব দুর্ঘটনায় মান্ডি, কাংড়া, চাম্বা, কিন্নৌর ও কুল্লু জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিধস ও হড়পা বানে কমপক্ষে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, ডুবে মারা গেছেন ৩৩ জন।
দুর্ঘটনার খবর (Himachal Pradesh Cloudburst)
পিচ্ছিল রাস্তা, কম দৃশ্যমানতা এবং ভূমিধসের কারণে সড়ক দুর্ঘটনা (Himachal Pradesh Cloudburst) বৃদ্ধি পেয়েছে। চাম্বা ও মান্ডিতে ২২ জন, কাংড়ায় ১৯ জন, সোলানে ১৬ জন এবং শিমলায় ১৫ জন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে। বিলাসপুর, কিন্নৌর ও কুল্লু জেলা থেকেও মারাত্মক দুর্ঘটনার খবর এসেছে।
বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর ক্ষতি!
বর্ষার এই দুর্যোগে সরকারি পরিকাঠামোও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২.৪৫ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। রাজ্যের জনপথ বিভাগ (PWD) একাই ১.৩১ লক্ষ কোটি টাকার রাস্তা ক্ষতির রিপোর্ট দিয়েছে। জল শক্তি বিভাগ (JSV) জল সরবরাহ ও সেচ ক্ষেত্রের জন্য ৮৭,৭২৬ কোটি টাকার ক্ষতি রেকর্ড করেছে। বিদ্যুৎ খাতে বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর ক্ষতি প্রায় ১৩,৯৪৬ কোটি টাকা।
বাড়িঘরের ব্যাপক ক্ষতি
বাড়িঘর ও ব্যক্তিগত সম্পত্তিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ৩২৪টি বাড়ি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়েছে, ৩৯৬টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত। হাজার হাজার দোকান, গোয়ালঘর এবং অন্যান্য কাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া, গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগির ব্যাপক ক্ষতির তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ১,৮৪৬টি গবাদি পশু এবং ২৫,৭৫৫টি হাঁস-মুরগির মৃত্যু হয়েছে।

আরও পড়ুন: Stock Market Crash: বাজারে বড় ধস, মার্কিন শুল্ক বৃদ্ধির খবরেই সেনসেক্স লাফিয়ে পড়ল ৮৪৯ পয়েন্ট!
রাজ্য জরুরি অপারেশন সেন্টারের (SEOC) তথ্য অনুযায়ী, তিনটি জাতীয় সড়ক সহ ৬৭০টিরও বেশি রাস্তা বন্ধ রয়েছে। ১,৪১৩টি বিদ্যুৎ বিতরণ ট্রান্সফরমার ব্যাহত এবং ৪২০টি জল সরবরাহ প্রকল্প বন্ধ রয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিঘ্নিত হয়েছে, বিশেষ করে চাম্বা জেলার কিছু অংশ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। মান্ডি, কুল্লু, কাংড়া ও শিমলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ভূমিধস ও ধ্বংসাবশেষের কারণে চলাচলের জন্য অযোগ্য হয়ে পড়েছে।