ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: অন্নপূর্ণা (Annapurna Puja) দেবী হলেন মা দুর্গার আর এক রূপ। যিনি দেবী অন্নদা নামেও পরিচিত। অন্ন কথার অর্থ খাবার, আর পূর্ণা-র অর্থ হল পূর্ণ। অর্থাত্ যিনি অন্নদাত্রী। যার পুজো করলে অন্নের অভাব হবে না আপনার কখনোই। দেবীর দু হাতে অন্নপাত্র ও হাতা থাকে। কখনও তিনি একাই বিরাজ করছেন আর কখনও বা অন্ন দিচ্ছেন মহাকালকে। চৈত্র মাসের শুক্লা অষ্টমী তিথিতে দেবী অন্নপুর্ণার পুজা করা হয়।
বিভিন্ন পুরাণ ও মঙ্গলকাব্য (Annapurna Puja)
মার্কণ্ডেয় পুরাণের কাশীখণ্ড, দেবী ভাগবত পুরাণ ও অন্যান্য পুরাণ এবং কাশীপরিক্রমা ইত্যাদি গ্রন্থে দেবী অন্নপূর্ণা সংক্রান্ত নানা কাহিনি প্রচারিত হয়েছে। এগুলির মধ্যে দুটি কাহিনি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য – কাশীপ্রতিষ্ঠার উপাখ্যান ও ব্যাসকাশী প্রতিষ্ঠার উপাখ্যান। এছাড়াও রায়্গুনাকার ভারতচন্দ্র দেবী অন্নপূর্ণার (Annapurna Puja) কথা উল্লেখ করে অন্নদামঙ্গল কাব্য রচনা করেছিলেন, যেখানে মা অন্নপূর্ণার মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হয়েছে। তাঁর গ্রন্থে তিনি দেবীর উত্থান থেকে মাহাত্ম্য সব কথাই বলেছেন প্রায়।

দেবী মহিমা প্রচারে কাশী নির্মাণ (Annapurna Puja)
পুরাণ মতে বিবাহের পর কৈলাশ শিখরে শিব ও পার্বতী বেশ সুখেই দাম্পত্যজীবন কাটাচ্ছিলেন। শিব ছিলেন দরিদ্র। আর্থিক অনটনের জেরে বেশ কিছুদিন পরই শুরু হয় দাম্পত্যকলহ। একদিন পাশা খেলা রত শিব পার্বতীকে মায়া অপমান করেন। রাগে পার্বতী কৈলাস ত্যাগ করেন। ত্রিলোক জুড়ে শুরু হয় মহামারি, অন্নের হাহাকার। ভক্তকে রক্ষা করতে ভগবান শিব অন্নের সন্ধান শুরু করেন ছদ্মবেশে। মহামায়া পার্বতীর মায়ায় তিনি ভিক্ষে পাচ্ছিলেন না কোথাও। তিনি কাশীতে এক নারীর কথা শোনেন, যিনি সকলকে অন্নদান করছেন। সেই নারী যে পার্বতী তা বুঝতে পারেন শিব। পরে চিনতে পেরে দেবী মহিমা প্রচারের জন্য কাশী নির্মাণ করে সেখানে অন্নপূর্ণার মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন শিব।

বাংলায় প্রথম অন্নপূর্ণা পুজো
চৈত্র মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে সেখানে মায়ের আবির্ভাব হয়েছিল, সেই থেকে সেখানে মায়ের পুজোর প্রচলন হয় যা আজ অন্নপূর্ণা পুজো নামে বিখ্যাত। কাশীতে দেবী অন্নপূর্ণার বিখ্যাত মন্দির রয়েছে। সেখানে প্রতি বছর এই দিনটিতে দেবীর ধুমধাম করে পুজো হয়ে থাকে। এই মন্দিরে অন্নকূট উত্সব বিখ্যাত। এছাড়া হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে এই পূজো অতি প্রসিদ্ধ। বাংলার বিভিন্ন জায়গায় হয়ে থাকে এই অন্নপূর্ণা পুজো। প্রচলিত কিংবদন্তি অনুসারে, নদিয়া রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা ভবানন্দ মজুমদার, রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের পিতা দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে বাংলায় প্রথম অন্নপূর্ণা পুজোর প্রচলন করেন।