Last Updated on [modified_date_only] by Megha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: অবশেষে প্রকাশ্যে এসেছে আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানের ককপিটের কথোপকথন(Conversation Between Two Pilots)। দুই পাইলটের মধ্যে জ্বালানি নিয়ে কথা হয়েছিল। বিমান দুর্ঘটনার তদন্তকারী সংস্থা এয়ারক্র্যাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি) শনিবার মধ্যরাতে তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। ওই রিপোর্টে প্রাথমিকভাবে অন্তর্ঘাত বা পাখির ধাক্কায় দুর্ঘটনার তত্ত্ব উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, শেষ মুহূর্তে বিমানের দুই ইঞ্জিনেরই জ্বালানি একসঙ্গে বন্ধ হয়ে যায়। একইসঙ্গে ১৫ পাতার সেই রিপোর্টেই রয়েছে দুই পাইলটের শেষ মুহূর্তের উদ্বিগ্ন কথোপকথন।
ককপিটে পাইলটদের কথোপকথন (Conversation Between Two Pilots)
এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটি যেখানে ভেঙে পড়েছিল, সেখান থেকেই উদ্ধার করা হয়েছিল দু’টি ব্ল্যাক বক্স(Conversation Between Two Pilots)। তারমধ্যে একটি ছিল ককপিট ভয়েস রেকর্ডার। দুর্ঘটনার মুহূর্তে ককপিটে পাইলটদের মধ্যে কী কথা হচ্ছে, তা এই যন্ত্রে রেকর্ড হয়।দুর্ঘটনার একেবারে আগের মুহূর্তে দুই পাইলটের হাড়হিম কথোপকথন প্রকাশ্যে এসেছে। ককপিট ভয়েস রেকর্ডারের তথ্য উদ্ধার করে জানা গিয়েছে, বিমান ওড়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে দু’টি ইঞ্জিনই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। জ্বালানির সুইচ ‘রান’ (চালু) থেকে ‘কাটঅফ’ (বন্ধ)-এ চলে এসেছিল। এই সময়ে এক পাইলট অন্য পাইলটকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘কেন তুমি বন্ধ (জ্বালানি) করে দিলে?’ অন্য জন উত্তর দেন, ‘আমি কিছু বন্ধ করিনি।’

বিমানের দু’টি ইঞ্জিন বন্ধ (Conversation Between Two Pilots)
তদন্ত-রিপোর্ট অনুযায়ী, এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানের ইঞ্জিন-১ এবং ইঞ্জিন-২ রানওয়ে ছাড়ার পরেই বন্ধ হয়ে যায়(Conversation Between Two Pilots)। বিমানটি যখন গতি নিয়ে নিয়েছে, ঠিক সেই সময়ে দু’টি ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ইঞ্জিনে জ্বালানি পৌঁছোচ্ছিল না। মুহূর্তের মধ্যে বিমানের গতি এবং উচ্চতা কমতে থাকে। পাইলটেরা সেই মুহূর্তে দু’টি জ্বালানির সুইচই আবার ‘কাটঅফ’ থেকে ‘রান’-এ নিয়ে এসেছিলেন। ইঞ্জিন চালু করার মরিয়া চেষ্টা করেছিলেন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত।কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গিয়েছে। ইঞ্জিন-২ সাময়িক ভাবে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরেও ছিল। কিন্তু ইঞ্জিন-১ আর চালু করা যায়নি। পাওয়া যায়নি ‘থ্রাস্ট’।এরপরই পাইলটরা মে ডে কল দেন।তারপরই এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল মে ডে কলের কারণ জানতে চায়। তবে অপরদিক থেকে আর কোনও জবাব আসেনি।
পাখির ধাক্কার কোনও উল্লেখ নেই (Conversation Between Two Pilots)
১৫ পাতার তদন্ত রিপোর্টে পাখির ধাক্কার কোনও উল্লেখ নেই(Conversation Between Two Pilots)। বিমানের উড়ান-পথে কোনও পাখি ছিল না বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। তেমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিমানটির সামনের দিকের এক্সটেন্ডেড এয়ারফ্রেম ফ্লাইট রেকর্ডার (ইএএফআর) উদ্ধার করা হয়েছে। সফল ভাবে তা ডাউনলোডও করা হয়। কিন্তু পিছনের দিকের ইএএফআর এমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে, তা থেকে কোনও তথ্য উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, আপাতত যে সমস্ত তথ্য পাওয়া গিয়েছে, সেগুলি পৃথক করা হয়েছে। বোয়িং সংস্থা বা ইঞ্জিন অপারেটরদের এখনও কোনও নোটিস জারি করা হয়নি। ঠিক কী কারণে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, কেন জ্বালানির সুইচে গোলমাল হল, তা নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে।

