Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ওমান উপসাগর এবং ভারত মহাসাগরের উত্তরাংশে দু’দিনব্যাপী বৃহৎ নৌ-সামরিক মহড়া চালাল ইরানের নৌসেনা(Iran Israel Conflict)। ‘ইঘতেদার ১৪০৪’ নামে পরিচিত এই মহড়ায় অংশ নেয় ইরানের আধুনিক যুদ্ধজাহাজ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার অনুষ্ঠিত মহড়ায় পরীক্ষামূলক ভাবে একাধিক নৌ ক্রুজ ও জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।
তেহরানের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রগুলি ভূপৃষ্ঠ এবং সমুদ্রের লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে। মহড়ায় অংশ নেয় গাইডেড মিসাইল ক্রুজার ‘জেনেভেহ’ এবং ডেস্ট্রয়ার শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ ‘সাবালান’। সেখান থেকে পরীক্ষা করা হয় ‘নাসির’, ‘গাদির’ এবং ‘কাদের’ নামের বিভিন্ন পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র।
বিমান ও ইলেকট্রনিক ইউনিটের অংশগ্রহণ (Iran Israel Conflict)
ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নৌবাহিনীর পাশাপাশি এই মহড়ায় অংশ নেয় বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান ও ইলেকট্রনিক্স ওয়ারফেয়ার ইউনিট(Iran Israel Conflict)। শত্রুপক্ষের নজরদারি ও রাডার সিস্টেমে বিঘ্ন ঘটানো এবং সাইবার প্রতিরক্ষা দক্ষতা যাচাই করাই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য।
যুদ্ধের প্রস্তুতির ইঙ্গিত (Iran Israel Conflict)
মহড়ার ঠিক আগেই ইরানের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরিফ মন্তব্য করেন, “ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে কোনও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নেই। যা চলছে, তা কেবল সাময়িক সংঘর্ষবিরতি।(Iran Israel Conflict) আমরা আবার যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হচ্ছি।” তাঁর এই মন্তব্যের পরপরই সমুদ্র যুদ্ধ মহড়া ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বেড়েছে।

সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পটভূমি (Iran Israel Conflict)
গত ১২ জুন রাতে ইজরায়েলের ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’-এর আওতায় ইরানের একাধিক শহর ও পরমাণুকেন্দ্রে হামলা চালানো হয়। তার জবাবে ইরান ইজরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। প্রায় ১২ দিন ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে দুই পক্ষেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। অবশেষে ২৪ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald J. Trump) হস্তক্ষেপে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

তবে তার আগেই ২১ জুন গভীর রাতে মার্কিন বি-২ স্পিরিট স্টেল্থ বোমারু বিমান ইরানের তিন পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র— নাতান্জ়, ফোরডো এবং ইসফাহানে শক্তিশালী জিবিইউ-৫৭ বাঙ্কার ব্লাস্টার বোমা ফেলে(Iran Israel Conflict)। ওয়াশিংটনের অভিযোগ ছিল, ওই কেন্দ্রে গোপনে পরমাণু বোমা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছিল তেহরান।
সাম্প্রতিক নৌ-মহড়াকে কূটনৈতিক মহল ইরানের শক্তি প্রদর্শন হিসেবেই দেখছে। তেহরানের বার্তা স্পষ্ট— আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের চাপে নতিস্বীকার করবে না তারা। বরং স্থল, আকাশ ও সমুদ্র— তিন ক্ষেত্রেই পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে লড়াইয়ে নামতে প্রস্তুত ইরান।