Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: স্তন ক্যান্সার নামটিই (Breast Cancer) আজ আতঙ্কের অন্য নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। সারা বিশ্বে প্রতি ২০ জন নারীর মধ্যে অন্তত একজনের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন পরিসংখ্যান। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, ২০৫০ সালের মধ্যে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫ লক্ষ ছাড়িয়ে যেতে পারে। আরও ভয়াবহ তথ্য দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই সময়ের মধ্যে স্তন ক্যান্সারে মৃত্যুর সংখ্যা পৌঁছাতে পারে ১১ লক্ষে।
নতুন আশার সঞ্চার (Breast Cancer)
তবে এই অন্ধকার ভবিষ্যতের মাঝেও এক নতুন আশার সঞ্চার (Breast Cancer) করেছে ভারতীয় ও বিদেশি বিজ্ঞানীদের যৌথ গবেষণা। স্তন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এবার হাতিয়ার হতে চলেছে এক নতুন ধরনের ভ্যাকসিন। বিজ্ঞানীদের দাবি, এই টিকা যদি সফল হয়, তাহলে ভবিষ্যতে স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে, তার আগে শরীরে দানা বাঁধার আগেই তাকে রুখে দেওয়া যাবে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সক্রিয় করে তুলবে (Breast Cancer)
এই সম্ভাব্য ভ্যাকসিনটি তৈরি করছে (Breast Cancer) Anixa Biosciences এবং Cleveland Clinic-এর গবেষক দল। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, এই গবেষণায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী ড. অমিত কুমারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এই ভ্যাকসিনটি কাজ করবে ইমিউনোথেরাপির ভিত্তিতে-অর্থাৎ, এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সক্রিয় করে তুলবে, যাতে শরীর নিজেই ক্যান্সার কোষগুলোকে চিহ্নিত করে ধ্বংস করতে পারে।
বিশ্বজুড়ে ব্যবহারের উপযুক্ত?
সবচেয়ে আশার কথা হল, এই ভ্যাকসিনটি স্তন ক্যান্সারের সবচেয়ে বিপজ্জনক রূপ, অর্থাৎ ট্রিপল-নেগেটিভ ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধেও কার্যকর হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে প্রথম পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে, যেখানে ৩৫ জন মহিলার শরীরে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছে। এই ধাপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর ফলাফলই নির্ধারণ করবে ভ্যাকসিনটি ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে ব্যবহারের উপযুক্ত কি না।
যুগান্তকারী সাফল্য!
বর্তমানে স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসা বলতে কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন, অস্ত্রোপচার এবং ওষুধের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু প্রতিটি পদ্ধতিরই রয়েছে বড় ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক-মানসিক কষ্ট। তাই চিকিৎসকদের মতে, রোগটি যদি শুরুতেই ঠেকানো যায়, তাহলে তা হবে সত্যিই এক যুগান্তকারী সাফল্য।
আরও পড়ুন: Weather Update: বর্ষার দাপট দক্ষিণবঙ্গজুড়ে, কয়েক দিন চলবে টানা বৃষ্টি!
যদিও এই গবেষণা এখনও প্রাথমিক স্তরে রয়েছে, বিশেষজ্ঞদের আশা গবেষণার গতি ও সাফল্যের হার দেখে অনুমান করা যায়, ২০৩০ সালের মধ্যেই এই ভ্যাকসিন বিশ্ববাসীর হাতে পৌঁছে যেতে পারে। আর যদি সত্যিই তা হয়, তবে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি নারী এই মারণরোগ থেকে রেহাই পেতে পারেন। ক্যান্সারের বিরুদ্ধে মানবজাতির লড়াইয়ে এটি হয়ে উঠতে পারে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।