Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভয়াবহ মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে ফের বিপর্যস্ত (Vaishno Devi Landslide) জম্মু-কাশ্মীর। মঙ্গলবার সকালে প্রবল বর্ষণের কারণে বৈষ্ণোদেবী যাত্রাপথে ডোডা এবং কাটরা অঞ্চলে ব্যাপক ধস নামে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অন্তত ৩২ জন পুণ্যার্থী প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৫ জন। এখনও বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকাজ চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়।
ইন্দ্রপ্রস্থ ভোজনালয়ের কাছে এই ধস নামে (Vaishno Devi Landslide)
বৈষ্ণোদেবী যাত্রাপথের অর্ধকুঁয়ারীতে ইন্দ্রপ্রস্থ ভোজনালয়ের কাছে এই ধস (Vaishno Devi Landslide) নামে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এক সেকেন্ডের মধ্যে পাহাড় ভেঙে পড়ে, কেউ পালানোর সুযোগও পাননি। এক শোকস্তব্ধ পুণ্যার্থী বলেন, “আমরা মাতারানির দর্শন করতে যাচ্ছিলাম, হঠাৎ বাজ পড়ার শব্দ শুনে কিছু বুঝে ওঠার আগেই চারপাশে ধস নেমে এল।” ঘটনায় অনেকেই তাদের স্বজন হারিয়েছেন।
আর্থিক সাহায্য ঘোষণা (Vaishno Devi Landslide)
দুর্ঘটনার জেরে বৈষ্ণোদেবী যাত্রা আপাতত স্থগিত করা (Vaishno Devi Landslide) হয়েছে। জম্মু-পাঠানকোট জাতীয় সড়ক ও জম্মু-কাটরা রেলপথে বন্ধ রয়েছে যান চলাচল। বাতিল করা হয়েছে একাধিক ট্রেন। ফলে অসংখ্য পুণ্যার্থী আটকে পড়েছেন বিভিন্ন স্থানে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ শোকপ্রকাশ করেছেন। যোগী আদিত্যনাথ নিহতদের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছেন।
অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান
উত্তরপ্রদেশের লখনউ থেকে যাওয়া একদল পুণ্যার্থী অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। তাদের একজন জানান, “আমরা দর্শন সেরে ফেরার পথে ২০০ মিটার আগে আটকে দেওয়া হয়। চারপাশে ধস নেমেছে শুনে আর এগোতে পারিনি। দূর থেকে যা দেখেছি, সেটাই ভয়াবহ।”

আরও পড়ুন: Health Tips: ডিটক্স থেকে মেটাবলিজম—সবই এক গ্লাসে?
এই দুর্ঘটনা প্রশ্ন তুলছে-এমন দুর্যোগের পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও কেন পর্যাপ্ত সতর্কতা নেওয়া হয়নি? প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লা বলেন, “যদি আগেই আবহাওয়ার সঠিক সতর্কবার্তা থাকত, তাহলে হয়তো এই প্রাণগুলো বাঁচানো যেত। সব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।” মাত্র ১২ দিন আগেই প্রবল বৃষ্টিতে জম্মুর একাধিক এলাকায় ধস এবং হড়পা বানে ক্ষয়ক্ষতি হয়। এবারের ধস ফের প্রমাণ করল, ভূস্বর্গে প্রকৃতির রোষ কতটা ভয়ংকর হতে পারে।