Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: জীবনের অমোঘ সত্যই হল মৃত্যু (Garuda Purana)। তবে সব মৃত্যু একরকম নয়। হিন্দু ধর্মশাস্ত্র অনুযায়ী, একজন মানুষের মৃত্যু সময়মতো হলে তা স্বাভাবিক, কিন্তু সময়ের আগেই যদি মৃত্যু ঘটে, তা হলে তাকে বলা হয় অকাল মৃত্যু। এই ধরনের মৃত্যুকে ঘিরে বহু ধর্মীয় ব্যাখ্যা রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম ব্যাখ্যা রয়েছে গরুড় পুরাণে।
অকাল মৃত্যু কাকে বলে? (Garuda Purana)
গরুড় পুরাণ হল হিন্দু ধর্মের ১৮টি মহাপুরাণের একটি পুরাণ (Garuda Purana)। সেখানে অকাল মৃত্যুকে এক বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এই পুরাণ অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি যদি অস্বাভাবিক বা আকস্মিক উপায়ে প্রাণ হারান- যেমন দুর্ঘটনা, আগুনে পুড়ে যাওয়া, বিষক্রিয়া, জলে ডুবে মৃত্যু, আত্মহত্যা বা সাপের কামড়ে মৃত্যু-তবে তাঁর মৃত্যুকে ‘অকাল’ বলে ধরা হয়।
কোথায় হয় ঠাঁই? (Garuda Purana)
এই ধরনের মৃত্যুতে আত্মার মুক্তি সহজে হয় না বলেই বিশ্বাস করা হয় (Garuda Purana)। গরুড় পুরাণে বলা হয়েছে, যাদের অকাল মৃত্যু হয়, তাদের আত্মার জীবনচক্র অসম্পূর্ণ রয়ে যায়। ফলে সেই আত্মা না স্বর্গে যেতে পারে, না নরকে ঠাঁই পায়। অর্থাৎ তারা একধরনের ‘মাঝামাঝি’ অবস্থায় থাকে যাকে ‘ভ্রাম্যমাণ আত্মা’ বলা যেতে পারে।
অকাল মৃত্যু একপ্রকার পাপের ফল
এই পরিস্থিতিতে আত্মাটি শান্তি পায় না এবং কষ্ট ভোগ করতে থাকে। কারণ, তার আয়ু পূর্ণ না হওয়ায় জীবনচক্র সম্পূর্ণ হয়নি। গরুড় পুরাণে এমনটাও বলা হয় যে, অকাল মৃত্যু একপ্রকার পাপের ফলও হতে পারে, যদিও এই ব্যাখ্যা বিতর্কিত, এবং ধর্মীয় দৃষ্টিকোণেই দেখা হয়।

আরও পড়ুন: Dibyojyoti- Ankita: জমজমাট দিব্যজ্যোতি-অঙ্কিতার কেমিস্ট্রি! টলিপাড়ার হাওয়ায় নতুন ইঙ্গিত
তবে এই প্রসঙ্গে মনে রাখতে হবে, এই ব্যাখ্যাগুলি মূলত ধর্মীয় বিশ্বাস এবং শাস্ত্রীয় দর্শনের ভিত্তিতে তৈরি। বাস্তবিক বা বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে মৃত্যুর পর কী ঘটে, তা আজও নির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত নয়। তবুও বহু মানুষ বিশ্বাস করেন যে আত্মার যাত্রা মৃত্যুর পরও চলতে থাকে, এবং তা নির্ভর করে জীবনের কর্মফল ও মৃত্যুর প্রক্রিয়ার উপর।