Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে চলছে মৃত্যু ও ধ্বংসের মিছিল। প্রবল বর্ষণ এবং মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে হড়পা বান ও ধসে তছনছ হয়ে গিয়েছে বহু গ্রাম, গৃহহীন হয়েছে হাজার হাজার মানুষ(Flood In Pakistan)। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এপি জানিয়েছে, শনিবার নতুন করে ৬৩টি দেহ উদ্ধার হয়েছে ধসের ধ্বংসস্তূপ থেকে। ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২০-তে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, কারণ এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ।
পাক অধিকৃত কাশ্মীর সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত (Flood In Pakistan)
পাকিস্তানের জাতীয় বিপর্যয় নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (NDMA) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বর্ষা মৌসুমে ২ জুন থেকে এখন পর্যন্ত দেশে বৃষ্টিজনিত কারণে ৫৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে (Flood In Pakistan)। এর মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বুনের জেলা। বুনেরের পীরবাবা ও মালিকপুরা গ্রামের মতো এলাকায় জলের স্রোত এতটাই তীব্র ছিল যে মুহূর্তে ঘরবাড়ি, দোকানপাট, রাস্তা সবকিছু ভেসে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে পালানোরও সুযোগ পাননি।
পাক অধিকৃত কাশ্মীরেও হড়পা বান গ্রাস করেছে গ্রামের পর গ্রাম। পাহাড়ি অঞ্চলে আটকে পড়েছেন বহু পর্যটক; উদ্ধারকাজ চলছে সেনা ও উদ্ধারকারীদের যৌথ উদ্যোগে।
শিশু ও পুরুষদের মৃত্যু বেশি, মহিলারা তুলনামূলক নিরাপদ (Flood In Pakistan)
বুনের জেলার এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, মৃতদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু ও পুরুষ(Flood In Pakistan)। বিপর্যয়ের সময় মহিলারা অনেকেই পাহাড়ে কাঠ কাটতে বা গবাদি পশু চরাতে গিয়েছিলেন, ফলে তাঁরা জলের তোড় থেকে কিছুটা রক্ষা পান।
শুধু চলতি সপ্তাহেই খাইবার পাখতুনখোয়া এবং গিলগিট-বালটিস্তানে ৩৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন : Russia Ukraine War : যুদ্ধবিরতির সমাধান সূত্র জেলেনস্কির হাতে, পুতিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে বললেন ট্রাম্প
২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি ফিরিয়ে আনল বিপর্যয় (Flood In Pakistan)
২০২২ সালে পাকিস্তান (Shehbaz Sharif) ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ বর্ষা মৌসুম দেখেছিল, যখন বন্যা ও হড়পা বানে প্রাণ হারিয়েছিলেন প্রায় ১,৭০০ জন। এবারও পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠছে(Flood In Pakistan)। আবহাওয়া দফতরের দাবি, এ বছর স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি বৃষ্টি হচ্ছে, যা পাহাড়ি এলাকায় হড়পা বান ও ধসের ঝুঁকি বহুগু বাড়িয়ে দিয়েছে।

আরও পড়ুন : Trump Zelensky Meeting : জেলেনস্কিকে ফোন ট্রাম্পের, সোমবারই ওয়াশিংটনে বৈঠকের সম্ভাবনা !
উদ্ধার ও ত্রাণে সময়ের সঙ্গে পাল্লা (Flood In Pakistan)
বর্তমানে শতাধিক উদ্ধারকারী দল দিনরাত কাজ করছে(Flood In Pakistan)। সেনাবাহিনী, পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন একযোগে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। তবে দুর্যোগকবলিত অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
পাকিস্তানি প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি সহায়তা এবং অস্থায়ী আশ্রয়শিবির খোলা হলেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা এত বেশি যে প্রয়োজনের তুলনায় তা অনেকটাই অপর্যাপ্ত। আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলিকেও ইতিমধ্যে সাহায্যের আবেদন জানানো হয়েছে।