Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : অনেকে রাতের ঘুমের সময় নাক ডাকাটা একেবারেই স্বাভাবিক মনে করেন (Sleep Apnea), বাস্তবে এটি শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা বড়ো সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। ঘুমের ঘোরে অনেকেই এমনভাবে নাক ডাকেন যে গর্জনের শব্দে আশেপাশের মানুষের ঘুম ভেঙে যায়। পরিবারে বা সঙ্গীর কাছে এই বিষয়টি অস্বস্তির কারণ হলেও, নাক ডাকা ব্যক্তি নিজে সাধারণত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবেন না। বরং সকালে উঠে যখন তাকে বলা হয়, “তুমি রাতে অনেক জোরে নাক ডাকছিলে”, তখন বেশিরভাগ সময়ই তিনি তা বিশ্বাস করতে চান না বা বিষয়টি হালকাভাবে উড়িয়ে দেন।

চিকিৎসকদের মতে, জীবনযাপনের অনিয়ম, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অতিরিক্ত বাইরের খাবার খাওয়া, ধূমপান বা মদ্যপান, এবং অতিরিক্ত ওজন — সব মিলিয়ে শরীরের ভেতরে নানা শারীরিক সমস্যা তৈরি হয়। এর মধ্যে একটি বড়ো সমস্যা হচ্ছে ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’ যা অনেক সময় নাক ডাকার আড়ালে লুকিয়ে থাকে।
স্লিপ অ্যাপনিয়া কী? (Sleep Apnea)
স্লিপ অ্যাপনিয়া হলো এক ধরনের (Sleep Apnea) ঘুমজনিত শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা, যেখানে ঘুমের মধ্যে বারবার শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় বা খুব দুর্বল হয়ে পড়ে। এটি কয়েক সেকেন্ড থেকে শুরু করে অনেক সময় ৩০ সেকেন্ড বা তারও বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে। ঘন ঘন এমন হলে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায়, হৃদপিণ্ডের ওপর চাপ বাড়ে, এবং মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছায় না।
নাক ডাকা ও স্লিপ অ্যাপনিয়ার সম্পর্ক (Sleep Apnea)
প্রত্যেক নাক ডাকাই স্লিপ অ্যাপনিয়া নয়, তবে চিকিৎসকদের মতে যদি ৫০ বছরের আগেই নাক ডাকা খুব তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী হয়ে ওঠে, তাহলে সতর্ক হওয়া জরুরি। নাক ডাকার প্রবলতা, ধরণ ও ঘুমের সময়কার শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যাঘাত — সবই স্লিপ অ্যাপনিয়ার সম্ভাবনা নির্দেশ করতে পারে।

স্লিপ অ্যাপনিয়ার প্রধান লক্ষণ (Sleep Apnea)
চিকিৎসকেরা কয়েকটি স্পষ্ট উপসর্গ চিহ্নিত করেছেন, যা থাকলে বিষয়টিকে হালকা ভাবে নেওয়া ঠিক নয়—
তীব্র স্বরে নাক ডাকা
স্লিপ অ্যাপনিয়ার ক্ষেত্রে নাক ডাকার শব্দ সাধারণ নাক ডাকার তুলনায় অনেক বেশি জোরে ও দীর্ঘস্থায়ী হয়। অনেক সময় শব্দ এত প্রবল হয় যে পাশের ঘরে থাকা লোকও শুনতে পান।
গলা শুকিয়ে যাওয়া ও শ্বাসকষ্ট
ঘুমের মধ্যে নাক দিয়ে স্বাভাবিক শ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে যায়, ফলে মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে হয়। এর ফলে সকালে ঘুম ভাঙার পর গলা খুব শুকিয়ে আসে এবং শ্বাস নিতে অস্বস্তি হয়।
দিনভর ক্লান্তি ও ঝিমুনি
রাতে বারবার শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে গভীর ঘুম হয় না। ফলে সকালে উঠেও বিশ্রাম পাওয়া যায় না, সারাদিন অবসাদ, ঝিমুনি ও মনোযোগের ঘাটতি দেখা দেয়। অনেক সময় কর্মক্ষমতা কমে যায়।
রাতের ঘন ঘন দুঃস্বপ্ন
অক্সিজেনের ঘাটতি ও ঘুমের ব্যাঘাতের কারণে অনেকেই রাতে বারবার দুঃস্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙে যায়।
মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরা
স্লিপ অ্যাপনিয়ায় ঘুমের সময় শরীরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পৌঁছানোর কারণে সকালে ঘুম থেকে উঠে মাথা ভারী লাগে, তীব্র মাথাব্যথা হয় বা মাথা ঘোরে।
কেন অবহেলা করা উচিত নয় (Sleep Apnea)
স্লিপ অ্যাপনিয়া দীর্ঘদিন চিকিৎসা ছাড়া থাকলে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্ট্রোক এমনকি স্মৃতিশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। শুধু নাক ডাকার শব্দ কমানো নয়, বরং এর আসল কারণ খুঁজে বের করাই জরুরি।
আরও পড়ুন : Kalna: কচু পাতার উপর উদ্ধার সদ্যজাত সন্তান
কী করা উচিত (Sleep Apnea)
- চিকিৎসকের পরামর্শ নিন — নাক ডাকার তীব্রতা বা শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যার কথা ডাক্তারকে জানান।
- জীবনযাপনে পরিবর্তন আনুন — নিয়মিত শরীরচর্চা করুন, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন, ধূমপান ও মদ্যপান কমান।
- ঘুমের অভ্যাস ঠিক করুন — নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমোতে যান ও পর্যাপ্ত সময় ঘুমান।
- শরীরের ভঙ্গি বদলান — অনেক সময় চিৎ হয়ে ঘুমালে নাক ডাকা বাড়ে, পাশ ফিরে ঘুমালে তা কিছুটা কমতে পারে।