Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: উত্তর মায়ানমারে সামরিক জুন্টা সরকারের বিরুদ্ধে বড় সাফল্য পেল বিদ্রোহী গোষ্ঠী কাচিন ইন্ডিপেনডেন্স আর্মি (Rebel Of Myanmar)। স্বঘোষিত গণতন্ত্রপন্থী ‘ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট’ (NUG)-এর ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইরাওয়াদি’ জানিয়েছে, কেআইএ ইতিমধ্যেই কাচিন প্রদেশের খনিজসমৃদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ শহর বামো-সহ চিন সীমান্ত সংলগ্ন বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।
কৌশলগত এলাকা দখলে, উত্তেজনা চিন-মায়ানমার সীমান্তে (Rebel Of Myanmar)
চিন (Xi Jinping) সীমান্ত থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার দূরের শহর বামো এখন ঘিরে রেখেছে কেআইএ বাহিনী(Rebel Of Myanmar)। শহরের চারপাশের অঞ্চলগুলি ইতিমধ্যেই দখল করা হয়েছে। কেআইএ-এর এই সাফল্য সামরিক জুন্টার ওপর শুধু চাপই বাড়ায়নি, চিনের উপরেও কৌশলগত এবং আর্থিক প্রভাব ফেলছে। কারণ, কাচিন অঞ্চলের খনিগুলি থেকে বিশ্বের একটি বড় অংশের বিরল খনিজ উপাদান যেমন ডাইস্প্রোশিয়াম ও টারবিয়াম উত্তোলন করা হয়— যা চিনের ইলেকট্রিক গাড়ি এবং উইন্ড টারবাইন চুম্বক তৈরিতে প্রয়োজন।
চিনের অর্থনৈতিক চাপ, বিদ্রোহীদের হুঁশিয়ারি (Rebel Of Myanmar)
সোমবার চিন সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, বামো শহর দখলের চেষ্টায় যদি কেআইএ না থামে, তাহলে কেআইএ নিয়ন্ত্রিত খনিগুলি থেকে তারা ভারী খনিজ কেনা বন্ধ করে দেবে(Rebel Of Myanmar)। তবে কেআইএ নেতৃত্বের বিশ্বাস, চিন শেষ পর্যন্ত খনিজের চাহিদার কারণেই আমদানি বন্ধ করতে পারবে না। ২০২৫ সালের প্রথম পাঁচ মাসে মায়ানমার থেকে চিনের খনিজ আমদানি গত বছরের তুলনায় প্রায় অর্ধেক কমেছে— যা আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ঘটিয়েছে।

কেআইএ-এর শক্তি ও যুদ্ধসাজ (Rebel Of Myanmar)
বর্তমানে কেআইএ-এর বাহিনীতে আনুমানিক ১৫ হাজারের বেশি সশস্ত্র যোদ্ধা রয়েছে(Rebel Of Myanmar)। তারা সুসজ্জিত— রয়েছে হেভি মেশিনগান, মর্টার, এমনকি বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রও। তাদের রসদ আসে মূলত স্থানীয় কর এবং প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ থেকে। কাচিন রাজ্যের অধিকাংশ খনি বর্তমানে বিদ্রোহীদের দখলে, যেখানে তারা কর বসিয়ে উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করছে।
‘থ্রি ব্রাদারহুড’ ভাঙল? চিনা মধ্যস্থতা ব্যর্থ (Rebel Of Myanmar)
গত জানুয়ারিতে বেজিংয়ের মধ্যস্থতায় ‘থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স’-এর অন্যতম শক্তিশালী গোষ্ঠী ‘মায়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স আর্মি’ (MNDAA) সামরিক জুন্টার সঙ্গে অস্ত্রবিরতিতে সম্মত হয়(Rebel Of Myanmar)। তবে কেআইএ, ‘আরাকান আর্মি’ (AA), ও ‘তাঙ ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি’ (TNLA) স্পষ্ট জানিয়ে দেয়— তারা লড়াই চালিয়ে যাবে।
ঝুঁকিতে চিন-মায়ানমার করিডর (Rebel Of Myanmar)
চিনের জন্য সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, ১৭০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘চিন-মায়ানমার অর্থনৈতিক করিডর’-এর একাংশ ইতিমধ্যেই বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে। এই করিডরের নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে চিনা বিনিয়োগের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
উত্তর মায়ানমারে কেআইএ-র সাফল্য শুধু মায়ানমার সরকারের নয়, চিনেরও মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিন এখন দুই দিক থেকেই চাপে— একদিকে তাদের মদতপুষ্ট সামরিক জুন্টা চাপে, অন্যদিকে নিজেদের খনিজ সরবরাহ ও বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে। মায়ানমারের এই বিদ্রোহী জোট ভবিষ্যতের ভূরাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।