Last Updated on [modified_date_only] by Ananya Dey
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : বিকাশ ভবনের সামনে আন্দোলনে পুলিশের বিরুদ্ধে অতিসক্রিয়তা, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ করে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দারস্থ হয়েছিলেন আন্দোলনকারী দুই শিক্ষক নেতা ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল ও সুদীপ কোনার। বুধবার সেই মামলার শুনানি হয় বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ মামলাকারী দুই শিক্ষক নেতাকে আগামীকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সকাল দশটার মধ্যে থানায় গিয়ে তদন্তকারী অফিসারের সঙ্গে দেখা করার মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন।
আগামীকাল ফের এই মামলার শুনানি (Calcutta High Court)
রাজ্যের আশ্বাসের ভিত্তিতে ওই দুই শিক্ষক নেতার বিরুদ্ধে এখনই কোনও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি ঘোষ। সেইসঙ্গে আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের শিক্ষকের মতো আচরণ করারও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আন্দোলনের কারণে যেন কোনোভাবেই সরকারি কর্মীরা আহত না হন, সেই বিষয়েও সতর্ক করে দিয়েছে আদালত। আন্দোলনকারী শিক্ষকদের সেন্ট্রাল পার্কে অবস্থান করার প্রাথমিক প্রস্তাব আদালতের (Calcutta High Court)। আন্দোলন মঞ্চে পানীয় জল ও বায়ো টয়লেটের ব্যবস্থা করতেও রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি ঘোষ। আগামীকাল আবারও এই মামলার শুনানি হবে হাইকোর্টে।
পানীয় জল ও বায়ো টয়লেটের ব্যবস্থা করতে হবে (Calcutta High Court)
এদিন মামলার (Calcutta High Court) শুরুতেই বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ বিকাশ ভবনের সামনে আন্দোলনকারী শিক্ষক শিক্ষিকাদের সেন্ট্রাল পার্কের সামনে আন্দোলন করার প্রাথমিক পরামর্শ দেন। তার জন্য রাজ্যকে পানীয় জল ও বায়ো টয়লেটের ব্যবস্থা করতে হবে বলেও জানান বিচারপতি ঘোষ। রাজ্যের আইনজীবী স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে অভিযোগ করেন, বিকাশ ভবনের আন্দোলনকারীরা হুলিগানের মতো আচরণ করছেন। তাঁদের আন্দোলনের জেরে একাধিক সরকারি কর্মী ও পুলিশ আহত হয়েছেন। সেই শুনে বিচারপতি ঘোষ পাল্টা জিজ্ঞাসা করেন এই আন্দোলনের জন্য অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কিনা। তারপরই তিনি ৫০-১০০ জন আন্দোলনকারীকে সেন্ট্রাল পার্কে অবস্থান বিক্ষোভ করার প্রস্তাব দেন। এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্দোলনকারীদের সতর্ক করে দেন, যাতে কোনভাবেই সরকারি কর্মীরা আহত না হন।
‘রাজ্য সবসময় শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পক্ষে’
এরপরই রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আন্দোলনকারীদের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে আদালতে বলেন, ‘রাজ্য সবসময় শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পক্ষে। কিন্তু আন্দোলনের নামে অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকেও আটকে রাখা হয়েছিল। অভিযোগ খতিয়ে দেখুন। এরা শিক্ষক? বিকাশ ভবনের মূল গেট পুলিশ ব্যারিকেড ভেঙে ফেলা হয়েছে। একজন আরেকজনের উপর উঠে দেওয়াল টপকাচ্ছেন। এরা আমাদের রাজ্যের শিক্ষক? আমরা কিছুই করতে পারব না! তারা শুধু লুঠ করবেন। এটা শুধু আন্দোলনকারীদের জীবনের কথা নয়, বাকিদের কথাও ভাবতে হবে। রাজ্য রিভিউ করছে। দেশের একনম্বর আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি তাদের হয়ে লড়ছেন। সুপ্রিম কোর্ট পরীক্ষা নিতে বলেছে। আমরা কী করব ? রাজ্যের ইতিহাস খতিয়ে দেখলে এটা বন্ধ করা সম্ভব না। এই দুজনকে আজকে থানায় যেতে বলুন। গিয়ে বলুন যে কারা ছিল, আমরা এই দুজনকে কিছু করব না।’
আরও পড়ুন : Calcutta High Court : ২০২৪ মেডিক্যালের জয়েন্ট এন্ট্রান্সে নতুন করে ওবিসি প্যানেল তৈরির নির্দেশ
বৃহস্পতিবার দুই শিক্ষককে থানায় দেখা করার নির্দেশ
এরপরই ওই দুই শিক্ষক নেতাকে থানায় গিয়ে দেখা করার পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে না বলে আশ্বাস দেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। সেই সঙ্গে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের কড়াভাবে সতর্ক করেছেন তিনি। বিচারপতি ঘোষ আন্দোলনকারী শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা শিক্ষক, আপনারা বিকাশ ভবনে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ হচ্ছে। আমরা কি করে জানব যে এটা সত্যি না মিথ্যা ? আপনারা শিক্ষক, শিক্ষকের মতো আচরণ করুন। নাহলে পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে হবে। আপনারা শিক্ষক, আপনাদের অবস্থা আমি বুঝি, কিন্তু সব সরকারি কর্মী তো আর যুক্ত নেই।’
উল্লেখ্য, গত ১৫ দিন ধরে বিকাশ ভবনের সামনে সসম্মানে চাকরিতে বহালের দাবী জানিয়ে আন্দোলন করছেন এসএসসি-তে চাকরি হারানো যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিকাশ ভবনের সামনে চাকরি হারানো যোগ্য শিক্ষকরা বিকাশ ভবনের গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে অবস্থান-বিক্ষোভ করেন। এর ফলে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকেন বিকাশ ভবনে বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মীরা। তাদের বার করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে রীতিমতো খন্ড যুদ্ধ শুরু হয় আন্দোলনকারী শিক্ষকদের। দুই পক্ষের একাধিক গুরুতরভাবে আহত হন। এই ঘটনায় বিধাননগর থানা ১৭ জন আন্দোলনকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে।
এমনকি তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হয়। গত সোমবার ছ’জন আন্দোলনকারীকে হাজিরা দিতে বলা হয় থানায়। আবার কাউকে বুধবার থানায় হাজির দিতে বলা হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, ভাঙচুর, সরকারি কর্মীদের কাজে বাধাদান-সহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে। তাঁদের নোটিস পাঠিয়ে জানানো হয়েছে, এই অভিযোগের ভিত্তিতে আন্দোলনকারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। থানায় উপস্থিত না হলে বিএনএস-এর ৩৫(৬) ধারায় তাঁদের গ্রেফতার করা হতে পারে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
বিক্ষোভকারী শিক্ষকদের একাংশের অভিযোগ, বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে তাঁদের মারধর করেছে শাসকদলের সমর্থকেরা। তাঁদের বক্তব্য, শাসকদলের সমর্থকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না করে পুলিশ উল্টে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অতিসক্রিয় হয়ে উঠেছে। গত বৃহস্পতিবারের ঘটনায় আন্দোলনকারী দুই শিক্ষক নেতা ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল এবং সুদীপ কোনারকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। তাঁদের অভিযুক্ত করে নোটিস পাঠিয়েছে পুলিশ। থানায় তলবও করা হয়েছে কয়েকজন আন্দোলনকারী শিক্ষককে। তাই পুলিশের বিরুদ্ধে অতি সক্রিয়তার অভিযোগ তুলে তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হন।