Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ঢাকা-নয়াদিল্লি বাণিজ্য সম্পর্কের আরেকটি নতুন অধ্যায় খুলে দিল ভারতের(Narendra Modi) কেন্দ্রীয় সরকার(India Bangladesh Trade)। সোমবার (১২ আগস্ট) ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রকের অধীন ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি) একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে—বাংলাদেশ থেকে পাট এবং পাটজাত দড়ি, বস্তা, ব্যাগ, ব্লিচ করা বা ব্লিচ না-করা চটে বোনা কাপড়সহ একাধিক পণ্য আর স্থলপথে ভারতে প্রবেশ করতে পারবে না। কেবল মহারাষ্ট্রের নবি মুম্বইয়ের নবসেবা সমুদ্রবন্দর দিয়ে এসব পণ্য আমদানি করার অনুমতি দেওয়া হবে।
এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার ফলে বাংলাদেশ থেকে ভারতের পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে সরাসরি পাটজাত পণ্য রফতানির পথ বন্ধ হয়ে গেল। এর ফলে সীমান্তবর্তী স্থলবন্দরগুলো—বেনাপোল, ভোমরা, সোনামসজিদ, বাংলাবান্ধা এবং বুড়িমারি—মাধ্যমে এই ধরনের পণ্য প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে।
অতীতের ধারাবাহিকতা (India Bangladesh Trade)
এটি কোনও একক ঘটনা নয়। এর আগে কয়েক মাস ধরেই বাংলাদেশি পণ্যের স্থলপথে ভারতে প্রবেশে ধারাবাহিকভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করছে মোদী সরকার(India Bangladesh Trade)।
- এপ্রিল ২০২৫: ভারত বাংলাদেশকে ‘ট্রান্সশিপমেন্ট’ সুবিধা দেওয়া বন্ধ করে দেয়, যার ফলে বাংলাদেশের পণ্য ভারতের শুল্ককেন্দ্র ব্যবহার করে তৃতীয় কোনও দেশে রফতানি সম্ভব হয়নি।
- মে ২০২৫: ডিজিএফটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, বাংলাদেশি রেডিমেড পোশাক, ফল, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যদ্রব্য, তুলা, সুতির পোশাক, প্লাস্টিক ও পিভিসি সামগ্রী, রঞ্জকসহ একাধিক পণ্য স্থলপথে আমদানি করা যাবে না। এই নিষেধাজ্ঞা অসম, মিজোরাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা এবং পশ্চিমবঙ্গের চ্যাংড়াবান্ধা ও ফুলবাড়ি শুল্ককেন্দ্রেও কার্যকর করা হয়।
- জুন ২০২৫: বাংলাদেশি পাট ও শণজাত পণ্যের উপর স্থলপথে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা জারি হয়, যা সোমবার আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক প্রভাব (India Bangladesh Trade)
বাংলাদেশের জন্য পাট ও পাটজাত পণ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রফতানি খাত(India Bangladesh Trade)। দেশের মোট রফতানির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আসে এই শিল্প থেকে, যার বড় বাজার ভারত। স্থলপথে পণ্য পরিবহন তুলনামূলক সস্তা ও দ্রুত হওয়ায় দুই দেশের সীমান্তবর্তী ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে এই রুট ব্যবহার করে আসছেন। নতুন এই সিদ্ধান্ত পরিবহন ব্যয় বাড়াবে, সময় নষ্ট করবে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ বাড়াবে।
ভারতীয় বাজারে বাংলাদেশের পাটজাত পণ্যের প্রতিযোগিতা ক্ষমতাও কমে যেতে পারে, কারণ সমুদ্রপথে পরিবহন সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। অন্যদিকে, ভারতের নিজস্ব পাটশিল্প রক্ষার জন্য এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন : Golf Club Of Trump Familiy : ভিয়েতনামে ট্রাম্প পরিবারের গল্ফ ক্লাব প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে শুরু বিতর্ক
রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট (India Bangladesh Trade)
নিষেধাজ্ঞার এই ধারাবাহিকতা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ককে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে(India Bangladesh Trade)। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো না হলেও, বাণিজ্য মহলে আলোচনা চলছে যে বিষয়টি শিগগিরই কূটনৈতিক টেবিলে উঠতে পারে।
ভারত দীর্ঘদিন ধরে পাট উৎপাদনে স্বনির্ভর হলেও, বাংলাদেশের পণ্যের মান ও দামের কারণে দেশটির বাজারে এই পণ্য জনপ্রিয় ছিল। ফলে স্থানীয় শিল্পপতিদের চাপ এবং আমদানির ভারসাম্য রক্ষার যুক্তি দেখিয়ে নয়াদিল্লি এই ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
সীমান্তবর্তী ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ (India Bangladesh Trade)
বেনাপোল, সোনামসজিদ, ভোমরা প্রভৃতি স্থলবন্দর এলাকায় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, নতুন সিদ্ধান্ত তাদের ব্যবসা কার্যত স্থবির করে দেবে। পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে তারা ভারতীয় বাজারে আগের মতো প্রতিযোগিতা করতে পারবেন না।
একজন ব্যবসায়ী বলেন,“স্থলপথে পণ্য পাঠাতে যেখানে ২-৩ দিন লাগত, সমুদ্রপথে সেটা লাগবে ১০-১২ দিন, খরচও দ্বিগুণের বেশি হবে। এতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবো।”

আরও পড়ুন : Tibet Railway Project : লাদাখ সীমান্তে নতুন রেলপ্রকল্প চিনের! সতর্ক ভাবে নজর রাখছে নয়াদিল্লি
সামনে কী? (India Bangladesh Trade)
বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ শুধু অর্থনৈতিক প্রভাবই ফেলবে না, বরং রাজনৈতিক আলোচনার নতুন বিষয় হয়ে উঠতে পারে(India Bangladesh Trade)। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের যে ভারসাম্য রয়েছে, তা ইতিমধ্যেই ভারতের পক্ষে বেশি। নতুন নিষেধাজ্ঞা সেই ভারসাম্যকে আরও একপাক্ষিক করে তুলতে পারে।
বাংলাদেশের পাটশিল্প ঐতিহাসিকভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। তবে ভারত যদি আমদানির ক্ষেত্রে এই ধরনের সীমাবদ্ধতা অব্যাহত রাখে, তাহলে বাংলাদেশকে বিকল্প বাজারের দিকে মনোযোগ দিতে হবে—যেমন ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া।
সব মিলিয়ে, সোমবারের এই ঘোষণায় দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের উত্তাপ আরও বেড়ে গেল। এখন নজর থাকবে কূটনৈতিক স্তরে এই ইস্যুর সমাধান কত দ্রুত সম্ভব হয়।