Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: সন্তান জন্মের পর একজন নতুন মা যেমন অপরিসীম আনন্দ লাভ করেন (Postpartum Depression), তেমনি শারীরিক ও মানসিকভাবে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়েও যেতে হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত সমস্যা হলো পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন বা প্রসব-পরবর্তী বিষণ্নতা। অনেক সময় এই পরিস্থিতি এতটাই কঠিন হয়ে ওঠে যে, মা নিজের ভেতরের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। আবার ধীরে ধীরে নিজেকে সামলে নিলে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার পথও তৈরি হয়। সাধারণ মায়েদের মতো বলিউডের নামী তারকারাও এই অভিজ্ঞতা থেকে বাদ যাননি। কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায়, কেউ সাক্ষাৎকারে খোলামেলা ভাবে জানিয়েছেন কীভাবে তাঁরা প্রসব-পরবর্তী মানসিক চাপ কাটিয়ে উঠেছেন এবং শরীর–মনকে আবার নতুন করে ভালোবেসেছেন।
আলিয়া ভাট (Postpartum Depression)
“সন্তান জন্মের দেড় মাস পর ধীরে ধীরে নিজেকে ফিরে পাই”
জনপ্রিয় অভিনেত্রী আলিয়া ভাট মা হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই শারীরিক পরিবর্তনের মুখোমুখি হন। বাড়তি ওজন তাঁকে মানসিক চাপে ফেলে দেয়। তবে আলিয়া হাল ছাড়েননি। তিনি জানান, সন্তান প্রসবের প্রায় দেড় মাস পরে ধীরে ধীরে নিজের ভেতরের শক্তি ও আত্মবিশ্বাস ফিরে পান। সেই সময় থেকে যোগব্যায়াম প্রশিক্ষকের সহায়তায় আবারও নিয়মিত অনুশীলন শুরু করেন।
আলিয়া মায়েদের জন্য সতর্কবার্তাও দিয়েছেন। তাঁর মতে, শরীর যখন প্রস্তুত না থাকে, তখন জোর করে কোনো ব্যায়াম করা উচিত নয়। প্রথম দিকে তিনি শুধু হাঁটা এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন করতেন। ধীরে ধীরে শরীরচর্চা বাড়ান। তাঁর ভাষ্য—“প্রসব-পরবর্তী শরীরকে আবার ভালোবাসা শুরু করাটা কঠিন হলেও সময়ের সঙ্গে সহজ হয়ে যায়। প্রতিটি শরীর ভিন্ন, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই ব্যায়াম শুরু করা উচিত।”
বিপাশা বসু (Postpartum Depression)

“নিজের প্রতি সদয় থেকেছি”
২০২০ সালে মা হওয়ার পর বিপাশা বসু খোলামেলা স্বীকার করেন যে, তিনিও পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন। তবে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন—“কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।” সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ব্যায়ামের ভিডিও শেয়ার করলেও তিনি সর্বদা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে প্রসব-পরবর্তী এই সংগ্রাম বাস্তব।
বিপাশার কথায়, “আমি সবসময় নিজের শরীরকে ভালোবেসেছি। মা হওয়ার পরও চেষ্টা করেছি নিজের প্রতি কোমল থাকতে। নিজেকে বোঝাতাম, আমি একটি নতুন প্রাণকে পৃথিবীতে এনেছি—এটাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।” তাঁর এই মানসিকতা তাঁকে আবার আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দেয়।
সোনম কাপুর (Postpartum Depression)

“আমাকে নিজের মতো অনুভব করতে ১৬ মাস লেগেছে”
২০২২ সালে প্রথমবার মা হন সোনম কাপুর। সন্তান জন্মের পর দীর্ঘ সময় ধরে তিনি মানসিক ও শারীরিক টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন। ইনস্টাগ্রামে খোলাখুলি লিখেছিলেন—“নিজের মতো স্বাভাবিক হতে আমার প্রায় ১৬ মাস লেগেছে।”
তিনি বাড়তি ওজন কমাতে কোনো ক্র্যাশ ডায়েট বা কঠিন ব্যায়ামের পথ নেননি। বরং ধীরে ধীরে নিজের এবং সন্তানের যত্ন নিয়েছেন। তাঁর মতে, এ সময়টাও জীবনের আরেকটি পর্যায়, যা ধৈর্যের সঙ্গে সামলাতে হয়। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, নারীর শরীরের ভেতরে নতুন প্রাণ সৃষ্টির অভিজ্ঞতা নিজেই এক অলৌকিক ব্যাপার।
সোহা আলি খান (Postpartum Depression)

“প্রথম কয়েক সপ্তাহে ভীষণ কষ্ট হয়েছিল”
২০১৭ সালে মা হওয়ার পর সোহা আলি খান খোলাখুলি জানান, পোস্টপার্টামের শুরুটা তাঁর জন্য ভীষণ কঠিন ছিল। শিশুর কান্না শুনে তিনি নিজেও অঝোরে কাঁদতেন। স্বামীর সহযোগিতায় তিনি ধীরে ধীরে মানসিক শক্তি ফিরে পান।
এক সাক্ষাৎকারে সোহা বলেন, “প্রসবের পর একজন নতুন মা নানা উত্থান–পতনের মধ্যে দিয়ে যান। বাইরের দুনিয়া হয়তো আনন্দে মেতে থাকে, কিন্তু মাকে সারাক্ষণ ঘরে থাকতে হয়। এতে মন খারাপ হওয়াটাই স্বাভাবিক।” তাঁর মতে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সব ঠিক হয়ে যায়।
এশা দেওল

“আমার মা-ই বুঝিয়েছিলেন, আমি পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনে ভুগছি”
অভিনেত্রী এশা দেওল দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর প্রবল মানসিক চাপ ও নিঃসঙ্গতার মধ্যে পড়েন। তাঁর ভাষ্য—“প্রথমবার মা হওয়ার সময় কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু দ্বিতীয়বার প্রসবের পরে হঠাৎ ভীষণ একাকিত্ব আমাকে গ্রাস করে। জীবনের সবচেয়ে আনন্দের সময়েও হাসতে পারছিলাম না।”
এই কঠিন সময়ে তাঁর মা হেমা মালিনী তাঁকে বুঝিয়ে দেন, এটি আসলে পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন। মায়ের বোঝাপড়া ও মানসিক সমর্থনই তাঁকে ধীরে ধীরে সুস্থ করে তোলে।
আরও পড়ুন: Sridevi: শ্রীদেবীর সম্পত্তি নিয়ে বিতর্ক, আইনের দ্বারস্থ বনি কাপুর
সন্তান জন্মের পর নতুন মায়েদের জন্য শারীরিক পরিবর্তন, মানসিক ওঠাপড়া, নিদ্রাহীনতা, ওজন বৃদ্ধি—সবকিছুই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আসে। বলিউডের এই তারকামায়েরা তাঁদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করে দেখিয়েছেন, এই সংগ্রাম বাস্তব হলেও তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। পরিবার, চিকিৎসক ও নিজের মানসিক শক্তি—সব মিলে পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন জয় করা যায়।