Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : পাকিস্তানের ঋণ সংকট দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা ভাণ্ডার (আইএমএফ) এবং বিশ্বব্যাঙ্কের ঋণের বোঝা কাঁধে নিয়ে হাঁসফাঁস করছে ইসলামাবাদ (Asim Munir)। এই পরিস্থিতিতে দেশকে আর্থিক সংকট থেকে মুক্ত করতে বিরল খনিজ সম্পদের উপর বাজি ধরলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। একটি স্থানীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত নিবন্ধে তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানের কাছে বিরল ধাতুর এক বিশাল ভান্ডার রয়েছে, যা কাজে লাগাতে পারলে ঋণের বোঝা অনেকটাই কমবে এবং দেশকে উন্নত অর্থনীতির কাতারে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
বিরল খনিজে সম্ভাবনার আলো (Asim Munir)
আসিম মুনির লেখেন, “পাকিস্তানের মাটির তলায় এমন বহু মূল্যবান খনিজ সম্পদ লুকিয়ে আছে, যা দেশকে স্বনির্ভর করতে সাহায্য করবে(Asim Munir)। এই সম্পদের জোরেই পাকিস্তান আগামী দিনে বিশ্বে সমৃদ্ধ অর্থনীতির দেশ হিসেবে জায়গা করে নেবে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিরল খনিজের গুরুত্ব আজ অত্যন্ত বেশি। বৈদ্যুতিন সামগ্রী, চিপ, ব্যাটারি এবং আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি তৈরিতে এসব খনিজ অপরিহার্য। ফলে পাকিস্তানের কাছে এ ধরনের ভান্ডার থাকা আন্তর্জাতিক মহলে কূটনৈতিক দিক থেকেও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
আমেরিকার নতুন আগ্রহ (Asim Munir)
সম্প্রতি পাকিস্তানের ‘তৈলভান্ডার’ নিয়ে কাজ করার বার্তা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বিশ্লেষকদের মতে, শুধু তেল নয়, আমেরিকার নজর আসলে পাকিস্তানের বিরল খনিজ সম্পদের দিকেও(Asim Munir)। মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট-এর প্রতিবেদন বলছে, পাকিস্তানে প্রচুর অনাবিষ্কৃত খনিজ সম্পদ রয়েছে, যা মার্কিন স্বার্থের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চিনের সঙ্গে আমেরিকার ক্রমবর্ধমান টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের খনিজ ভান্ডার নিয়ে ওয়াশিংটনের আগ্রহ আরও বেড়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

রেকো ডিক প্রকল্পে আশার আলো (Asim Munir)
মুনির তাঁর বক্তব্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন বালোচিস্তানের রেকো ডিক খনি প্রকল্পের কথা(Asim Munir)। এই খনিতে বিপুল পরিমাণ সোনা এবং তামা মজুত রয়েছে বলে মনে করা হয়। যদিও এ নিয়ে প্রমাণিত তথ্য সীমিত, তবুও পাকিস্তানের অন্যতম বড় খনিজ সম্পদ হিসেবে রেকো ডিকের সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনায় রয়েছে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের খনিজ সম্পদ নিয়ে আগ্রহ দেখানোর পর থেকেই বিষয়টির গুরুত্ব আরও বেড়ে গিয়েছে।
কূটনৈতিক বার্তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা (Asim Munir)
পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে (Shehbaz Sharif) শুভেচ্ছা জানিয়ে লিখেছেন, “আমরা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং জ্বালানি খাতে পাকিস্তানের সঙ্গে আরও শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই।” এতে স্পষ্ট, আমেরিকা কৌশলগত দিক থেকেও পাকিস্তানকে পাশে টানতে চায়।

আরও পড়ুন : Russia Ukraine War : ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কির বৈঠকের আগে ইউক্রেনে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রাশিয়ার
অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথ (Asim Munir)
পাকিস্তানের অর্থনীতি গত কয়েক বছরে ভয়াবহ চাপে রয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশটির অর্থনৈতিক ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে পড়েছে(Asim Munir)। এই পরিস্থিতিতে বিরল খনিজকে ভরসা করে পুনরুদ্ধারের পথ খুঁজছেন সেনাপ্রধান মুনির। তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। এই সম্পদ সঠিকভাবে আহরণ, সংরক্ষণ এবং বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতার সঙ্গে মানিয়ে চলা পাকিস্তানের জন্য সহজ হবে না। তবুও আশা জাগছে—যদি সঠিক নীতি গ্রহণ করা যায়, তবে পাকিস্তানের বিরল খনিজ সম্পদই দেশের অর্থনীতিকে নতুন প্রাণ দিতে পারে।