Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: চোখ মানুষের অন্যতম মূল্যবান অঙ্গ (Contact lenses)। তাই চোখের যত্ন নেওয়া ও সঠিকভাবে দৃষ্টি সংশোধন করা খুবই জরুরি। সাধারণত চশমা এবং কনট্যাক্ট লেন্স—দুটিই সমান কার্যকর। তবে আধুনিক জীবনে অনেকেই সাজগোজ ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য কিংবা খেলাধুলা বা দৈনন্দিন সুবিধার কারণে চশমার পরিবর্তে কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করতে পছন্দ করেন। আজকাল শুধু দৃষ্টি সংশোধনের জন্য নয়, বরং রঙিন বা কসমেটিক কনট্যাক্ট লেন্সও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
কিন্তু এখনও কনট্যাক্ট লেন্স নিয়ে সমাজে বহু ভুল ধারণা বা “মিথ” প্রচলিত আছে। এই ভুল বিশ্বাসের কারণে অনেকেই কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার থেকে দূরে থাকেন, আবার কেউ কেউ নিয়ম না মেনে ব্যবহার করে চোখের ক্ষতি ডেকে আনেন। তাই বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করার আগে সঠিক তথ্য জানা অত্যন্ত প্রয়োজন।

সব বয়সে কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার উপযোগী? (Contact lenses)
অনেকে মনে করেন কনট্যাক্ট লেন্স কেবল প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উপযুক্ত। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি একেবারেই ভুল। শিশুরাও প্রয়োজন হলে কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করতে পারে। সাধারণত ৮ বছর বয়স থেকে লেন্স ব্যবহার নিরাপদ ধরা হয়, তবে অবশ্যই অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে ব্যবহার করা উচিত। বিশেষ করে যেসব শিশু বা কিশোর-কিশোরীর দুই চোখের পাওয়ারের মধ্যে পার্থক্য অনেক বেশি, তাদের ক্ষেত্রে চশমার তুলনায় কনট্যাক্ট লেন্স কার্যকর হয়।
কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার অস্বস্তিকর (Contact lenses)
অনেকেরই ধারণা লেন্স পরলে চোখে বালি ঢোকার মতো অস্বস্তি হয়। আসলে পুরনো যুগে ব্যবহৃত হার্ড প্লাস্টিক লেন্সে এই অসুবিধা ছিল। কিন্তু আধুনিক যুগে সিলিকন হাইড্রোজেল বা সফট কনট্যাক্ট লেন্স তৈরি হয়েছে যা চোখের আকার অনুযায়ী বসে যায়, খুব হালকা ও আরামদায়ক। ফলে সঠিক লেন্স বেছে নিলে কোনও অস্বস্তি হয় না।

কনট্যাক্ট লেন্স দামি (Contact lenses)
লেন্সের দাম নির্ভর করে এর ধরন, ব্র্যান্ড এবং রিপ্লেসমেন্ট শিডিউলের ওপর। বিশেষ কিছু প্রিমিয়াম লেন্স তুলনামূলক দামি হলেও দৈনিক ডিসপোজেবল লেন্স বেশ সাশ্রয়ী। অনেক ক্ষেত্রেই মাসিক বা ত্রৈমাসিক লেন্স কিনে ব্যবহার করাও খরচ সাশ্রয়ী হয়। তাই “লেন্স মানেই দামি” ধারণাটি ভুল।
ড্রাই আইস থাকলে লেন্স ব্যবহার করা যায় না (Contact lenses)
শুষ্ক চোখে লেন্স ব্যবহার করা যায় না—এটি একটি বড় ভুল ধারণা। বর্তমানে ড্রাই আইসের জন্য আলাদা ধরনের বিশেষ লেন্স পাওয়া যায়। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সঠিক লুব্রিকেটিং আইড্রপ ব্যবহার করলে শুষ্ক চোখেও আরামদায়কভাবে লেন্স ব্যবহার সম্ভব।

