Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : রাশিয়ার তেল আমদানি ইস্যুতে নয়াদিল্লির নীতি স্পষ্ট হয়েছে। মস্কোয় নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত বিনয় কুমার জানিয়েছেন যে বাণিজ্য বাণিজ্যের মতোই চলবে এবং দেশের স্বার্থে যেখানে সাশ্রয়ী তেলে যোগান মিলবে সেখান থেকেই ভারত তেল কিনবে(India Russia Oil Trade)। তাঁর মতে ভারতের জ্বালানি নীতির মূলে আছে ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। রাশিয়া সহ একাধিক দেশের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা বিশ্ব তেলবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে সাহায্য করেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। অর্থাৎ বাহ্যিক রাজনৈতিক চাপ নয় অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও জনস্বার্থই সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করবে।
আমেরিকার শুল্ক সিদ্ধান্তকে অন্যায্য বলছে নয়াদিল্লি (India Russia Oil Trade)
আমেরিকা ভারতীয় পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে(India Russia Oil Trade)। এর নেপথ্যে যুক্তি হিসেবে বলা হচ্ছে যে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের তেল বাণিজ্য ইউক্রেন যুদ্ধে পরোক্ষভাবে প্রভাব ফেলছে। নয়াদিল্লি এই অবস্থানকে অন্যায্য এবং বাণিজ্যনীতির পরিপন্থী বলে দাবি করছে। দূতাবাসের বক্তব্য শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত যুক্তিহীন এবং এটা মুক্ত বাণিজ্যের নীতি লঙ্ঘন করে। ভারতের মতে দ্বিপাক্ষিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও বাজারভিত্তিক সিদ্ধান্তে বাধা দেওয়া উচিত নয়।
ট্রাম্পের অভিযোগ এবং দিল্লির পালটা সুর (India Russia Oil Trade)
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald J. Trump) দাবি করেছেন অতিরিক্ত শুল্কের ফলে ভারত রাশিয়ার তেল কেনা কমিয়েছে। তবে নয়াদিল্লি এ ধরনের কোনও সরকারি তথ্য দেয়নি(India Russia Oil Trade)। বরং কেন্দ্রের সূত্র বলছে যে রাশিয়া থেকে তেল কেনা অব্যাহত থাকবে কারণ এতে আমদানি বিল কমে এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুবিধা হয়। এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে ভারত আপাতত নরম নয় বরং বাস্তববাদী পথেই হাঁটছে।

আরও পড়ুন : Pakistan US Relation : আমেরিকা-পাকিস্তান ঘনিষ্ঠতা নিয়ে ভারতের কটাক্ষ, অতীত স্মরণ করালেন জয়শঙ্কর
কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন পরীক্ষা (India Russia Oil Trade)
ভারত এবং আমেরিকা প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বাণিজ্য ও কৌশলগত ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ। কিন্তু তেল ইস্যুতে সম্পর্ক নতুন পরীক্ষার মুখে। শুল্ক বৃদ্ধি ভারতীয় রপ্তানিকে চাপে ফেলতে পারে আবার আমেরিকান বাজারও ভারতীয় সরবরাহ ছাড়া ঝুঁকিতে পড়তে পারে(India Russia Oil Trade)। ফলে উভয় পক্ষেরই সমঝোতার পথ খোলা রাখতে হবে। নয়াদিল্লি সামনের দিনে বিকল্প বাজার খোঁজা রপ্তানি ঝুড়ি বাড়ানো এবং তৃতীয় দেশের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর দিকে নজর দিতে পারে।
জ্বালানি নিরাপত্তাই চূড়ান্ত অগ্রাধিকার (India Russia Oil Trade)
বিশ্ববাজারে সরবরাহ শৃঙ্খল অনিশ্চিত থাকায় ভারত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি স্পট মার্কেট এবং উৎস বৈচিত্র্যকরণকে গুরুত্ব দিচ্ছে। লক্ষ্য দেশীয় ভোক্তাকে সাশ্রয়ী জ্বালানি দেওয়া এবং শিল্পক্ষেত্রে স্থিতি বজায় রাখা। তাই নীতি নির্ধারণে ভূরাজনৈতিক চাপ নয় ক্রেতার স্বার্থ ও মূল্যই বড় বিষয়। রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যও সেই বার্তা দেয় যে ভারতের জ্বালানি কৌশল দেশের মানুষের কথা ভেবেই গড়া হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে সরকার।

আরও পড়ুন : Russia Ukraine War : রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা, জেলেনস্কি-পুতিন বৈঠক হবে না ?
শুল্ক নীতিতে অনড় আমেরিকা (India Russia Oil Trade)
যদি আমেরিকা শুল্ক নীতিতে অনড় থাকে তবে আলোচনার পাশাপাশি ভারত বিশ্ব বাণিজ্য ফোরামে আপত্তি তুলতে পারে। একই সঙ্গে রিফাইনারি কেনাবেচা পেমেন্ট মেকানিজম এবং বীমা সংক্রান্ত সমাধানে নতুন পথ খুঁজবে। সব মিলিয়ে রাশিয়ার সস্তা তেল কেনার প্রশ্নে ভারত আবারও জানাল দেশের স্বার্থই সবার আগে এবং সেই নীতিতেই অটল থাকবে।