Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ছোট–বড় সবার জন্যই এটি একটি স্বাস্থ্যকর খাবার (Benefits of guava)। পেয়ারাতে প্রচুর ভিটামিন, খনিজ উপাদান, ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা শরীরকে ভেতর থেকে সুস্থ রাখে এবং নানা ধরনের রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। প্রতিদিন শুধু একটি পেয়ারা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুললেও শরীর নানাভাবে উপকৃত হতে পারে। নিচে পেয়ারার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা তুলে ধরা হলো—
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় (Benefits of guava)
পেয়ারাতে প্রচুর ভিটামিন সি রয়েছে (Benefits of guava)। একটি পেয়ারা প্রায় ২–৩টি কমলার সমান ভিটামিন সি সরবরাহ করে। ভিটামিন সি শরীরে শ্বেত রক্তকণিকার কার্যকারিতা বাড়ায়, যা সংক্রমণ প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে নিয়মিত পেয়ারা খেলে সর্দি–কাশি, ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

হজমশক্তি উন্নত করে (Benefits of guava)
পেয়ারা ফাইবারসমৃদ্ধ ফল। প্রতিদিন একটি পেয়ারা খেলে শরীরে পর্যাপ্ত ডায়েটারি ফাইবার পাওয়া যায়, যা হজমতন্ত্রকে সক্রিয় রাখে। এতে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়, পেট পরিষ্কার থাকে এবং গ্যাস বা পেটফাঁপার সমস্যা কমতে সাহায্য করে। হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে পেয়ারা একটি আদর্শ ফল।
রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে
পেয়ারাতে শর্করার পরিমাণ কম, তবে ফাইবার বেশি। ফাইবার রক্তে গ্লুকোজের শোষণ ধীর করে, ফলে হঠাৎ রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায় না। গবেষণায় দেখা গেছে, ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য পেয়ারা অত্যন্ত উপকারী। প্রতিদিন একটি পেয়ারা খেলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেক সহজ হয়।
হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখে (Benefits of guava)
পেয়ারাতে পটাশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং রক্তসঞ্চালন উন্নত করে। এটি খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে ও ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে সহায়ক। নিয়মিত পেয়ারা খাওয়ার অভ্যাস হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনে।
ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে (Benefits of guava)
পেয়ারাতে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ এবং প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা ত্বকের কোষকে ফ্রি র্যাডিক্যালের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। এর ফলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে, ব্রণ ও দাগ কমে যায়, আর বয়সের ছাপ আসতে সময় নেয়। ভেতর থেকে ত্বককে স্বাস্থ্যকর রাখতে পেয়ারা একটি প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে কাজ করে।
মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের জন্য উপকারী
পেয়ারাতে ভিটামিন বি৩ (নিয়াসিন) এবং ভিটামিন বি৬ (পাইরিডক্সিন) রয়েছে। এগুলো মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এবং স্নায়ুকোষকে সক্রিয় রাখে। ফলে মনোযোগ বাড়ে, স্মৃতিশক্তি উন্নত হয় এবং মানসিক স্থিতি বজায় থাকে। পড়াশোনা বা মানসিক পরিশ্রম যাদের বেশি, তাদের জন্য পেয়ারা বিশেষভাবে উপকারী।
ওজন কমাতে সাহায্য করে
যারা ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চান, তাদের জন্য পেয়ারা একটি চমৎকার ফল। এতে ক্যালোরি কম, কিন্তু ফাইবার ও ভিটামিন বেশি। ফাইবারের কারণে দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূত হয়, ফলে অকারণে খিদে লাগে না এবং অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণের প্রবণতা কমে যায়। তাই ডায়েট চার্টে পেয়ারা রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
আরও পড়ুন: Ballygunge: আইনজীবীর রহস্যমৃত্যু, আত্মহত্যা নাকি?
প্রতিদিন একটি পেয়ারা খাওয়া মানে শরীরের জন্য একটি প্রাকৃতিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা। এটি যেমন হজমশক্তি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, তেমনি হার্ট, ত্বক, মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রকেও সুস্থ রাখে। একই সঙ্গে ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। তাই সুস্থ জীবনযাপনের জন্য প্রতিদিন একটি পেয়ারা খাওয়ার অভ্যাস করা যেতে পারে।