Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা অন্য কোনও মন্ত্রী যদি টানা ৩০ দিন হেফাজতে থাকেন, তবে তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব আনা হয়েছে(Bill For Removal Of PM CM)। বুধবার লোকসভায় ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিল পেশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ(Amit Shah)। তবে বিল পেশের আগেই বিরোধীরা এই প্রস্তাবের বিরোধিতা শুরু করেন।
বিরোধীদের হট্টগোল (Bill For Removal Of PM CM)
লোকসভায় বিল উপস্থাপিত হতেই কংগ্রেস, তৃণমূল, সিপিএম-সহ বিরোধী দলগুলি তুমুল বিক্ষোভ দেখায়(Bill For Removal Of PM CM)। সাংসদরা ওয়েলে নেমে স্লোগান তোলেন, এমনকি বিলের প্রতিলিপি ছিঁড়ে প্রতিবাদ জানান। তাঁদের দাবি, এই পদক্ষেপ গণতন্ত্র ও সংবিধানের পরিপন্থী। কংগ্রেস সাংসদ মনীশ তিওয়ারি ও কেসি বেণুগোপাল, মিম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি-সহ অনেকে একসুরে বলেন—এই আইন রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে।
কংগ্রেস ও তৃণমূলের সুর (Bill For Removal Of PM CM)
প্রিয়ঙ্কা গান্ধী লোকসভায় বলেন, “ভবিষ্যতে যে কোনও মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে যে কোনও মামলা করা যেতে পারে। তিনি দোষী সাব্যস্ত না হলেও ৩০ দিন হেফাজতে রাখলেই তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে(Bill For Removal Of PM CM)। এটি সম্পূর্ণ সংবিধানবিরোধী ও অগণতান্ত্রিক।”
তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও অভিযোগ করেন, বিজেপি সরকার বিরোধী দলগুলিকে কোণঠাসা করতে চাইছে। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, “সরকার কৃষক-শ্রমিকের উন্নয়ন বা সীমান্ত রক্ষায় ব্যর্থ। ইডি-কে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে বিরোধীদের ভাঙার চেষ্টা করছে।”

আরও পড়ুন : Rajiv Gandhi BirthDay : কীভাবে সমাধান হয়েছিল ভারতের কনিষ্টতম প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর হত্যা রহস্য ?
সিপিএমের বক্তব্য (Bill For Removal Of PM CM)
সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি সমাজমাধ্যমে লেখেন, “৩০ দিন হেফাজতের পরে প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রীদের ক্ষমতাচ্যুত করার প্রস্তাব আসলে মোদী সরকারের নয়া-ফ্যাসিবাদী আচরণ।”
রাজ্যসভার সাংসদ জন ব্রিটাসের অভিযোগ, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে দিয়ে বিরোধী-শাসিত রাজ্যগুলির স্থিতিশীলতা নষ্ট করার জন্য আনা হয়েছে।
সরকারের সাফাই (Bill For Removal Of PM CM)
অমিত শাহ অবশ্য বিরোধীদের অভিযোগ অস্বীকার করেন(Bill For Removal Of PM CM)। তাঁর বক্তব্য, “এই বিল যৌথ সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হবে। সেখানে শাসক-বিরোধী উভয় পক্ষই থাকবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতেই এই পদক্ষেপ।”
তবে বিরোধীরা সেই যুক্তি মানতে নারাজ। তাঁদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে অরবিন্দ কেজরীওয়াল, হেমন্ত সোরেনের মতো বিরোধী নেতাদের গ্রেফতারিই প্রমাণ করছে যে, এই আইন রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মেটানোর হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন : World Mosquito Day : রোনাল্ড রসের আবিষ্কার, মশার হুলে ম্যালেরিয়া! কেন ২০ আগস্ট ‘বিশ্ব মশা দিবস’ পালিত হয়?
অচলাবস্থা ও বিতর্ক (Bill For Removal Of PM CM)
বিল পেশ হওয়ার পর হট্টগোল ক্রমশ চরমে ওঠে(Bill For Removal Of PM CM)। বিরোধীদের বিক্ষোভে শেষ পর্যন্ত লোকসভার অধিবেশন মুলতুবি ঘোষণা করতে হয়। রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন—এই বিল আইন হলে তা কি সত্যিই দুর্নীতি রুখবে, নাকি বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলির জন্য ‘রাজনৈতিক ফাঁদে’ পরিণত হবে?