Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: টালিউডের ফেডারেশন ও পরিচালক-প্রযোজকদের অশান্তির ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গ তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের আবেদনের ভিত্তিতে মামলায় সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশই বহাল রাখল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ (Calcutta High Court)। রাজ্যের আবেদন খারিজ।টলিপাড়ার অচলাবস্থা কাটানোর দায়িত্ব নিতে হবে রাজ্যকেই। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরকেই তদন্ত করতে হবে। সিঙ্গেল বেঞ্চে মামলা ফেরত পাঠালো বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ ।
দ্বন্দ্ব মেটাতে হবে রাজ্য সরকারকেই (Calcutta High Court)
টালিগঞ্জের স্টুডিও পাড়ায় কলা-কুশলীদের সংগঠন ফেডারেশনের সঙ্গে পরিচালক, প্রযোজক এবং অভিনেতাদের দ্বন্দ্ব মেটাতে হবে রাজ্য সরকারকেই(Calcutta High Court)। রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের (I&CA) আবেদন খারিজ করে দিয়ে এমনটাই জানিয়ে দিল বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ। মূলত বিচারপতি অমৃতা সিনহার সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশকেই বহাল রেখে এই মামলা সিঙ্গেল বেঞ্চেই ফিরিয়ে দিল ডিভিশন বেঞ্চ। আগামী ৯ জুলাই বিচারপতি সিনহার বেঞ্চে ফের এই মামলা শুনানি। সেখানে টলিউডের স্টুডিও পাড়ার পরিস্থিতি নিয়ে অবস্থান জানাতে হবে রাজ্য তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরকে।
অমৃতা সিনহার সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ (Calcutta High Court)
এই মামলয় গত শুনানিতে বিচারপতি অমৃতা সিনহার সিঙ্গল বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল, টলিউডে কেউ স্বাধীন ভাবে কাজ করতে চাইলে বাধা দেওয়া যাবে না(Calcutta High Court)। কারও জীবিকা, ব্যবসা বন্ধ করার অধিকার কোনও সংগঠনের নেই। এটা নিশ্চিত করতে হবে রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সচিবকে। অচলাবস্থা কাটাতে হবে রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরকেই। তার পরেও সমাধান না মিললে বা কোনও সমস্যায় পড়লে স্থানীয় পুলিশের সাহায্য নিতে পারবেন পরিচালকেরা।
কিন্তু এই অচলাবস্থা কাটানোর দায় নিতে নারাজ রাজ্য সরকার। তাই সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করে রাজ্য তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর। সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ খারিজের আবেদন জানায় রাজ্য। আদালতে রাজ্য দাবি করে, টলিপাড়ার এই ঘটনার ক্ষেত্রে সরকারের কোনও যোগ বা ভূমিকা নেই। তারা এর সমাধান করতে অপারগ। তাই এই মামলা থেকে অব্যাহতি চায় রাজ্য তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর।
রাজ্যের আপত্তি খারিজ করল বিচারপতি (Calcutta High Court)
বুধবার রাজ্যের সেই আবেদন খারিজ করে এই অচলাবস্থা কাটানোর দায়িত্ব রাজ্য সরকারকেই নিতে হবে বলে প্রকারান্তরে সিঙ্গেল বেঞ্চের রায়কে বহাল রেখে রাজ্যের আপত্তি খারিজ করল বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ(Calcutta High Court)। এবং মামলা ফেরত পাঠালো বিচারপতি অমৃতা সিনার সিঙ্গেল বেঞ্চেই। এই মামলা সংক্রান্ত পরবর্তী সমস্ত শুনানিই বিচারপতি অমৃতা সিনার বেঞ্চেই হবে।

বেশ কিছুদিন শুটিং বন্ধ থাকে (Calcutta High Court)
টালিগঞ্জের স্টুডিও পাড়ায় কলা কুশলীদের সংগঠন ফেডারেশনের সঙ্গে পরিচালক, প্রযোজক এবং অভিনেতাদের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিন ধরে চলছে(Calcutta High Court)। গত বছরের জুলাইয়ে এই সংঘাত অচলাবস্থার রূপ নেয়। বেশ কিছুদিন শুটিং বন্ধ থাকে। অভিনেতা পরিচালকদের একাংশের অভিযোগ, ফেডারেশন যা খুশি তাই এক তরফা ভাবে চাপিয়ে দিচ্ছে। কতজনকে নিয়ে শুটিং করতে হবে, কী ক্যামেরা ব্যবহার করতে হবে, কোথায়-কতক্ষণ শুটিং করতে হবে, আউটডোরে কতজন নিয়ে যেতে হবে এই রকম যাবতীয় বিষয়ে তারা অযাচিতের মতো নাক গলায়। কথা না শুনলে পরিচালক, প্রযোজকদের কাজ বয়কট করা হয়। ক্ষতি হয় শুটিংয়ের। আর এই কারণে বাইরের কোনও প্রযোজক বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে বিনিয়োগও করছেন না। এই সব নিয়মের বিরুদ্ধেই পথে নেমে এবং সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রতিবাদ করেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়রা।

অচলাবস্থা কাটাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ (Calcutta High Court)
অচলাবস্থা কাটাতে অভিনেতা সাংসদ দেব, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং গৌতম ঘোষরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হন(Calcutta High Court)। রাজ্য সরকার এই তিনজনকে রেখে একটি কমিটিও গড়ে দেয়। কথা ছিল তিন মাসের মধ্যে কমিটি এই সমস্যার সমাধানে একটি রিপোর্ট দেবে। কিন্তু অভিযোগ, সেই কাজও শেষ পর্যন্ত আর হয়নি। ফলে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডিরেক্টর বিদুলা ভট্টাচার্য্য।পরে তাঁর পাশে দাঁড়াতে অভিনেতা পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, অনির্বাণ ভট্টাচার্য, ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরী, সুদেষ্ণা রায়, সুব্রত সেনরাও ফেডারেশনের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হন।