Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : বিশ্বের অন্যতম প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত দেশ জাপান আজ জনসংখ্যা হ্রাসের ভয়ঙ্কর সংকটে দাঁড়িয়ে(RSS Mohan Bhagwat)। মাত্র গত বছরেই দেশটির জনসংখ্যা কমেছে ৯০ হাজার, যা আধুনিক ইতিহাসে কোনও দেশের জন্য সবচেয়ে বড় পতন। বর্তমানে জাপানের প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষই ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে। যদি এই প্রবণতা চলতে থাকে, তবে ২০৫৬ সালের মধ্যে জাপানের জনসংখ্যা নেমে আসতে পারে ১০ কোটি’রও নিচে, যেখানে ১৫ বছর আগে তা ছিল ১২.৮ কোটি।
কম জন্মহার ও সামাজিক কাঠামোর সংকট (RSS Mohan Bhagwat)
এই সংকটের মূল কারণ জাপানের জন্মহার। বর্তমানে প্রতি মহিলার গড় সন্তান সংখ্যা মাত্র ১.২০, যেখানে জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজন ২.১(RSS Mohan Bhagwat)। প্রতি বছর জন্ম সংখ্যা ৮ লক্ষেরও নিচে নেমে এসেছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কমেছে বিয়ে, যা সন্তান জন্মের জন্য এখনো প্রধান সামাজিক ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়।
নারীর ভূমিকা ও সাংস্কৃতিক চাপ (RSS Mohan Bhagwat)
১৯৭০-এর দশক থেকে জন্মহার কমতে শুরু করে(RSS Mohan Bhagwat)। নারীরা শিক্ষায় এগিয়ে গেলেও কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগ পাননি। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, অনমনীয় কর্পোরেট কাঠামো এবং পুরনো সামাজিক প্রত্যাশা নারীদের সংসার ও কর্মজীবন সামলানো কঠিন করে তোলে। ফলে অনেকে বিয়ে ও সন্তান জন্মদান থেকে বিরত থাকতে শুরু করেন। পুরুষদের ক্ষেত্রেও আর্থিক অনিশ্চয়তা, শহরে ব্যয়বহুল জীবনযাত্রা এবং অস্থায়ী চাকরির কারণে পরিবার গঠন হয়ে ওঠে চ্যালেঞ্জ।
গ্রামাঞ্চল খালি হয়ে যাওয়া (RSS Mohan Bhagwat)
জনসংখ্যা হ্রাসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জাপানের গ্রামাঞ্চল। গ্রামীণ শহরগুলো ক্রমশ খালি হয়ে যাচ্ছে, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। শ্রমিকসংখ্যা কমে যাওয়ায় দেশের অর্থনৈতিক গতিও দুর্বল হয়ে পড়েছে। সরকার সন্তান জন্মে উৎসাহ দিতে আর্থিক সহায়তা, ডে-কেয়ারে ভর্তুকি এবং পিতৃত্বকালীন ছুটির মতো উদ্যোগ নিলেও সমস্যার গভীর শিকড় এখনো অটুট।

আরও পড়ুন : Modi Gift Japan First Lady : জাপানের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীকে মোদির বিশেষ উপহার! কী উপহার দিলেন?
ভারতের জন্য সতর্কবার্তা (RSS Mohan Bhagwat)
ভারতের আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) সম্প্রতি এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেছেন, প্রতিটি পরিবারে অন্তত তিন সন্তান থাকা উচিত(RSS Mohan Bhagwat)। তাঁর মতে, জাপানের মতো অবস্থায় না পড়তে হলে এখন থেকেই সচেতন হতে হবে। দক্ষিণ ভারতের কয়েকটি রাজ্যে জন্মহার ইতিমধ্যেই প্রতিস্থাপন স্তরের নিচে নেমে গেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ভারতের শ্রমশক্তি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন : PM Modi Japan Visit : ইশিবার সঙ্গে মোদির বৈঠকে ‘বুলেট ট্রেন’ প্রসঙ্গ! আরও কী কী বিষয়ে আলোচনা ?
বৈশ্বিক দৃষ্টিকোণ (RSS Mohan Bhagwat)
এ বিষয়ে শুধু ভাগবত নন, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডুও বারবার সতর্ক করেছেন(RSS Mohan Bhagwat)। বিশ্বজুড়ে এলন মাস্কও জন্মহারের পতনকে “মানবতার সবচেয়ে বড় হুমকি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং জাপানকে উদাহরণ টেনে বলেছেন, এটি এক ধীরে ধীরে পতনশীল সমাজের প্রতিচ্ছবি।
জাপানের অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, জনসংখ্যা সংকট হঠাৎ তৈরি হয় না। এটি কয়েক দশকের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতায় গড়ে ওঠে। একবার শুরু হলে তা উল্টানো প্রায় অসম্ভব। ভারতের জন্য তাই এখনই সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, যাতে জনসংখ্যাগত শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে স্থায়ী উন্নয়নের ভিত্তি তৈরি করা যায়।