Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দলাই লামাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা ঘিরে ফের কূটনৈতিক উত্তাপ তৈরি হল ভারত ও চিনের মধ্যে(Dalai Lama)। বৌদ্ধ ধর্মগুরুকে উদ্দেশ করে মোদীর শুভেচ্ছাবার্তা এবং ধর্মশালায় তাঁর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের উপস্থিতি নিয়ে তীব্র আপত্তি জানাল বেজিং। সোমবার চিনা বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মাও নিং দাবি করেন, “ভারত চিনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে।”
চিনের ‘বিরক্তি’ প্রকাশ (Dalai Lama)
চিনা মুখপাত্র সরাসরি বলেন, দলাই লামা একজন “চিন-বিরোধী বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা”(Dalai Lama)। তিনি অভিযোগ করেন, “তিনি তিব্বতকে চিন থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিকভাবে তৎপর রয়েছেন।” ভারতকে সতর্ক করে মাও নিং বলেন, “তিব্বত সংক্রান্ত বিষয়ে ভারতের যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তা সম্মান করা উচিত এবং চিনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বন্ধ করা উচিত।”
মোদীর শুভেচ্ছা ও ভারতীয় অবস্থান (Dalai Lama)
রবিবার প্রধানমন্ত্রী মোদী দলাই লামার দীর্ঘায়ু কামনা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “দলাই লামা ভালবাসা, দয়া, নৈতিকতা এবং ধৈর্যের প্রতীক (Dalai Lama)।” একই দিনে দলাই লামার জন্মদিন উপলক্ষে ধর্মশালায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু, রাজীবরঞ্জন সিংহ, অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু, সিকিমের মন্ত্রী সোনম লামা এবং হলিউড অভিনেতা রিচার্ড গেরেও।
চিন মনে করছে, এই সমস্ত উপস্থিতিই বৌদ্ধ ধর্মের আড়ালে রাজনৈতিক বার্তা। বেজিংয়ের মতে, ভারত এই বিষয়কে চিনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিরুদ্ধে হাতিয়ার করছে।

দলাই লামার উত্তরসূরি নিয়ে বিতর্ক (Dalai Lama)
দলাই লামার উত্তরসূরি মনোনয়ন নিয়েও চলেছে নতুন বিতর্ক(Dalai Lama)। চিন জানিয়ে দিয়েছে, তাদের অনুমোদন ছাড়া পঞ্চদশ দলাই লামা মনোনীত হতে পারবেন না। অপরদিকে, ভারতে স্বেচ্ছানির্বাসিত দলাই লামা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, উত্তরসূরি মনোনয়নের সিদ্ধান্ত নেবে গাহদেন ফোড্রাং ট্রাস্ট, এবং এতে কোনও দেশের হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না।
ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট জানিয়েছেন, “ভারত কারও ধর্মীয় বিশ্বাস বা আচরণে হস্তক্ষেপ করে না। ভারত সরকার সকলের ধর্মীয় স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে এবং সেই নীতিতেই অটল।”
ভূ-রাজনৈতিক বার্তা ও কৌশল (Dalai Lama)
বস্তুত, ২০১৯ সালে এক সাক্ষাৎকারে দলাই লামা বলেন, ভবিষ্যতের দলাই লামার জন্ম হবে ভারতেই। সেই মন্তব্যের পর থেকেই চিনের শাসক দল দলাই লামাপন্থীদের ঘিরে সক্রিয় হয়েছে(Dalai Lama)। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং পাঞ্চেন লামার সঙ্গে বৈঠক করে বুঝিয়ে দিয়েছেন, দলাই লামার বিকল্প তৈরি করতে চাইছে চিন।
ভারতের তরফে একদিকে দলাই লামার প্রতি সম্মান দেখানো, অন্যদিকে ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষে সাফ বক্তব্য—এই দুই মেরু অবস্থান নিয়েই সাম্প্রতিক ঘটনায় ভারতের অবস্থান স্পষ্ট। তবে বেজিংয়ের কড়া সুর ও হুঁশিয়ারি ভারত-চিন সম্পর্কে নতুন করে উত্তাপ ছড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। দলাই লামাকে ঘিরেই ফের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক টানাপড়েনের কেন্দ্রে উঠে এল তিব্বত ইস্যু।