ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : খুব তাড়াতাড়ি বসতে চলেছে জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠক(GST Council Meeting)। আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে কর কাঠামো সহজীকরণ, ট্যাক্স স্ল্যাব কমানো এবং ভোক্তা ও ব্যবসায়িক মহলের জন্য স্বস্তি আনয়নের পরিকল্পনা। কর কমলে পণ্যের দাম সস্তা হবে, খরচ বাড়বে, অর্থনীতিতে ফিরতে পারে গতি। তবে এর ফলে রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা তীব্র। এসবিআই ও অ্যাম্বিট ক্যাপিটালের অনুমান, কেন্দ্র ও রাজ্যের সম্মিলিত ক্ষতি বছরে ৭০ হাজার কোটি থেকে ১.৮ লাখ কোটি টাকার মধ্যে হতে পারে।
রাজস্ব ঘাটতির শঙ্কা রাজ্যগুলিতে (GST Council Meeting)
অ্যাম্বিট ক্যাপিটাল এই সংস্কারকে বলছে একপ্রকার “ফিসক্যাল স্টিমুলাস”(GST Council Meeting)। রিপোর্টে বলা হয়েছে, আয়ের কর ছাড়ের তুলনায় জিএসটি হ্রাস ভোক্তার কাছে সরাসরি পৌঁছায় এবং তার ফলে জিডিপি ২০ থেকে ৫০ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে এই সুবিধার বিপরীতে রাজস্ব ক্ষতি মারাত্মক হতে পারে(Nirmala Sitharaman)। বিশেষত যেসব রাজ্যে খরচ বেশি, যেমন উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মহারাষ্ট্র ও গুজরাট—সেগুলিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে।
মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, গুজরাট, তামিলনাড়ু ও হরিয়ানা ভারতের বৃহত্তম জিএসটি দাতাদের মধ্যে। ফলে এই রাজ্যগুলির রাজস্ব ঘাটতির অঙ্কও হবে বেশি। অন্যদিকে কেরালা, পাঞ্জাব, উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশের মতো রাজ্যে অনুপাতগত ক্ষতি তুলনামূলক বেশি হবে, কারণ তাদের মোট কর আয়ের ৩০–৪০ শতাংশই আসে জিএসটি থেকে।
ক্ষতিপূরণের পথ কতটা খোলা?(GST Council Meeting)
অক্টোবরে শেষ হচ্ছে জিএসটি ক্ষতিপূরণ সেস। কোভিড-যুগের ঋণ শোধ করতে এখন সেটাই ব্যবহার হচ্ছে(GST Council Meeting)। ফলে সেস তুলে নেওয়ার পর রাজ্যগুলিকে বিকল্প পথ খুঁজতে হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভোগ বাড়ার ফলে রাজস্ব কিছুটা পুষিয়ে দেওয়া সম্ভব। পাশাপাশি ‘সিন গুডস’-এর উপর প্রস্তাবিত ৪০ শতাংশ কর, জ্বালানি ও মদের কর বাড়ানো এবং কর ফাঁকি রোধে কড়া নজরদারির মাধ্যমেও ক্ষতি সামাল দিতে পারে রাজ্য সরকারগুলি।

আরও পড়ুন : Indian Army Rescue Operation : পাঞ্জাবে বন্যাদুর্গতদের পাশে ভারতীয় সেনা, উদ্ধার অভিযানে সেনার হেলিকপ্টার
রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আশঙ্কা(GST Council Meeting)
আগামী ৩-৪ সেপ্টেম্বরের বৈঠককে ঘিরে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে টানাপোড়েন(GST Council Meeting)। যেসব রাজ্য জিএসটি রাজস্বের উপর বেশি নির্ভরশীল, তারা হ্রাসের বিরোধিতা করতে পারে বা অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি তুলতে পারে। কাউন্সিলের ভোটিং পদ্ধতিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রের ভোটের ওজন এক-তৃতীয়াংশ, আর সব রাজ্যের মিলিত ভোট দুই-তৃতীয়াংশ। কোনো প্রস্তাব পাশ করতে হলে মোট ভোটের কমপক্ষে ৭৫ শতাংশ সমর্থন লাগবে। ফলে কিছু রাজ্য আপত্তি তুললেও কেন্দ্র ও অন্যান্য রাজ্যের সমর্থন থাকলে প্রস্তাব পাস হয়ে যাবে। তবে বড় রাজ্যগুলির আপত্তি থাকলে কেন্দ্রকেও বাধ্য হতে হবে সমঝোতায়।

আরও পড়ুন : V Day Parade In China : চিনের বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে পুতিন-কিম সহ ২৬ দেশের নেতা, শক্তি প্রদর্শনে বেজিং
অপেক্ষায় ব্যবসায়িক মহল ও ভোক্তারা
সব মিলিয়ে, জিএসটি সংস্কার নিয়ে সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে কেন্দ্র-রাজ্যের রাজনৈতিক সমঝোতার উপর। ব্যবসায়ী মহল আশা করছে, সংস্কার হলে বাজারে পণ্যের দাম কমবে এবং খরচ বাড়বে। তবে বিলম্ব হলে অনিশ্চয়তা বাড়বে এবং তার প্রভাব পড়বে সরবরাহ শৃঙ্খল থেকে শুরু করে ভোক্তার ব্যয়ক্ষমতা পর্যন্ত।