Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ডিমকে আমরা সাধারণত এক অসাধারণ পুষ্টির উৎস হিসেবেই চিনি (Natural skin care)। সকালের নাশতায় সেদ্ধ ডিম, পোচ বা ডিমের কারি—যেভাবেই খাওয়া হোক না কেন, ডিম শরীরকে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ, প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট সরবরাহ করে। তবে ডিম শুধু শরীরের ভেতরে নয়, সৌন্দর্যচর্চার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। অনেকেই হয়তো জানেন না, ডিমের সাদা অংশ ও কুসুম সরাসরি ত্বকে লাগালে নানা ধরনের উপকার পাওয়া যায়।
ডিমে রয়েছে ভিটামিন এ, ডি, ই, বি১২, প্রোটিন, বায়োটিন, সেলেনিয়াম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসহ নানা পুষ্টি উপাদান। এগুলি ত্বক ও চুলের যত্নে ভেতর থেকে যেমন কাজ করে, তেমনি বাইরে থেকে প্রয়োগ করলে ত্বক উজ্জ্বল, মসৃণ ও টানটান করে তোলে।

ত্বকের জন্য ডিমের উপকারিতা (Natural skin care)
ডিমের সাদা অংশ (Natural skin care)
- ত্বক টানটান করে: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা কমতে থাকে। ডিমের সাদা অংশে থাকা প্রোটিন কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে, ফলে ত্বক টানটান থাকে।
- অতিরিক্ত তেল কমায়: তৈলাক্ত ত্বক যাদের সমস্যা, তাদের জন্য ডিমের সাদা অংশ প্রাকৃতিক অয়েল কন্ট্রোলারের মতো কাজ করে।
- রোমকূপ সংকুচিত করে: বড়ো বড়ো রোমকূপে ময়লা জমে ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। ডিমের সাদা অংশ লাগালে রোমকূপ ছোট হয়ে আসে।
ডিমের কুসুম
- ত্বক নরম করে: কুসুমে রয়েছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও ভিটামিন, যা শুষ্ক ত্বককে আর্দ্র রাখে।
- ময়শ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে: যাদের ত্বক শুষ্ক ও খসখসে, তাদের জন্য কুসুম প্রাকৃতিক ময়শ্চারাইজারের মতো কাজ করে।
ব্যবহারের উপায় (Natural skin care)
১. তেলতেলে ত্বকের জন্য
ডিমের সাদা অংশ ভালো করে ফেটিয়ে নিন। ব্রাশ বা আঙুল দিয়ে সমানভাবে মুখে লাগান। ১৫ মিনিট পর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত করলে ত্বকের অতিরিক্ত তেল কমবে এবং মুখ টানটান হবে।
২. শুষ্ক ত্বকের জন্য (Beauty Tips)
ডিমের কুসুমের সঙ্গে ১ চামচ মধু মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। ১৫–২০ মিনিট মুখে রেখে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বক নরম, মসৃণ ও আর্দ্র রাখবে।
৩. উজ্জ্বল ত্বকের জন্য
ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস ও আধা চামচ মধু মিশিয়ে নিন। সপ্তাহে ১–২ বার ব্যবহার করলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে এবং দাগ-ছোপ হালকা হবে।
৪. মৃত কোষ দূর করার জন্য
ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে ওটস মিশিয়ে হালকা স্ক্রাব বানিয়ে নিন। এটি মুখে হালকা করে ঘষে নিন। এতে মৃত কোষ দূর হবে, ত্বক মসৃণ ও সতেজ দেখাবে।

কী কী মাথায় রাখবেন? (Natural skin care)
- অ্যালার্জি পরীক্ষা করুন: অনেকের ডিমে অ্যালার্জি থাকতে পারে। খেলে যেমন সমস্যা হয়, তেমনি ত্বকে লাগালে চুলকানি, র্যাশ, জ্বালাভাব দেখা দিতে পারে। তাই ব্যবহার করার আগে সবসময় হাতে বা গলার পাশে ছোট জায়গায় টেস্ট করে নিন।
- পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা জরুরি: কাঁচা ডিমে ব্যাকটেরিয়া (যেমন স্যালমোনেলা) থাকতে পারে। তাই ডিম ব্যবহার করার সময় মুখ ও হাত ভালোভাবে পরিষ্কার রাখুন।
- বারবার ব্যবহার করবেন না: সপ্তাহে ২–৩ বারের বেশি ব্যবহার করলে ত্বক অতিরিক্ত শুকনো বা রুক্ষ হয়ে যেতে পারে।
- চোখ ও ঠোঁটের কাছে লাগাবেন না: কাঁচা ডিম ত্বকের সেনসিটিভ জায়গায় জ্বালা করতে পারে।
ডিম শুধু শরীরের পুষ্টির জন্যই নয়, সৌন্দর্যচর্চার জন্যও এক অনন্য উপাদান। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এটি প্রাকৃতিক ফেসপ্যাক, স্ক্রাব ও ময়শ্চারাইজারের কাজ করতে পারে। তবে অবশ্যই সঠিক নিয়ম মেনে ও সাবধানতা অবলম্বন করে ব্যবহার করা উচিত। আর মনে রাখতে হবে—ত্বক সুস্থ রাখার জন্য শুধু বাহ্যিক যত্নই নয়, ভেতরের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও পর্যাপ্ত জলপানও সমান জরুরি।