Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: সিএসটিসি-এর অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পিএফ এর টাকা না মেটানো নিয়ে আদালত অবমাননা মামলায় মদন মিত্রের (Madan Mitra) আশ্বাসেই সংস্থাকে শেষ সুযোগ কলকাতা হাইকোর্টের(Calcutta High Court)। চার মাসের মধ্যে আবেদনকারী অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পিএফ এর টাকা মেটাতে যথাযথ পদক্ষেপ করতে রাজ্য পরিবহন ও অর্থ দফতরকে নির্দেশ বিচারপতি অরিন্দম মুখোপাধ্যায়ের। আদালতের নির্দেশের পরও টাকা মেটানো না হলে মদন মিত্র-সহ সংস্থার আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি হাইকোর্টের।
প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা মেটানো হয়নি (Calcutta High Court)
আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও কলকাতা স্টেট ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের কয়েক হাজার কোটি টাকা মেটানো হয়নি (Calcutta High Court)। এই অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টে আদালত অবমাননার মামলা করেন সিএসটিসি-এর অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা। সেই অভিযোগে গত ২৩ মে কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক, প্রাক্তন পরিবহনমন্ত্রী তথা সিএসটিসি-র এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড ট্রাস্টের চেয়ারম্যান মদন মিত্র-সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে রুল জারি করেছিল হাইকোর্ট।
মদন মিত্র-সহ রাজ্যের অর্থসচিব, সিএসটিসি-র চিফ ম্যানেজিং ডিরেক্টেরকে এদিন হাইকোর্টে সশরীরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি অরিন্দম মুখোপাধ্যায়। আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের ন্যায্য পাওনা এখনও কেন মেটানো হয়নি, আদালতে তা জানাতে হবে বলে নির্দেশ দেন বিচারপতি অরিন্দম মুখোপাধ্যায়। কেন তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হবে না, তারও ব্যাখ্যা দিতে হবে বলে মদন মিত্রদের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।
অবিলম্বে প্রাপ্য মেটানোর প্রতিশ্রুতি আদালতে (Calcutta High Court)
আদালতের নির্দেশ মেনে এদিন রাজ্যের অর্থসচিব, সিএসটিসি-র চিফ ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং সিএসটিসি-র এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড ট্রাস্টের চেয়ারম্যান মদন মিত্র হাইকোর্টে হাজিরা দেন (Calcutta High Court)। অবিলম্বে প্রাপ্য মেটানোর জন্যও আদালতে প্রতিশ্রুতি দেন মদন মিত্র। তাতেই সিএসটিসি-কে শেষ সুযোগ দিল হাইকোর্ট। আগামী চার মাসের মধ্যে রাজ্য পরিবহন দফতর ও অর্থ দফতরকে প্রভিডেন্ট ফান্ডের বকেয়া টাকা মেটানোর নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপের নির্দেশ দিলেন বিচারপতি অরিন্দম মুখোপাধ্যায়। আদালতের নির্ধারণ করে দেওয়া এই সময়সীমার মধ্যে পিএফ-এর বকেয়া টাকা মেটানো না হলে মদন মিত্র-সহ সংস্থার আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিচারপতি মুখোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন: Russia Ukraine War : ট্রাম্প-জেলেনস্কি ফোনালাপের পরেই ইউক্রেনের জবাবি হামলা, আদৌ থামবে কি যুদ্ধ?
অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের অভিযোগ (Calcutta High Court)
সিএসটিসি-র অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের অভিযোগ, অবসরের পর তাঁরা প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা পাচ্ছেন না। গত বছর এই অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হয়(Calcutta High Court)। গত বছরের জুলাইয়ে হাইকোর্ট প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় সিএসটিসি-এর এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড ট্রাস্টকে। আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা না মেটানোয় গত বছরের ডিসেম্বরে আদালত অবমাননার মামলা হয়। একাধিকবার মামলার শুনানির পর বিচারপতি অরিন্দম মুখোপাধ্যায় অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা না মেটানোয় মদন মিত্র-সহ রাজ্যের অর্থসচিব, সিএসটিসি-র চিফ ম্যানেজিং ডিরেক্টেরের বিরুদ্ধে রুল জারি করেন। এবং মামলার পরবর্তী শুনানি তাঁদের আদালতে হাজির হয়ে জানাতে হবে, কেন তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে না।

বেতন থেকে প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা কেটে নেওয়া (Calcutta High Court)
এদিন মামলার শুনানিতে বিচারপতি অরিন্দম মুখোপাধ্যায়ের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকার তদন্তের জন্য আপনাদের ডেকেছি(Calcutta High Court)। আমার কোনও ইগো থেকে আপনাদের ডাকিনি। ভবিষ্যতের কথা ভেবে প্রত্যেক কর্মচারীর প্রতিমাসের বেতন থেকে প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা কেটে নেওয়া হয়। অথচ সিএসটিসি-এর অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা সেই টাকা পাচ্ছেন না। কারও ছেলে-মেয়ের পড়াশুনো, বিয়ে, স্ত্রীর অসুস্থতার চিকিৎসার জন্য টাকার প্রয়োজন। আপনাদের এখানে ডেকেছি এটাই নিশ্চিত করার জন্য, যেন প্রত্যেকে তাঁদের ন্যায্য টাকাটা পান। আমি এর আগে তিন-চার বার আপনাদের সুযোগ দিয়েছি। তারপরও আপনারা তাঁদের বকেয়া টাকা মেটাননি। তাই বাধ্য হয়ে এখন আপনাদের ডেকেছি। কর্মীরা যেন কোনও ভাবেই তাঁদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত না হন। তা আপনাদেরই নিশ্চিত করতে হবে।’
বকেয়া টাকার ১৭ শতাংশ মিটিয়ে দিয়েছি (Calcutta High Court)
শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবী অমিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে দাবি করেন, রাজ্য সরকার টাকা পাঠায় সংস্থাকে(Calcutta High Court)। তারপর সেখান থেকে কর্মীরা টাকা পান। রাজ্য ট্রাস্টকে টাকা দিতে পারেনা। রাজ্যের আইনজীবী আরও বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই টাকা দিয়ে দিয়েছি। এবার পরিবহন দপ্তর কী করেছে, তা আমরা জানিনা। আমরা ইতিমধ্যেই বকেয়া টাকার ১৭ শতাংশ মিটিয়ে দিয়েছি।’ রাজ্যের এই দাবি শুনে বিচারপতি বলেন, ‘এখনও পর্যন্ত ১৭ জন মাত্র টাকা পেয়েছেন। এখনও ১৫০ জন আবেদনকারী টাকা পাননি। তাঁদের বকেয়া টাকা নিয়েই ভাবছে আদালত। তাই আদালত আপনাদের ডেকে কোনও আনন্দ পাচ্ছে না।’
চার মাসের মধ্যে ট্রাস্টকে টাকা মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ (Calcutta High Court)
শুনানিকে অর্থ দফরের সচিব প্রভাত মিশ্র আদালতে দাবি করেন, পরিবহন দফতরকে টাকা দিয়ে দিয়েছে অর্থ দফতর(Calcutta High Court)। এবার পরিবহন দফতরই প্রতিদিন নজর রাখবে। তার উত্তরের বিচারপতি যুক্তি দেন, ‘ধরুন একটি যৌথ পরিবারের কর্তা আপনি। কোনও কিছু নিয়ে যদি প্রশ্ন ওঠে তাহলে সেটা আপনার বিরুদ্ধেই উঠবে। এবং আপনাকেই তা সামলাতে হবে। আপনি বিষয়টা লিখিতভাবেও জানাতে পারতেন।’
এরপরই মদন মিত্র আদালকে আশ্বস্ত করে বলেন, যত দ্রুত সম্ভব বাকিদের বকেয়া পিএফ-এর টাকাও মিটিয়ে দেওয়া হবে। সেই টাকা আগামী চার মাসের মধ্যে ট্রাস্টকে মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অরিন্দম মুখোপাধ্যায়। এই সময়সীমার মধ্যে যদি টাকা মেটানো না হয়, তাহলে মদন মিত্র-সহ সংস্থার অন্যান্য আধিকারিকদের বিরুদ্ধে আদালত কড়া ব্যবস্থা নেবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন বিচারপতি অরিন্দম মুখোপাধ্যায়।