ফুয়েল কাট অফ স্যুইচ বন্ধ কেন? (Conversation Between Two Pilots)
আকাশে থাকাকালীন বিমানের ইঞ্জিন কোনও কারণে নিজে থেকে বন্ধ হয়ে গেলে, বা ইঞ্জিনে কোনও ভাবে আগুন লেগে গেলে তবেই ফুয়েল কাট অফ স্যুইচ বন্ধ করেন পাইলটরা(Conversation Between Two Pilots)। কিন্তু এক্ষেত্রে ফুয়েল কাট অফ স্যুইচ বন্ধ করার আগে বিমানের ২টি ইঞ্জিন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ভাবেই চলছিল। তাহলে কেন বন্ধ করা হল ফুয়েল কাট অফ স্যুইচ? আধুনিক যে কোনও বিমানের ২টি ইঞ্জিনের মধ্যে যে কোনও ১টি চালু থাকলেই বিমানটি উড়তে পারে। এক্ষেত্রে ২টি ইঞ্জিনের ফুয়েল কন্ট্রোল স্যুইচ প্রায় একসঙ্গে বন্ধ করে দেওয়ার উদ্দেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

পাইলটের কথোপকথন নিয়ে প্রশ্ন (Conversation Between Two Pilots)
এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে(Conversation Between Two Pilots)। প্রথমত, ২ পাইলটের মধ্যে কথোপকথনের উল্লেখ থাকলেও কে কোন কথা বলেছেন তার উল্লেখ নেই। রিপোর্টে ২ জনকেই ‘পাইলট’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ‘স্যুইচ বন্ধ করলেন কেন’ প্রশ্নটি কে করেছেন তা স্পষ্ট নয়। তবে রিপোর্টে জানানো হয়েছে ফার্স্ট অফিসার ক্লাইভ কুন্দর বিমানটি চালাচ্ছিলেন। ক্যাপ্টেন সুমিত সবরওয়াল নজরদারির দায়িত্বে ছিলেন। বিমানটির ম্যানুয়াল টেক অফ হয়েছিল। যা স্বাভাবিক বলে জানাচ্ছেন অভিজ্ঞ পাইলটরা। তাঁরা এও জানাচ্ছেন, উড়ানের এই প্রাথমিক পর্যায়ে ২ পাইলটের মধ্যে যিনি বিমানটি ওড়ানোর দায়িত্বে থাকেন তাঁকে অত্যন্ত একাগ্রতার সঙ্গে সামনের সমস্ত যন্ত্রের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। ফলে তাঁর পক্ষে ফুয়েল কাট অফ স্যুইচ বন্ধ করা খুবই অস্বাভাবিক।
ল্যান্ডিং গিয়ারের স্যুইচ বন্ধ (Conversation Between Two Pilots)
অভিজ্ঞ পাইলটরা জানাচ্ছেন, ককপিটে এত স্যুইচ থাকে যে অনেক সময় ট্রেনি পাইলটরা একটা স্যুইচ বন্ধ করতে গিয়ে অন্য স্যুইচ বন্ধ করে ফেলেন(Conversation Between Two Pilots)। যেমন কিছু ক্ষেত্রে ল্যান্ডিং গিয়ার বন্ধ করতে গিয়ে অনেকে ফ্ল্যাপ বন্ধ করে দেন। কিন্তু বিমানের ল্যান্ডিং গিয়ারের স্যুইচ বন্ধ অবস্থাতেই পাওয়া গিয়েছে। তবে ঠিক তারপরেই ২টি ইঞ্জিনই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিমানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ল্যান্ডিং গিয়ার আর বিমানের ভিতরে প্রবেশ করেনি। আর ল্যান্ডিং গিয়ার বন্ধ করতে গিয়ে ফুয়েল কাট অফ স্যুইচ বন্ধ করে দেওয়াও অসম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া বৈদ্যুতিন কারণে ফুয়েল কাট অফ স্যুইচ অন থাকলেও সফটওয়্যারের ভুলে ২টি ইঞ্জিন একসঙ্গে বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও বিরল বলছেন তাঁরা। আর এক্ষেত্রে যে তেমন কিছু ঘটেনি তা বলছে ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডারের তথ্য।

পাইলটদের মানসিক স্বাস্থ্য (Conversation Between Two Pilots)
সব শেষে প্রশ্নের মুখে পড়েছে পাইলটদের মানসিক স্বাস্থ্য(Conversation Between Two Pilots)। প্রায় ১১ বছর আগে ঘটা মালেশিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমান MH 370-র অন্তর্ধান রহস্যের মতো এখানেও প্রশ্নের মুখে পড়ছে পাইলটদের ভূমিকা।অভিশপ্ত বিমানের পাইলট সুমিত সভরওয়ালের ৮২০০ ঘণ্টা বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা ছিল। সহকারী পাইলট ছিলেন ক্লাইভ কুন্দার। ১১০০ ঘণ্টা বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁরও। এহেন অভিজ্ঞ দুই পাইলট ভুলবশত জ্বালানি বন্ধ করে দেবেন, সেটা অস্বাভাবিক। তবে কি মানসিক অস্থিরতার কারণে পরিণতি জেনেও টেক অফের ঠিক পরে ফুয়েল টেক অফ স্যুইচ বন্ধ করে দিয়েছিলেন ২ পাইলটের কোনও একজন? এই প্রশ্নের জবাব পেতে গেলে ২ পাইলটের ব্যক্তিগত জীবন খতিয়ে দেখতে হবে তদন্তকারীদের।