শুধু বেশি পাওয়ার থাকলেই লেন্স ব্যবহার করা যায় (Contact lenses)
অনেকেই মনে করেন কম পাওয়ার থাকলে কনট্যাক্ট লেন্সের দরকার নেই। কিন্তু বাজারে সব ধরনের পাওয়ারে লেন্স পাওয়া যায়। এমনকি খুব সামান্য মাইনাস বা প্লাস পাওয়ারের ক্ষেত্রেও লেন্স ব্যবহার সম্ভব।
কনট্যাক্ট লেন্সের যত্ন নেওয়া কঠিন (Contact lenses)
আগে লেন্স ব্যবহার মানেই নিয়মিত পরিষ্কার ও বিশেষ সলিউশনে রেখে দেওয়ার ঝামেলা ছিল। কিন্তু এখন অনেক সহজ উপায় এসেছে। দৈনিক ডিসপোজেবল লেন্স ব্যবহার করলে প্রতিদিন নতুন লেন্স পরতে হয়, আর আলাদা করে যত্ন নেওয়ার দরকার নেই। যারা রিপ্লেসেবল লেন্স ব্যবহার করেন, তাদের শুধু চিকিৎসকের নির্দেশ মেনে সলিউশন ব্যবহার করতে হবে।
অ্যাস্টিগমাটিজম ও প্রেসবায়োপিয়া লেন্সে ঠিক করা যায় না
এটি একটি প্রচলিত ভুল ধারণা। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এখন টরিক লেন্স বিশেষভাবে অ্যাস্টিগমাটিজম ঠিক করার জন্য তৈরি হয়েছে। একইভাবে মাল্টিফোকাল লেন্স প্রেসবায়োপিয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। তাই এখন প্রায় সব ধরনের দৃষ্টিসংশোধনে কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার সম্ভব।
কনট্যাক্ট লেন্স চোখে রোগ সৃষ্টি করে
সঠিকভাবে ব্যবহার করলে কনট্যাক্ট লেন্স থেকে কোনও রোগ হয় না। তবে অবহেলা করলে ইনফেকশন বা কর্নিয়ার ক্ষতি হতে পারে। যেমন—
- নোংরা হাতে লেন্স পরা বা খোলা,
- পুরনো সলিউশন ব্যবহার,
- মেয়াদোত্তীর্ণ লেন্স ব্যবহার,
এগুলো চোখের জন্য ক্ষতিকর। তাই চিকিৎসকের নির্দেশ মেনে এবং সঠিক যত্ন নিলে কনট্যাক্ট লেন্স একেবারেই নিরাপদ।
আরও পড়ুন: Purba Bardhaman: দেবশালার অমর প্রেমকাহিনির অলিখিত সমাধি
সাঁতার, স্নান বা ঘুমানোর সময় লেন্স পরা যায়
এটি সবচেয়ে ক্ষতিকর ভুল ধারণাগুলোর একটি। জলীয় পরিবেশে (সাঁতার, স্নান) লেন্স পরলে চোখে জীবাণু প্রবেশ করে ইনফেকশনের ঝুঁকি বেড়ে যায়। আবার ঘুমের সময় লেন্স পরে থাকলে চোখে অক্সিজেন প্রবাহ কমে গিয়ে কর্নিয়াল আলসার হতে পারে। তাই ঘুম, স্নান বা সাঁতারের আগে অবশ্যই লেন্স খুলে রাখা জরুরি।
কনট্যাক্ট লেন্স শুধু সাজগোজ বা কসমেটিক কারণে নয়, বরং আধুনিক চক্ষুবিজ্ঞানে দৃষ্টিসংশোধনের অন্যতম নিরাপদ ও কার্যকর উপায়। তবে ব্যবহার করার সময় কয়েকটি নিয়ম মানতেই হবে—
- সবসময় পরিষ্কার হাতে লেন্স পরা ও খোলা,
- চিকিৎসকের পরামর্শমতো লেন্স নির্বাচন,
- নির্দিষ্ট সময় পর লেন্স পরিবর্তন,
- চোখে অস্বস্তি বা লালভাব হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া।