Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: জুলাই মাস মানেই উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মের (Europe Heat Situation) তীব্রতা। কিন্তু এবছর সেই উষ্ণতা যেন সমস্ত সীমা ছাড়িয়ে গেছে। ইউরোপের বহু দেশ চরম তাপপ্রবাহের কবলে পড়েছে। এর প্রভাবে ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে অন্তত আটজনের। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বহু মানুষ। আর গরমের প্রভাবে প্রাকৃতিক ও পরিকাঠামোগত বিপর্যয়ও দেখা দিচ্ছে একের পর এক।
৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠেছে পারদ (Europe Heat Situation)
দক্ষিণ ইউরোপের দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ভুগছে এই (Europe Heat Situation) সময়ে। স্পেনের সেভিলে তাপমাত্রা ছুঁয়েছে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর এল গ্রানাদোয় রেকর্ড ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠে গিয়েছে পারদ যা জুন মাসে স্পেনের ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ। গ্রীসে তাপপ্রবাহের সঙ্গে শুষ্ক আবহাওয়ার সংমিশ্রণে ছড়িয়ে পড়েছে দাবানল। একই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তুরস্ক ও স্পেনের কিছু অঞ্চলেও।
ফ্রান্সের অবস্থা ভালো নয় (Europe Heat Situation)
ফ্রান্সের অবস্থা খুব একটা ভালো (Europe Heat Situation) নয়। তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি পার করে গিয়েছে বহু অঞ্চলে। প্যারিসে পর্যটকদের নিরাপত্তার কারণে আইফেল টাওয়ারে ওঠাও বন্ধ রাখা হয়েছে। অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অনেকেই, তাদের মধ্যে কয়েকশো মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। ইতালির রোম, মিলান, নেপলস, পালেরমো সব শহরেই অস্বাভাবিক গরম অনুভূত হচ্ছে। ইতালির ১৮টি শহরে ‘লাল সতর্কতা’ জারি করেছে সরকার। এই সতর্কতা জারি হয়েছে অস্ট্রিয়া, সার্বিয়া, বসনিয়া ও স্লোভেনিয়ার মতো দেশেও।
‘লাল সতর্কতা’ জারি
তাপপ্রবাহের মারাত্মক প্রভাব পড়েছে পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায়ও। দক্ষিণ ফ্রান্সের গল্ফেক পারমাণবিক কেন্দ্রের একটি চুল্লি এবং সুইৎজারল্যান্ডের বেজনাও কেন্দ্রের দুটি চুল্লি বন্ধ রাখতে হয়েছে নদীর জলের অতিরিক্ত উষ্ণতার কারণে। এই সব কেন্দ্রে নদীর ঠান্ডা জল ব্যবহার করে চুল্লির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কিন্তু নদীর জল যখন নিজেই ২৫ ডিগ্রির বেশি হয়ে যায়, তখন তা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। এমন অবস্থায় ব্যবহৃত গরম জল ফের নদীতে ছেড়ে দেওয়া যায় না, যার ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রাখা ছাড়া উপায় থাকে না।

আরও পড়ুন: 4 July Horoscope: আজ সারাদিন মকর রাশির ভাগ্যে কী আছে লেখা?
প্রধান কারণ বিশ্ব উষ্ণায়ন
আবহাওয়াবিদদের মতে, এই পরিস্থিতির পিছনে অন্যতম প্রধান কারণ বিশ্ব উষ্ণায়ন। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রার ওঠানামা মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, আগামী বছরগুলোতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। যে ইউরোপ, মহাদেশ বরাবরই তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক গ্রীষ্মের জন্য পরিচিত ছিল, আজ তা তাপপ্রবাহের সামনে অসহায়।