Last Updated on [modified_date_only] by Ananya Dey
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : ‘একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যদি এমন অভিযোগ করেন, তাহলে তা আদালতের কাছে খুবই বিড়ম্বনার।’- পুলিশের অতিসক্রিয়তার বিরুদ্ধে প্রাক্তন রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের করা মামলায় এমনই মন্তব্য কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের (Calcutta high court)। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে, সেদিকে নজর দেওয়ার জন্য রাজ্যকে পরামর্শ আদালতের। মামলার সব পক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ বিচারপতি ঘোষের। আগামী ২৪ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানি।
সুকান্তর বিরুদ্ধে পুলিশের অতিসক্রিয়তার অভিযোগ (Calcutta high court)
পুলিশের অতিসক্রিয়তার বিরুদ্ধে গত বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন সদ্য প্রাক্তন রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার (Calcutta high court)। তিনি অভিযোগ করেন, বারবার পুলিশি হেনস্থার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাঁকে। তিনি একজন সাংসদ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তারপরও প্রতি মুহূর্তে তাঁর স্বাধীনভাবে চলাফেরায় বাধা দেওয়া হচ্ছে। একজন চিকিৎসকের বাড়িতে দেখা করতে গেলে বাধা দেওয়া হয়েছে। বিনা কারণে গ্রেফতার করে পুলিশ। এবং লালবাজারের সেন্ট্রাল লক আপে ১৬-১৭ ঘন্টা ধরে তাঁকে আটকে রেখে হেনস্থা করা হচ্ছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজে যাওয়ার সময়ও তাঁকে পুলিশের বাধার মুখে পড়তে হয়। তাঁর ব্যক্তি স্বাধীনতা এবং মৌলিক অধিকার ক্ষুন্ন হচ্ছে। বিজেপি রাজ্য সভাপতি ড. সুকান্ত মজুমদারের বিরুদ্ধে একটা চিঠিও লিখেছিলেন কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে (Calcutta high court)। কিন্তু কলকাতা পুলিশ কমিশনার তার উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি। তাই পুলিশের অতিসক্রিয়তার বিরুদ্ধে এবং পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী রাজনৈতিক দলের সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে গত বুধবার সকালে কলকাতা হাইকোর্টে সশরীরে হাজির হয়ে মামলা দায়ের করেন বিজেপি প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি।
মামলার শুনানিতে বিস্ময় প্রকাশ বিচারপতির (Calcutta high court)
মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানিতে রীতিমতো বিস্ময় প্রকাশ করলেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ (Calcutta high court)। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, রাজনৈতিক ব্যক্তিরা এমন অভিযোগ তুললে, তা আদালতের কাছে খুবই বিড়ম্বনার। সুকান্ত মজুমদারের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, সম্প্রতি তিন চারটি ঘটনায় সুকান্ত মজুমদারকে বিনা কারণে পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে গিয়ে হেনস্থা করেছে। একজন চিকিৎসকের বাড়িতে দেখা করতে গেলেও পুলিশ তাঁকে রাস্তা থেকে আটক করে নিয়ে যায়। এবং লালবাজারে সেন্ট্রাল লক আপে ১৬ ঘণ্টা ধরে তাঁকে আটকে রাখা হয়। প্রতি পদে পদে পুলিশের তাঁকে বাধা দেওয়ার ঘটনা বন্ধ করার আবেদন জানান সুকান্ত মজুমদারের আইনজীবী।
মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রাজ্যের
শুনানিতে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুকান্ত মজুমদারের এই মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন। সুকান্ত মজুমদার কোথাও যাওয়ার জন্য অনুমতি চেয়েছেন, কিন্তু সেই অনুমতি তাঁকে দেওয়া হয়নি, এমন উদাহরণ আদালতের সামনে দেখানোর আবেদন জানান তিনি। তারপরই মামলার এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলে হলফনামা জমা দেওয়ার অনুমতি চায় রাজ্য।
আরও পড়ুন : WB Heavy Rain Situation: পশ্চিমবঙ্গে বর্ষার তাণ্ডব, জল ছাড়ছে ডিভিসি, জারি সতর্কতা!
‘ ভবিষ্যতে এমন যেন না হয় ‘
রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলের উদ্দেশ্যে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘এই ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে না ঘটে সেটা একটু দেখুন। একজন আমজনতা যদি আদালতে এসে এইরকম অভিযোগ করেন, তাহলে আদালতকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। কিন্তু একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যদি এমন অভিযোগ করেন তাহলে তা আদালতের কাছে খুবই বিড়ম্বনার। এটা সম্পূর্ণ একটা অপ্রয়োজনীয় বিবাদ।’ এরপরই বিচার প্রতি তীর্থঙ্কর ঘোষ মামলার সব পক্ষকে হলফনামা জামা দেওয়ার নির্দেশ দেন। আগামী ২৪ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানি।