Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: দীর্ঘদিন ধরে গ্রীষ্মকাল মানেই ইউরোপে ছুটি, ভ্রমণ আর স্বস্তির (Heatwave in Europe) খোঁজ। কিন্তু এবার সেই ইউরোপই যেন ধোঁয়ায় জ্বলছে। দক্ষিণ ইউরোপের একাধিক দেশে এখন চলছে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ। কলকাতার গরম থেকে পালাতে যদি দক্ষিণ আল্পসের কোলে ঘোরার পরিকল্পনা থাকে, তা হলে দু’বার ভাবতে হবে। কারণ সুইৎজ়ারল্যান্ডের শহরগুলোই এখন কলকাতা কিংবা দিল্লির থেকেও বেশি উত্তপ্ত।
ছয় দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা (Heatwave in Europe)
জুরিখ, জেনেভা, লিসবন, মার্সেই, নেপল্স সব শহরের (Heatwave in Europe) তাপমাত্রা ৩৯ থেকে ৪৬ ডিগ্রির মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। স্পেনের লা গ্রানাদো শহরে তাপমাত্রা ছুঁয়েছে ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা গত ছয় দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। পর্তুগালের আলভেগায় পারদ চড়েছে ৪৫ ডিগ্রিতে। ফ্রান্সে দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় দাবানলের প্রভাবে বহু মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরাতে হয়েছে।
অস্বাভাবিক তাপমাত্রা (Heatwave in Europe)
অন্য দিকে, সুইৎজ়ারল্যান্ডের আল্পসের শহর জুরিখে যেখানে রবিবার (Heatwave in Europe) তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি, সেখানে একই দিনে কলকাতায় পারদ থেমেছে ৩০ ডিগ্রিতে, আর দিল্লিতে ২৭ ডিগ্রিতে। এমনকি ব্রিটেনের মতো দেশেও তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি ছুঁয়ে যাচ্ছে, যা সেই দেশের জন্য প্রায় অস্বাভাবিক।
ইউরোপে দীর্ঘ খরার প্রভাব
গরমের তীব্রতা এতটাই ভয়ানক যে খেলোয়াড়রাও রেহাই পাচ্ছেন না। উইম্বলডন টেনিস টুর্নামেন্টে তিউনিসিয়ার তারকা ওন্স জাবেউর গরমের জন্য ম্যাচ ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় খেলাটি আর চালিয়ে যেতে পারেননি।আবহাওয়াবিদেরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী বিশ্ব উষ্ণায়ন এবং পশ্চিম ইউরোপে বিরাজমান একটি উচ্চচাপ বলয়, যা উত্তর আফ্রিকার গরম বায়ুকে ইউরোপে টেনে আনছে। কোপারনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস এবং বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপে চরম আবহাওয়ার প্রকোপ আগামী দিনে আরও বাড়বে। শুধু গ্রীষ্মেই নয়, শীতকালেও দক্ষিণ ইউরোপে দীর্ঘ খরার প্রভাব লক্ষ করা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: Rathayatra 2025: বাড়িতেই জগন্নাথের কৃপা লাভ, রথের রশিতে টান দিতে না পারলেও মিলবে সমান ফল!

এই অবস্থায় ইউরোপের একাধিক প্রশাসন জনসাধারণকে রোদে না বেরোনোর পরামর্শ দিচ্ছে, বাড়তি জল খাওয়া, সুইমিং পুল খোলার মতো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালে তাপপ্রবাহ নতুন নয়, কিন্তু এ বছরের মাত্রা অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে যাচ্ছে। ইউরোপে এখন আর ছুটির মরসুম নয়, বরং বেঁচে থাকার লড়াই। গ্রীষ্মের ছুটি কাটাতে ইউরোপ ভ্রমণের আগে তাই আবহাওয়ার হালচাল জেনে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।