Last Updated on [modified_date_only] by Anustup Roy Barman
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: কানাডার ওটাওয়ায় এক কনট্রাক্ট কিলার দোষী সাব্যস্ত হয়েছে (Hitman Sentenced To Life)। ১৯৮৫ সালের এয়ার ইন্ডিয়া বিমান বিস্ফোরণের এক সন্দেহভাজনকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে তাঁকে।
মঙ্গলবার ট্যানার ফক্সকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালে রিপুদমন সিং মালিককে হত্যার অভিযোগে এই সাস্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মালিক ১৯৮৫ সালের এয়ার ইন্ডিয়া বিমান বিস্ফোরণ মামলায় সন্দেহভাজন ছিলেন, তবে পরে আদালত তাকে মুক্তি দেয়।
ভাড়াটে খুনিদের স্বীকারোক্তি (Hitman Sentenced To Life)
ট্যানার ফক্স ও তার সহযোগী হোসে লোপেজ ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে দোষ স্বীকার করে (Hitman Sentenced To Life)। তারা মালিককে খুনের জন্য টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করলেও, কে টাকা দিয়েছিল তা প্রকাশ করেনি। ভ্যাঙ্কুভারের এক শহরতলিতে তারা মালিককে গুলি করে হত্যা করে। লোপেজের পরবর্তী শুনানির দিন ৬ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত হয়েছে।
এয়ার ইন্ডিয়া ‘কনিষ্ক’ বোমা হামলা: কী ঘটেছিল? (Hitman Sentenced To Life)
২৩ জুন ১৯৮৫ সালে, এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট ১৮২ টরন্টো থেকে মুম্বাই যাচ্ছিল (Hitman Sentenced To Life)। আইরিশ উপকূলে পৌঁছানোর আগেই বিমানটি বিস্ফোরিত হয়। ৩২৯ জন আরোহীর কেউই বেঁচে থাকেনি। বিমানটি বোয়িং ৭৪৭-২৩৭বি মডেলের ছিল এবং এর নাম ছিল ‘এম্পেরর কনিষ্ক’। বিস্ফোরণের কোনও সতর্কবার্তা বা জরুরি সংকেত পাওয়া যায়নি।
এই হামলাটি ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসবাদী হামলার আগ পর্যন্ত ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বিমান সন্ত্রাসবাদী হামলা ছিল।
দ্বিতীয় বিস্ফোরণ ও কানাডার শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা
একই সময়ে, জাপানের নারিতা বিমানবন্দরে আরও একটি বিস্ফোরণ ঘটে। এই বিস্ফোরণে এয়ার ইন্ডিয়ার আরেকটি বিমানে মাল তুলছিল এমন দুইজন ব্যাগেজ কর্মী মারা যান। তদন্তে জানা যায়, দুটি বিস্ফোরণেই লাগেজের মধ্যে রাখা বোমা ব্যবহার করা হয়েছিল। দুটি লাগেজই কানাডার ভ্যাঙ্কুভার থেকে পাঠানো হয়েছিল, যেখানে বড় সংখ্যক শিখ অভিবাসী বসবাস করেন।
কানাডার সরকারি তদন্তে জানা যায়, পাঞ্জাবের অমৃতসরে ‘অপারেশন ব্লু স্টার’-এর প্রতিশোধ নিতে কানাডার শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা এই হামলা চালায়।
এই হামলায় কারা জড়িত ছিল?
বোমা হামলার পাঁচ মাস পরে, দুইজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন তালবিন্দর সিং পারমার এবং ইন্দরজিত সিং রেয়াত
কানাডা সরকার বিশ্বাস করত, পারমার এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন। কিন্তু প্রমাণের অভাবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নেওয়া হয়।
২০০০ সালে আরও দুইজন অভিযুক্ত হন এই মামলায়। তারা হলেন রিপুদমন সিং মালিক এবং আজাইব সিং বাগরি। কিন্তু ২০০৫ সালে, প্রমাণের অভাবে তারাও আদালতে মুক্তি পেয়ে যায়।
একমাত্র সাজাপ্রাপ্ত আসামি
ইন্দারজিত সিং রেয়াত হলেন এই বোমা হামলার সঙ্গে যুক্ত একমাত্র ব্যক্তি, যিনি সাজা পেয়েছেন। তিনি বোমা বানানোর দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। মালিক ও বাগরির বিচারের সময় মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার জন্যও তাকে সাজা দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: Elon Musk: স্পেস স্টেশনে আটকে থাকা দুই মার্কিন মহাকাশচারীকে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব নিলেন এলন মাস্ক
মালিক কেন খুন হলেন?
রিপুদমন সিং মালিক ১৯৮৫ সালের এয়ার ইন্ডিয়া বিস্ফোরণের অভিযোগ থেকে মুক্তি পান। তবে কানাডার অনেকেই মনে করতেন, তিনি এই হামলায় জড়িত ছিলেন। ২০২২ সালের জুলাই মাসে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
খুনিদের উদ্দেশ্য কী ছিল?
ফক্স ও লোপেজ টাকার বিনিময়ে মালিককে হত্যা করেছিল। কিন্তু কে তাদের এই খুনের জন্য টাকা দিয়েছে, তারা প্রকাশ করেনি।
আসল পরিকল্পনাকারী এখনও অধরা
১৯৮৫ সালের এয়ার ইন্ডিয়া বোমা হামলা এখনও ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ বিমান সন্ত্রাসী হামলা। কানাডার শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা এই হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। রিপুদমন সিং মালিককে হত্যার মাধ্যমে এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ট্যানার ফক্স যাবজ্জীবন সাজা পেলেও, এই হত্যার আসল পরিকল্পনাকারী এখনও অজানা।