ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: হঠাৎই আর কাজ হচ্ছে না পরিচিত ওষুধে। রমরমিয়ে বাড়ছে জাল ওষুধের চক্র (Fake Madicine)। নামী ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানির ওষুধের QR কোড জাল করে প্রতারণা। প্রশ্ন হল, কী ভাবে জাল ওষুধের চক্র দেশ এবং রাজ্যের সীমানা পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে?
স্বাস্থ্য দফতরের দুর্নীতি? (Fake Madicine)
জাল ওষুধের কারবার নতুন নয়। তবে গত কয়েকদিনে বেড়েছে জাল ওষুধের রমরমা (Fake Madicine)। শহর থেকে জেলা, সর্বত্রই একের পর এক জাল ওষুধের খোঁজ। শেষ কয়েক মাসে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল এবং ‘সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন’ কয়েক লক্ষ টাকার জাল ওষুধ বাজেয়াপ্ত করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে আমতা, বড়বাজার থেকে উল্টোডাঙা, নানা জায়গাতেই জাল ওষুধ ধরা পড়ার ঘটনা ঘটেছে।
আরও পড়ুন: Weather: চৈত্রেই তাপপ্রবাহের চোখরাঙানি! ইদেও অস্বস্তিকর গরম
প্যারাসিটামল, অ্যান্টিবায়োটিক, রক্তচাপ, সুগার, গ্যাসের ওষুধের মতো যেগুলির চাহিদা প্রতিনিয়ত রয়েছে, সেগুলি জাল হচ্ছে বেশি। মূলত ভিন্ রাজ্য থেকে নির্দিষ্ট পথে কলকাতায় পৌঁছচ্ছে নকল ওষুধ। কেন? জাল ওষুধের রমরমা থাবা বসাচ্ছে স্বাস্থ্যে। এর সঙ্গে কি যোগ রয়েছে বাংলার স্বাস্থ্য দফতরের দুর্নীতির? সেই প্রশ্নও তুলেছে চিকিত্সক মহলের একাংশ।

সরকারের সরবরাহ করা ওষুধ (Fake Madicine) অন্যত্র বিক্রি করে দিয়ে, দিনের পর দিন জাল ওষুধ আনা হচ্ছে। তা ব্যবহারও করা হচ্ছে। এমন বড়সড় দুর্নীতির কথা জেনে ফেলাই কি আরজি করের তরুণী চিকিৎসক-পড়ুয়ার কাল হয়েছিল? এ নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট করে কেউ কিছু বলতে রাজি নন। তবে, ওই চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার নেপথ্যে বিভিন্ন প্রশ্নের মধ্যে এটাও তুলছেন আরজি করের তো বটেই, বাইরের চিকিৎসকদের একাংশও।
আরও পড়ুন: South Dum Dum Municipality: দক্ষিণ দমদমে হোর্ডিংয়ে আয় বৃদ্ধির পরিকল্পনা!
বেশি ডিসকাউন্ট দিতে গিয়ে বিপত্তি! (Fake Madicine)
বেশি ডিসকাউন্টে ওষুধ বিক্রি করতে গিয়েই কি বাড়ছে জাল ওষুধের রমরমা? এবার এই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছে রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগ৷ রাজ্যে পর পর নামী এবং জনপ্রিয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের জাল ওষুধ (Fake Madicine) উদ্ধার হওয়ার পরই তৎপরতা বাড়িয়েছে ড্রাগ কন্ট্রোল দফতর৷ সূত্রের খবর, রাজ্যের যে সমস্ত খুচরো ওষুধ বিক্রেতা কুড়ি শতাংশ অথবা তার থেকেও বেশি ডিসকাউন্টে ওষুধ বিক্রি করে, তাদের প্রত্যেককে চিঠি দেওয়া হচ্ছে ড্রাগ কন্ট্রোলের পক্ষ থেকে৷ অনলাইনে যে সমস্ত সংস্থা বেশি ছাড়ে ওষুধে বিক্রি করছে, তাদের কাছেও চিঠি পাঠানো হচ্ছে৷ কীভাবে ওষুধের দামের উপরে এত ছাড় বা ডিসকাউন্ট দেওয়া হচ্ছে, সেটাই জানতে চাওয়া হয়েছে চিঠিতে৷ ১৫ দিনের মধ্যে চিঠির জবাব দিতে বলা হয়েছে৷
গত বছর ডিসেম্বর মাসে খাস কলকাতা থেকে জাল ওষুধ (Fake Madicine) ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেফতার হন এক মহিলা। সেই ঘটনার সঙ্গে আবার বাংলাদেশ যোগও পাওয়া যায়। প্রায় ৬.৬ কোটি টাকা মূল্যের ওষুধ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল সেই সময়। ওষুধগুলি আমেরিকা, বাংলাদেশ, তুরস্কের তৈরি ছিল।