Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতের উপর ৫০ শতাংশ ট্যারিফ চাপানোর পর যখন দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তীব্র হয়েছে, তখন আশার বার্তা দিলেন মার্কিন প্রশাসনেরই শীর্ষ এক কর্মকর্তা(US Tariff On India)। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টক বেসেন্ট স্পষ্ট জানিয়েছেন, “শেষ পর্যন্ত ভারত ও আমেরিকা একসঙ্গে এগোবে।”
ট্রাম্পের শুল্কের পর কূটনৈতিক টানাপোড়েন (US Tariff On India)
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald J. Trump) গত ৭ আগস্ট ভারতীয় পণ্যের উপর প্রথমে ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চাপান(US Tariff On India)। পরে সেটি বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়। ফলে টেক্সটাইল, জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি, চামড়া এবং চিংড়ি শিল্প ভয়ঙ্কর সংকটে পড়েছে। প্রায় ৪ লাখ শ্রমিকের চাকরি ঝুঁকির মুখে। ভারতের অভিযোগ, এই শুল্ক আসলে রাশিয়া থেকে ভারত তেল ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনছে বলেই চাপানো হয়েছে। ট্রাম্প মনে করেন, তাতে রাশিয়া যুদ্ধের অর্থ জোগাড় করছে।
বেসেন্টের আশাবাদী মন্তব্য (US Tariff On India)
এই পরিস্থিতিতেই মার্কিন অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট বলেন, “ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র আর আমেরিকা বৃহত্তম অর্থনীতি(US Tariff On India)। আমাদের সম্পর্ক জটিল হলেও মজবুত। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান।”
তিনি আরও জানান, ভারত ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় সবচেয়ে আগে এগিয়ে এসেছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনও চুক্তি হয়নি, তবে কূটনৈতিক পর্যায়ে কথাবার্তা চলছে।

আরও পড়ুন : Landslide In Vaishno Devi : বৈষ্ণোদেবীর পথে ধস, মৃত পাঁচ পুণ্যার্থী
ভারতের কৌশলগত প্রতিক্রিয়া (US Tariff On India)
ভারতীয় সরকারি সূত্রের দাবি, আমেরিকার এই সিদ্ধান্ত হয়তো পুনর্বিবেচনা করা হবে(US Tariff On India)। কারণ ভারতের রপ্তানি বাজার বহুমুখী। শুধুমাত্র আমেরিকার উপর নির্ভরশীল নয়। তাই এই চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব।
এদিকে, দিল্লি ইতিমধ্যেই পাল্টা কৌশল নিয়েছে। টেক্সটাইল রপ্তানি বাড়াতে যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, কানাডা, মেক্সিকো, রাশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া—সহ অন্তত ৪০টি দেশে প্রচারাভিযান শুরু হয়েছে।
ট্রাম্পের নতুন দাবি (US Tariff On India)
এই টানাপোড়েনের মাঝেই ট্রাম্প আরও এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন(US Tariff On India)। তাঁর বক্তব্য, “ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধকে আমি পারমাণবিক যুদ্ধে রূপান্তরিত হতে দিইনি। আমি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলাম, যদি যুদ্ধবিরতি না হয়, তবে আমি বাণিজ্যিক চুক্তি করব না এবং বাড়তি শুল্ক চাপাব।”
তিনি আরও দাবি করেন, ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষে “শতাধিক বিমান ধ্বংস হয়েছিল।” যদিও এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেননি।

আরও পড়ুন : Israel Gaza Conflict :গাজায় চার সাংবাদিকের মৃত্যুতে দুঃখপ্রকাশ নেতানিয়াহুর
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
বিশ্লেষকদের মতে, ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক আপাতত বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক চাপে থাকলেও দুই দেশের কৌশলগত প্রয়োজনীয়তা এতটাই প্রবল যে সম্পর্ক ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা নেই(US Tariff On India)।বরং দীর্ঘমেয়াদে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানেই পৌঁছানো সম্ভব।
ভারতের উপর শুল্ক যুদ্ধ নিঃসন্দেহে বিপুল চাপ সৃষ্টি করেছে। তবে মার্কিন প্রশাসনের ভেতর থেকেই আশ্বাস আসায় কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে নয়াদিল্লি। দুই দেশের মধ্যে জটিলতা থাকলেও শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থই শেষ পর্যন্ত তাদের একত্রে নিয়ে আসবে, এমনটাই ধারণা আন্তর্জাতিক মহলের।