Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ওয়াশিংটনে ব্যক্তিগত এক নৈশভোজের আসরে আবারও পারমাণবিক হুমকি দিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির (Nuclear Threat)। বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমরা একটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। যদি মনে করি আমরা ডুবে যাচ্ছি, তবে আমাদের সঙ্গে আমরা অর্ধেক বিশ্বকে ডুবিয়ে দেব।” এই হুমকি শুধু ভারতের দিকেই নয়, বরং গোটা “দক্ষিণ এশিয়া” এবং প্রতীকীভাবে “অর্ধেক বিশ্ব”-এর দিকে ছুঁড়ে দিলেন মুনির।
ঘটনাটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এটি ঘটেছে মার্কিন মাটিতে—ভারতের কৌশলগত মিত্রের ভূখণ্ডে। এমন এক সময়ে যখন মার্কিন-ভারত সম্পর্ক বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনায় টানাপোড়েনের মুখে, মুনিরের মন্তব্য কূটনৈতিক মহলে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
নাগাসাকি দিবসে হুমকি (Nuclear Threat)
৮০ বছর আগে, ১৯৪৫ সালের ৯ আগস্ট, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাপানের নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করেছিল, যা সেই বছর শেষ হওয়ার আগে প্রায় ১,৭০,০০০ মানুষের প্রাণ কেড়েছিল (Nuclear Threat)। সেই ঐতিহাসিক দিনে, মুনিরের পারমাণবিক হুমকি শুধু নৈতিক দিক থেকেই বিতর্কিত নয়, বরং আন্তর্জাতিক শান্তি প্রচেষ্টার পরিপন্থী।
মার্কিন সফরের কৌশলগত গুরুত্ব (Nuclear Threat)
এটি ছিল দুই মাসের মধ্যে মুনিরের দ্বিতীয় মার্কিন সফর(Nuclear Threat)। গত ১৮ জুন হোয়াইট হাউসে বিরল এক নৈশভোজে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল—যা সাধারণত রাষ্ট্রপ্রধানদের জন্য সংরক্ষিত। বিশ্লেষকদের মতে, এটি স্পষ্ট সংকেত যে ওয়াশিংটন আবারও পাকিস্তানের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে এবং দেশটির আসল ক্ষমতার কেন্দ্র—সেনাবাহিনীকে স্বীকৃতি দিচ্ছে।
সর্বশেষ সফরে, টাম্পায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (CENTCOM) কমান্ডার জেনারেল মাইকেল কুরিলার অবসর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুনির। এই সুযোগে তিনি পাকিস্তানের অবশিষ্ট সামরিক শক্তি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রদর্শনের চেষ্টা করেন।

প্রবাসীদের উদ্দেশে উসকানি (Nuclear Threat)
মুনিরের এই বক্তব্য ছিল মার্কিন প্রবাসী পাকিস্তানিদের উদ্দেশে(Nuclear Threat)। এর আগে দেশে থেকে কাশ্মীরকে পাকিস্তানের “জুগুলার ভেইন” আখ্যা দিয়ে এবং “হিন্দু-মুসলমান আলাদা” বলে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন। নিরাপত্তা বিশ্লেষক নীতিন এ গোখলে এক্স-এ (পূর্বতন টুইটার) লিখেছেন, “মুনিরের এই হুমকি মূলত ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর জবাব।” এই অভিযানে ভারত পাকিস্তানের সন্ত্রাসী শিবিরে হামলা চালায় এবং প্রতীকী বার্তা দিতে কাইরানা পাহাড়ের কাছে—যেখানে পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রের ভাণ্ডার রয়েছে বলে ধারণা—আঘাত হানে।
অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সংকেত (Nuclear Threat)
পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে, দেশটির কট্টরপন্থী মহল ও সামরিক নেতৃত্বের আস্থা অর্জন করাই মুনিরের অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা(Nuclear Threat)। পারমাণবিক অস্ত্রের উল্লেখ করে তিনি অভ্যন্তরীণভাবে “শক্তির প্রদর্শন” করতে চান এবং ভারতের সম্ভাব্য পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ ঠেকাতে চাইছেন।
কৌশল বিশেষজ্ঞ ঋশভ বৎসের মতে, মুনিরের বক্তব্য পশ্চিমা বিশ্বে পারমাণবিক ভীতি ছড়ানোর পাশাপাশি ভারতের প্রতি এক ধরনের অর্থনৈতিক চাপের বার্তাও বয়ে এনেছে। মার্কিন মাটিতে দেওয়া এক বক্তব্যে মুনির ভারতকে “ঝকঝকে মার্সিডিজ” আর পাকিস্তানকে “পাথরভর্তি ডাম্প ট্রাক” আখ্যা দিয়ে বলেন, “যদি ট্রাকটি গাড়িতে ধাক্কা দেয়, ক্ষতিগ্রস্ত হবে গাড়িটিই।”

আরও পড়ুন: US President Salary : কত বেতন পান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ? একই বেতন পেতেন বুশ-ওবামা
বিশেষজ্ঞদের প্রতিক্রিয়া (Nuclear Threat)
ভারতের অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল পিকে সেহগল এ প্রসঙ্গে বলেন, “পারমাণবিক অস্ত্র কেবল প্রতিরোধের জন্য, ব্যবহারের জন্য নয়। পাকিস্তান যদি ভুলেও তা ব্যবহার করে, পুরো বিশ্বের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে, কিন্তু পাকিস্তানের জন্য তা হবে আত্মহত্যা।” তার মতে, মুনিরের এই হুমকি বাস্তবায়নের চেয়ে প্রদর্শনের জন্যই বেশি।
মার্কিন-ভারত সম্পর্কের প্রেক্ষাপট (Nuclear Threat)
ট্রাম্প (Donald J. Trump) প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি পাকিস্তানকে “দারুণ অংশীদার” আখ্যা দিয়েছে এবং পাকিস্তানের সম্ভাব্য জ্বালানি সম্পদ নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে(Nuclear Threat)। এর বিপরীতে, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের উপর ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসিয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে চাপে ফেলেছে। এই প্রেক্ষাপটে মুনির কৌশলগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজের বক্তব্যের মঞ্চ হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
নীতিনির্ধারক প্রণয় কোঠাস্তানে এক্স-এ লিখেছেন, “মার্কিন মাটিতে দাঁড়িয়ে মুনিরের এই বক্তব্য, যেখানে ট্রাম্প পারমাণবিক যুদ্ধ থামিয়ে নোবেল শান্তি পুরস্কার জিততে চাইছেন, প্রমাণ করে পাকিস্তান আবারও যুক্তরাষ্ট্রকে কৌশলে ব্যবহার করছে।”
আন্তর্জাতিক ইমেজ বনাম অভ্যন্তরীণ লাভ (Nuclear Threat)
মুনিরের এই হুমকি আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের অস্থির ও দায়িত্বজ্ঞানহীন পারমাণবিক শক্তি হিসেবে ভাবমূর্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে(Nuclear Threat)। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এতে তার তেমন কিছু আসে-যায় না—বরং অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তিনি এটি শক্তির প্রতীক হিসেবে কাজে লাগাতে চাইছেন। নিজেই যেমন তুলনা করেছেন, পাকিস্তান যেন “পাথরভর্তি ডাম্প ট্রাক”—যা ধাক্কা দিলে নিজেও ভাঙবে, তবে সামনেরটিকে গুঁড়িয়ে দেবে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই ধরনের বক্তব্য শুধু আঞ্চলিক শান্তিকে বিপন্নই করছে না, বরং পাকিস্তানকে আবারও “অবিশ্বস্ত পারমাণবিক রাষ্ট্র” হিসেবে চিহ্নিত করছে—যা ভবিষ্যতে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে দেশটির জন্য আরও বিপজ্জনক হতে পারে।