Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পাহালগাঁও জঙ্গি হামলার পর যে সামরিক সঙ্কট তৈরি হয়েছিল, সেটি নাকি তিনিই থামিয়েছিলেন— ফের এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (India Pakistan Conflict)। তাঁর দাবি, ওই সময় দুই দেশ পরমাণু যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছিল। কিন্তু তাঁর হস্তক্ষেপেই তা এড়ানো সম্ভব হয়।
সাতটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছিল (India Pakistan Conflict)
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনে ট্রাম্প (Donald J. Trump) বলেন, ‘‘আমি দেখলাম ভারত-পাকিস্তান লড়াই করছে (India Pakistan Conflict)। সাতটি বা তারও বেশি যুদ্ধবিমান গুলি করে নামানো হয়েছিল। আমি বললাম, এটা ভাল নয়, অনেক বেশি বিমান ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।’’
তাঁর আরও দাবি, তিনি সরাসরি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ফোন করে পরিস্থিতি শান্ত করতে বলেন এবং জানিয়ে দেন, সঙ্কট আরও বাড়লে আমেরিকা ভারতের উপর কঠোর বাণিজ্যিক চাপ তৈরি করবে।
মোদির সঙ্গে কথোপকথনের দাবি (India Pakistan Conflict)
ট্রাম্প জানান, ‘‘আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (India Pakistan Conflict) বলেছিলাম— কী হচ্ছে পাকিস্তানের সঙ্গে? বিদ্বেষ ভয়ানক রূপ নিচ্ছে। আমি স্পষ্ট জানাই, তোমরা যদি যুদ্ধ চালিয়ে যাও, তাহলে আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি করবে না। উল্টে এমন শুল্ক চাপানো হবে যাতে মাথা ঘুরে যাবে।’’
তাঁর দাবি, ওই সতর্কবার্তার মাত্র পাঁচ ঘণ্টার মধ্যেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
ভারতের সরকারি অবস্থান ভিন্ন (India Pakistan Conflict)
তবে ভারতের তরফে বারবারই জানানো হয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি সরাসরি দুই দেশের সেনাপ্রধানদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমেই স্থির হয়েছিল। কোনও বিদেশি মধ্যস্থতার প্রশ্নই ওঠে না।

আরও পড়ুন : Commonwealth Games 2030 : ভারতে আয়োজিত ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমস হবে আহমেদাবাদে, জানালো কেন্দ্র
বাণিজ্যিক সম্পর্কের টানাপোড়েন (India Pakistan Conflict)
এই বক্তব্য সামনে আসতেই নতুন করে নজরে এসেছে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যিক টানাপোড়েন। ওয়াশিংটনের তরফে সম্প্রতি ঘোষণা করা হয়েছে, ভারতের উপর ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করা হবে। রুশ তেল কেনা চালিয়ে যাওয়ায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসাবেই এই সিদ্ধান্ত বলে দাবি মার্কিন প্রশাসনের।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অবশ্য প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, কোনও চাপেই ভারত নতি স্বীকার করবে না। আহমেদাবাদের এক জনসভায় তিনি বলেন, ‘‘আমাদের কৃষক, পশুপালক, ক্ষুদ্র শিল্পের স্বার্থই প্রথম। চাপ বাড়বে, কিন্তু আমরা তা সামলাব।’’

আরও পড়ুন : Vaishno Devi Landslide : জম্মু-কাশ্মীরের বৈষ্ণোদেবী যাত্রাপথে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস, মৃত্যু অন্তত ৩৪
কূটনৈতিক সংলাপ অব্যাহত (India Pakistan Conflict)
যদিও শুল্ক সঙ্কটের মধ্যেও দুই দেশ কূটনৈতিক চ্যানেল বজায় রেখেছে। সোমবার ভারত-আমেরিকা যৌথভাবে এক ভার্চুয়াল সংলাপ করেছে। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ অনুসন্ধান, প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব, বাণিজ্য, শক্তি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়।
ট্রাম্পের দাবি সত্যি হোক বা রাজনৈতিক কৌশল— স্পষ্ট যে, তিনি নিজেকে দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্কট সমাধানে প্রধান ভূমিকা পালনকারী হিসাবে তুলে ধরতে চান। অন্যদিকে ভারত দৃঢ়ভাবে জানিয়ে দিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সিদ্ধান্তে তাদের স্বাধিকার অক্ষুণ্ণ। বাণিজ্যিক চাপের মধ্যেও সেই বার্তা আরও জোরদার করছে নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্য।